যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি বাহিনীর বিরুদ্ধে মাঠে ও কূটনীতির ময়দানে চূড়ান্ত জয় ছিনিয়ে আনার দাবি তুলে ঐতিহাসিক ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারককে জাতীয় মর্যাদা ও সম্মানের প্রতীক হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মাদ বাঘের গালিবাফ। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, এই ঐতিহাসিক চুক্তি বিশ্বমঞ্চে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের অদম্য শক্তি ও কূটনৈতিক সাফল্যের বড় প্রমাণ।
সংসদীয় বিটের সাংবাদিকদের সাথে আয়োজিত এক সম্মাননা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেয়ার সময় মার্কিন ও ইসরাইলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইরানি জনগণের বীরত্বপূর্ণ লড়াইয়ের ভূয়সী প্রশংসা করেন গালিবাফ।

সংসদ স্পিকার গালিবাফ অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে বলেন, ইরানি জনগণ ও তাদের পরাক্রমশালী সশস্ত্র বাহিনী শুধু যুক্তরাষ্ট্র এবং ‘জায়নবাদী শাসনব্যবস্থাকে’ পরাজিতই করেনি, বরং শত্রুপক্ষের আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষিত সব সামরিক ও রাজনৈতিক চক্রান্তকে পুরোপুরি ভণ্ডুল করে দিয়েছে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই বিজয় সামরিক ও কূটনৈতিক উভয় ময়দানেই অর্জিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের শুরু করা এই কাপুরুষোচিত যুদ্ধের প্রথম দিন থেকেই ইরানের প্রতিটি শ্রেণি-পেশা, ধর্ম, সম্প্রদায় ও নৃগোষ্ঠীর মানুষ এক হয়ে মাতৃভূমি রক্ষায় বীরত্বের সাথে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল।
বিগত বছরের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের স্মৃতি স্মরণ করে স্পিকার গালিবাফ জানান, এই বীরত্বপূর্ণ অর্জনের জন্য ইরান রাষ্ট্র চিরকাল তার শহীদদের কাছে এবং সর্বোপরি ইসলামি বিপ্লবের প্রয়াত দূরদর্শী নেতৃত্বের কাছে ঋণী থাকবে।

একই সাথে ‘১২ দিনের যুদ্ধ’ এবং ‘রমজান যুদ্ধ’ কভার করা বস্তুনিষ্ঠ ও সৎ সাংবাদিকদের বিশেষ প্রশংসা করে তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় ও অফিসিয়াল গণমাধ্যমগুলোর এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হলো শত্রুদের বিরুদ্ধে অর্জিত এই গৌরবময় বিজয়ের প্রকৃত রূপ জনগণের সামনে তুলে ধরা। যাতে করে কেবল ইরানিরাই নন, বরং গোটা বিশ্বের প্রতিরোধ যোদ্ধা ও স্বাধীনতাগামী মানুষ এই জয় নিয়ে গর্ববোধ করতে পারেন।
ইতিহাস ইরানের এই ঐতিহাসিক অবস্থান ও লড়াইয়ের সঠিক বিচার করবে উল্লেখ করে তিনি কিছুটা আক্ষেপের সুরেই বলেন, শত্রুকে ধুলো চাটানোর এই অভাবনীয় রূপকথা এখনো সাধারণ মানুষের কাছে যতটা ছড়িয়ে দেওয়া দরকার ছিল, তা পুরোপুরি হয়নি। তবে সত্যের জয় যে হয়েছে, তা আজ সারা বিশ্ব স্বীকার করতে বাধ্য।
তথ্যসূত্র: ইরনা
