মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যেভাবে প্রকাশ্যে কূটনীতি চালাচ্ছেন, তা অভূতপূর্ব বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর। এমন মার্কিন প্রেসিডেন্ট আগে কখনও দেখেননি বলেও উল্লেখ করেন তিনি। শনিবার, দিল্লিতে ইকোনমিক টাইমস ওয়ার্ল্ড লিডার ফোরামে যোগ দিয়ে তিসি এসব কথা বলেন।
জয়শঙ্কর বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যেভাবে বিশ্বকে, এমনকি নিজের দেশকেও দেখছেন ও পরিচালনা করছেন, তা প্রচলিত কূটনীতির ধারা থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। এ সময় সম্প্রতি ভারত পাকিস্তানের সংঘাত বন্ধে ট্রাম্প যে মধ্যস্থতার দাবি করেছেন তা আবারও প্রত্যাখ্যান করে জয়শঙ্কর বলেন, পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কে কোনো তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতা ভারত মেনে নেবে না।
ট্রাম্পের ৫০ শতাংশ ট্যারিফ চাপানো নিয়ে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট বলে দেন, কৃষকদের স্বার্থও কৌশলগত স্বাধীনতার ক্ষেত্রে আমাদের অবস্থান বদলাবে না। যদি কেউ এর বিরোধিতা করেন, তাহলে স্পষ্ট করে বলুন, তারা কৃষকদের স্বার্থরক্ষায় রাজি নন। কিংবা কৌশলগত স্বাধীনতা রক্ষায় তারা রাজি নন।
তবে আমেরিকার কাজকর্মে তিনি ‘মজা’ পেয়েছেন বলেও মন্তব্য করেন জয়শঙ্কর। তিনি বলেন, অদ্ভুত লাগছে, তথাকথিত ব্যবসা-বান্ধব আমেরিকার প্রশাসন, নিজেদের কাজ না করে অন্যের বিষয়ে নাক গলাচ্ছে।
রাশিয়া থেকে তেল কেনার জন্যই ভারতের উপরে ট্যারিফ চাপিয়েছে আমেরিকা। নয়াদিল্লি শুধু তেলই কিনছে না, বিক্রিও করছে। তাতেও ক্ষুব্ধ ট্রাম্প। জয়শঙ্কর বলেন, ভারতের কাছ থেকে যদি তেল বা পণ্য কিনতে কারও অসুবিধা হয়, তাহলে কিনবেন না। কেউ তো জোর করছে না। ইউরোপ কিনছে, আমেরিকাও কিনছে।
দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনার জন্য অগাস্টে ভারত সফরে আসার কথা ছিলো আমেরিকার প্রতিনিধি দলের। কিন্তু সেই সফর বাতিল হয়েছে। জয়শঙ্কর জানান, দিল্লি-ওয়াশিংটন বাণিজ্য আলোচনা বন্ধ হয়নি। তবে কৃষকদের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না। তার কথায়, আলোচনা চলছে। কথাবার্তা চলছে। এখনও সব শেষ হয়ে যায়নি।
ফিলিস্তিনি শিশুদের পাশে দাঁড়াতে মেলানিয়াকে চিঠি দিলেন তুর্কি ফার্স্ট লেডি
কর্ণাটকের গণকবর কাণ্ডের মূল অভিযোকারীই গ্রেপ্তার 