পাকিস্তানে থেকে যাওয়া বাঙালিরা কেমন আছে?

আপডেট : ১২ জুলাই ২০২৪, ০৭:২৩ পিএম

পাকিস্তানের করাচি! পৃথিবীতে বাঙালিদের সবচেয়ে বড় ১০টি শহরের একটি। দেশটির সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ শহর এই করাচি। বিভিন্ন গণমাধ্যম বলছে, বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানে প্রায় ৩০ লাখ বাঙালির বসবাস। এরমধ্যে শুধুমাত্র করাচিতেই ২০ লাখের মতো বাঙালির বসবাস। যাদের প্রতিনিয়তই সেখানকার অধিবাসীরা লাঞ্ছনা গঞ্জনা করে থাকে। তাদের বিশ্বাসঘাতক, জালিম বলেও শুনতে হয় অপবাদ।

পাকিস্তানের সবচেয়ে ঘনবসিতপূর্ণ শহর হিসেবেও পরিচিত করাচি। দেশের বন্দরশহর, সাবেক রাজধানী এবং বর্তমানে অলিখিত বাণিজ্যিক রাজধানী। দ্য ইকোনমিক ইন্টেলিজেন্সের এক সমীক্ষায় বলা হয়েছে, করাচি পৃথিবীর সবচেয়ে বিপদজনক শহরও। আন্ডারওয়ার্ল্ড গ্যাঙের জন্যে বিখ্যাত। প্রতিনিয়ত এখানে মারামারি হানাহানি চলতেই থাকে। আন্তর্জাতিক মাফিয়াদের মদতদাতার পাশাপাশি জঙ্গিবাদের আঁতুড়ঘর তকমাতো আছেই।

ব্রিটিশ আমলে বাঙালিরা প্রথম করাচি শহরে পা রাখে। বিংশ শতাব্দীর প্রথম ভাগে সমুদ্র উপকূলবর্তী অঞ্চল থেকে বাঙালি জেলেদের নিয়ে যান করাচি উর্দুভাষী ব্যবসায়ীরা। ওরাঙ্গি টাউন, ইব্রাহিম হায়দারি কলোনি, বিলাল কলোনি, জিয়াউল হক কলোনি, মূসা কলোনি, মাচার কলোনি, চিটাগং কলোনি এবং ল্যারির বাঙালি পাড়ায় বাঙালি বসতি সবচেয়ে বেশি। শুধু তাই নয়, করাচি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় মাস্টার্সও করা যায়।

করাচিকে ছোট্ট বাংলাদেশ বলে থাকেন স্থানীয় বহু মানুষ। ১৯৪৭ সালে ভারত বিভাগের পর পাকিস্তানে চলে যাওয়ার পর বাঙালিদের কিছুটা আপন করেছিল পশ্চিম পাকিস্তানিরা। তার পেছনে অন্যতম কারণ হলো ভারত বিদ্বেষ। কিন্তু বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর কপাল পুড়ে পাকিস্তানে বসবাসরত বাঙালিদের। সেই থেকে তারা হয়ে ওঠে পাকিস্তানি মীরজাফর। ঘৃণা, বৈষম্য-চরম নির্যাতনের স্বীকার হচ্ছে পাকিস্তানকে আপন ভেবে সেখানে পাড়ি জমানো বাঙালিরা।

বংশ পরম্পরায় পাকিস্তানে থেকেও এখনো তাদের কপালে জোটেনি জাতীয় পরিচয়পত্র। কাজ করতে হচ্ছে ওয়ার্ক পারমিট নিয়ে। সেটিও নিতে হচ্ছে ঘুষ দিয়ে। নোংরা-ঘিঞ্জি বস্তিতে থাকতে হচ্ছে বাংলা ভাষাভাষীদের। দিনের প্রায় ২০ ঘণ্টাই সেখানে থাকেনা বিদ্যুৎ। দিনে একবার খাওয়ার পানির জোগান আসে। নির্দিষ্ট এলাকার বাইরে গেলে পুলিশি ঝামেলার মধ্যে পড়তে হয়। জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকা মেলে না শিক্ষা। কেনা যায় না জমি বা বাড়ি।

দেশটির গণমাধ্যমগুলো বলছে, নাগরিকত্ব না থাকায় এবং বৈধ কোনো কাগজ পত্র না থাকায় কোন ব্যবসা বা কাজের সাথে সংশ্লিষ্ট হতে পারে না বাঙালিরা। এমনকি কেউ কেউ গোপনে কাজ করলেও পুলিশের হাতে ধরা খেলে থাকতে হয় কারাগারে। নিম্নমানের কাজ করা এসব বাঙালিকে পরবর্তীতে ছেড়ে দিলেও তাদেরকে মোটা অঙ্কের ঘুষ দিতে হয়। শিক্ষা বঞ্চিত হওয়ায় ছোটবেলা থেকে শিশুরা বিভিন্ন ধরণের ছোটখাটো কাজে নেমে পড়ে।

ফুটপাথে হকার, সবজি বিক্রি, ছোটখাটো কারখানায় নামমাত্র মজুরি নিয়ে কাজ করে। আবার অনেকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গভীর সমুদ্রে চলে যায়। করাচির মাছ ব্যবসা মূলত বাঙালিদের ওপরেই নির্ভরশীল। সে কারণে তারা চায় না বাঙালিরা পাকিস্তান ছেড়ে চলে যাক। কিন্তু বাঙালিদের নাগরিকত্ব এবং জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন নিয়ে তাদের কোন পরিকল্পনা নেই। এই নিয়ে দেশটির রাজনীতিবিদেরাও উদাসীন।

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বাংলাদেশ এবং আফগানিস্তান থেকে আসা মানুষদের নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও, তা রাখেননি। বারবার আন্দোলন করেও লাভ হয়নি। একদিকে পাকিস্তানের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি অন্যদিকে পুলিশি নির্যাতন-অবহেলার যুগের পর যুগ ধরে শোষিত-নিপীড়িত হয়ে পাকিস্তানে বসবাস করছে বাঙালি জনগোষ্ঠীরা। মানবেতর জীবন যাপন করছে। অথচ যাদের পাশে দাঁড়ানোর মতো কেউ নেই।

 

এআরএস
সম্প্রতি আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে পাকিস্তানের বিমান হামলায় ব্যাপক বেসামরিক নাগরিক নিহতের জেরে এবার পাকিস্তান সীমান্তে পাল্টা হামলা চালিয়েছে আফগান তালেবান সরকার। আফগানিস্তানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে,...
শনিবার করাচিতে আধাসামরিক বাহিনী রেঞ্জার্সের আঞ্চলিক সদর দপ্তরে হামলায় তিন সেনা নিহত হওয়ার পর রোববার আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় পাকতিয়া, কুনার ও পাকতিকা প্রদেশে একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়...
আফগানিস্তান সীমান্তে আবারও প্রাণঘাতী বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। সোমবার (২৯ জুন) পূর্ব আফগানিস্তানে চালানো এই হামলায় অন্তত ২৫ জন নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইসলামাবাদ। তবে আফগান সরকারের পক্ষ...
ভূ-রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা, লেবাননে ভঙ্গুর পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালী বন্ধের হুমকির মধ্যেই এক টেবিলে বসে ‘ইতিবাচক ও উৎসাহব্যঞ্জক’ অগ্রগতি অর্জন করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। একটি চূড়ান্ত শান্তি...
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দীর্ঘদিন ধরে রাজপথে ফ্যাসিবাদ বিরোধী যুগপৎ আন্দোলনে শরিক নেতাদের উদ্দেশ্য বলেছেন, আমরা অতীতে একসাথে ছিলাম, আছি এবং একসাথেই থাকবো।
স্বাক্ষরিত জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে পালন করবে বিএনপি সরকার। যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের এমনটিই জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে স্পেনের মহাকাব্যিক জয় শুধু একটি ঐতিহাসিক ট্রফি অর্জন আর রূপকথার গল্প নয়, এটি ছিল ফুটবলের এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজংশে ব্যাটন হস্তান্তরের স্মারক। ফুটবল...
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের রোমাঞ্চকর ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে ইনজুরি টাইমে ফেরান তোরেসের অবিশ্বাস্য গোল স্প্যানিশ ফুটবলে নতুন ইতিহাস লিখেছে। ২০১০ সালে আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার সেই ঐতিহাসিক জয়ের পর দেশকে...
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর