কূটনৈতিক বিরোধকে কেন্দ্র করে জাপানিজ সামুদ্রিক খাবার আমদানি নিষিদ্ধ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে চীন। গত বুধবার একথা জানায় দেশটির গণমাধ্যম।
রয়টার্সের খবরে বলা হয়, এশিয়ার শীর্ষ দুই অর্থনীতির মধ্যে ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক বিরোধের মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত আসলো।
জাপানের নতুন প্রধানমন্ত্রী সানে তাকাইচি চলতি মাসেই জানিয়েছিলেন, তাইওয়ানের ওপর চীনের আক্রমণ জাপানের অস্তিত্বের জন্য হুমকিস্বরূপ। যা সামরিক প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে। এরই জেরে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরো তীব্র হয়ে উঠেছে।
এমন পরিস্থিতিতে চীন তাদের এমন দাবি প্রত্যাহারের দাবি জানায়। সেইসঙ্গে চীনা নাগরিকদের জাপান ভ্রমণ না করার আহ্বান জানায় দেশটি।
মাত্র কয়েকমাস আগেই জাপানি সামুদ্রিক খাবারের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা আংশিকভাবে শিথিল করে বেইজিং। মূলত, যা ২০২৩ সালে টোকিওর ফুকুশিমা পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে দূষিত পানি নিঃসরণের কারণে আরোপ করা হয়েছিলো।
কিয়োডো সংবাদ সংস্থা সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, পানি নিঃসরণের ওপর আরো নজরদারি প্রয়োজন, এ কারণে নিষেধাজ্ঞা পুনরায় আরোপ করা হয়েছে।
এর আগে গেলো জুনে চীন জানায়, জাপানের ৪৭টি অঞ্চলের মধ্যে ১০টি বাদে বাকি সব থেকে জাপানি সামুদ্রিক খাবার আমদানি পুনরায় শুরু করবে তারা। আগে যা জাপানের সামুদ্রিক খাবার রপ্তানির এক পঞ্চমাংশেরও বেশি ছিলো।
জাপানের কৃষিমন্ত্রী নোরিকাজু সুজুকি সাংবাদিকদের জানান, প্রায় ৭০০ জাপানি রপ্তানিকারক চীনে পণ্য পাঠানোর জন্য পুনঃনিবন্ধনের আবেদন করেছে। যেখানে অনুমোদন দেয়া হয়েছে মাত্র তিনটির।
২০২৩ সালের নিষেধাজ্ঞার আগে, চীন ছিলো জাপানের শীর্ষ স্ক্যালপ ক্রেতা ও সী কিউকাম্বারের শীর্ষ আমদানিকারক। শুধু তাই নয় তাৎক্ষণিকভাবে, চীনের ভ্রমণ বর্জন জাপানের নড়বড়ে অর্থনীতির জন্য হুমকিস্বরূপ।
ওয়ার্ল্ড ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম কাউন্সিলের মতে, জাপানের সামগ্রিক মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় ৭ শতাংশ নির্ভর পর্যটনের ওপর।
৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত জাপানগামী রুটে ১০টিরও বেশি চীনা বিমান সংস্থা টিকিট ফেরত দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। যার ফলে প্রায় পাঁচ লাখ টিকিট এরই মধ্যেই বাতিল করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ভ্রমণ বয়কটের কারণে টোকিওর বার্ষিক ক্ষতি হতে পারে ১৪ বিলিয়ন ডলার।
অভিযোগ প্রমাণ হওয়ায় উপ–কর কমিশনার সাজিদের বেতন কমালো এনবিআর