মার্কিন প্রতিনিধি সভার প্রভাবশালী রিপাবলিকান নেতা এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ এলিস স্টেফানিক আচমকা রাজনীতি থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন। শুক্রবার এক বিবৃতিতে ৪১ বছর বয়সী এই নেতা জানান, পরিবারের সঙ্গে আরও সময় কাটাতে তিনি শুধুমাত্র নিউ ইয়র্কের গভর্নর পদের দৌড় থেকেই নয়, বরং সক্রিয় রাজনীতি থেকেই বিদায় নিচ্ছেন।
গত নভেম্বরেই নিউইয়র্কের বর্তমান ডেমোক্র্যাট গভর্নর ক্যাথি হচুলের বিরুদ্ধে লড়াই করার ঘোষণা দিয়েছিলেন স্টেফানিক। তবে, রিপাবলিকান দলের ভেতরেই তার প্রতিপক্ষ হিসেবে আবির্ভূত হন নাসাউ কাউন্টির নির্বাহী ব্রুস ব্লেকম্যান, যিনি নিজেও ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত।

বিশ্লেষকদের মতে, ব্লেকম্যান সম্প্রতি ট্রাম্পের মার-এ-লাগো বাসভবনের এলাকা ফ্লোরিডায় ফক্স নিউজে প্রচারণামূলক বিজ্ঞাপন চালাতে শুরু করেন, যা স্টেফানিকের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। দুই ঘনিষ্ঠ মিত্রের মধ্যে লড়াই নিয়ে স্বয়ং ট্রাম্পও কিছুটা অস্বস্তিতে ছিলেন। স্টেফানিক তার বিবৃতিতে জানান, একটি দীর্ঘস্থায়ী ও অপ্রয়োজনীয় প্রাইমারি নির্বাচনের সময় এবং সম্পদ নষ্ট করা যুক্তিসঙ্গত হবে না।
রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর কারণ হিসেবে স্টেফানিক তার ব্যক্তিগত জীবন ও মাতৃত্বকে প্রাধান্য দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে তিনি লেখেন, কংগ্রেসে আমার দীর্ঘ সময়ে আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাধি হলো 'মা'। আমি গভীরভাবে চিন্তা করেছি এবং বুঝেছি, আমার ছোট ছেলের নিরাপত্তা, বেড়ে ওঠা এবং সুখের দিকে এই মুহূর্তে নজর না দিলে আমি ভবিষ্যতে অনুশোচনা করব।

স্টেফানিকেরঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন ট্রাম্প। নিজের ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে তিনি লিখেন, এলিস এক অসাধারণ প্রতিভা। সে যাই করুক না কেন, সে সফল হবে এবং আমি সব সময় তার সাথে আছি।
২০১৪ সালে মাত্র ৩০ বছর বয়সে সর্বকনিষ্ঠ নারী হিসেবে মার্কিন প্রতিনিধি সভায় নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস গড়েন। প্রতিনিধি সভায় রিপাবলিকান কনফারেন্সের চেয়ার হিসেবে তিনি দলের চতুর্থ সর্বোচ্চ র্যাঙ্কিং সদস্য ছিলেন। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্প তাকে জাতিসংঘে মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে মনোনীত করে, কিন্তু প্রতিনিধি সভায় রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা কমে যাবার আশঙ্কায় পরে তার নাম প্রত্যাহার করা হয়।
২০১৬ সালের পর তিনি ট্রাম্পের কট্টর সমর্থক হয়ে ওঠেন। কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটিসহ বিভিন্ন নামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে তিনি জাতীয় রাজনীতিতে ব্যাপক আলোচনায় আসেন।
২০২৭ সালের জানুয়ারিতে তার বর্তমান মেয়াদ শেষ হলে দীর্ঘ ১২ বছরের ক্যাপিটল হিল জীবনের সমাপ্তি ঘটবে। নিউ ইয়র্কের রাজনৈতিক সমীকরণে স্টেফানিকের এই প্রস্থান রিপাবলিকান শিবিরের জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে, বিশেষ করে যখন রাজ্যটি ধীরে ধীরে ট্রাম্পের দিকে ঝুঁকছিল।
আসামে ট্রেনের ধাক্কায় সাত হাতির মৃত্যু, লাইনচ্যুত ইঞ্জিনসহ পাঁচ বগি
ফেসবুকে লিঙ্ক শেয়ারে আসছে কড়াকড়ি, মাসে দুটি সুযোগ, গুণতে হবে টাকা