নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদো বুধবার অসলোতে পুরস্কার গ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারছেন না। নরওয়েজিয়ান নোবেল ইনস্টিটিউটের প্রধান এই খবর নিশ্চিত করেছেন। মার্কিন সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) এ খবর নিশ্চিত করেছে।
গত ১১ মাস ধরে প্রকাশ্যে আসেননি মারিয়া কোরিনা মাচাদো। তাই ধারাবাহিকতায় নোবেল পুরস্কার বিতরণীর দিন নরওয়ের রাজধানী অসলোতেও উপস্থিত ছিলেন না তিনি। নোবেল ইনস্টিটিউটের পরিচালক ক্রিস্টিয়ান বার্গ হার্পভিকেন গণমাধ্যম এনআরকে-কে এই তথ্য দেন।
তবে মাচাদোর মেয়ে তার পক্ষে পুরস্কার গ্রহণ করবেন। মাচাদোর মুখপাত্র ক্লাউদিয়া মাসেতো এপি’কে বলেছেন, আমরা নিশ্চিত করছি যে তিনি নোবেল অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন না, তবে দিনের বাকি কর্মসূচিতে তাঁর উপস্থিতি নিয়ে আমরা আশাবাদী।
কেন পুরস্কার নিতে এলেন না মাচাদো?
২০২৪ সালের আগস্ট মাসে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর সঙ্গে উত্তেজনাপূর্ণ সংঘাতের মধ্যে আত্মগোপনে যাওয়ার পর মাচাদোকে মাত্র একবারই প্রকাশ্যে দেখা গিয়েছিল। 'দ্য গার্ডিয়ান' জানিয়েছে, ভেনেজুয়েলার অ্যাটর্নি জেনারেল বলেছেন, ৫৮ বছর বয়সী মাচাদো যদি পুরস্কার গ্রহণের জন্য দেশ ছেড়ে যান, তবে তাকে ‘পলাতক’ হিসেবে গণ্য করা হবে।
মাচাদো আত্মগোপনে আছেন এবং গত ৯ জানুয়ারির পর থেকে তাকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি। ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে সমর্থকদের সঙ্গে একটি বিক্ষোভে যোগ দেয়ার পর সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য আটক করা হয়েছিলো মাচাদোকে। সেটিই ছিলো জনসমক্ষে তার সবশেষ উপস্থিতি।
লাতিন আমেরিকার প্রভাবশালী নেতাদের সমর্থন
মাচাদোর প্রতি সংহতি জানাতে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই, ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল নোবোয়া, পানামার প্রেসিডেন্ট হোসে রাউল মুলিনো এবং প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনার মতো লাতিন আমেরিকার বিশিষ্ট নেতারা বুধবারের অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন বলে জানিয়েছে।
গণতন্ত্রের 'শিখা' জ্বালিয়ে রাখার স্বীকৃতি
মাচাদোকে তাঁর দক্ষিণ আমেরিকার একটি দেশে গণতান্ত্রিক রূপান্তরের জন্য সংগ্রামের স্বীকৃতি হিসেবে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়েছিল। পুরস্কার ঘোষণার সময় (১০ অক্টোবর) তাকে ক্রমবর্ধমান অন্ধকারের মধ্যে গণতন্ত্রের শিখা জ্বালিয়ে রাখা নারী হিসেবে বর্ণনা করা হয়।
মাচাদো একটি বিরোধী দলের প্রাথমিক নির্বাচনে জয়ী হন এবং গত বছরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে নিকোলাস মাদুরোকে চ্যালেঞ্জ জানাতে চেয়েছিলেন, কিন্তু সরকার তাকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা থেকে বিরত রাখে। তার পরিবর্তে অবসরপ্রাপ্ত কূটনীতিক এডমুন্ডো গঞ্জালেজ প্রার্থী হন।
২০২৪ সালের ২৮ জুলাই নির্বাচনের আগে দেশজুড়ে ব্যাপক দমন-পীড়ন, অযোগ্য ঘোষণা, গ্রেপ্তার এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটে। মাদুরো-অনুগতদের নিয়ে গঠিত দেশটির জাতীয় নির্বাচন পরিষদ ক্ষমতাসীনকে বিজয়ী ঘোষণা করার পর এই দমন-পীড়ন আরও বেড়ে যায়। গঞ্জালেজের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলে গত বছর তিনি স্পেনে রাজনৈতিক আশ্রয় চান।
নোবেল পুরস্কারের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট অনুসারে, অতীতেও পাঁচজন নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী পুরস্কারের সময় আটক বা কারারুদ্ধ ছিলেন। তাদের মধ্যে সম্প্রতি ২০২৩ সালে ইরানের কর্মী নার্গিস মোহাম্মদী এবং ২০২২ সালে বেলারুশের মানবাধিকার কর্মী আলেস বিয়ালিয়াতস্কি রয়েছেন।
