ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধাবস্থা নিরসনে তেহরানের পক্ষ থেকে দেয়া ১৪ দফার একটি নতুন শান্তি প্রস্তাব পর্যালোচনার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফ্লোরিডায় এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠার সময় সাংবাদিকদের তিনি জানান, চুক্তির মূল ধারণা সম্পর্কে তাকে অবহিত করা হয়েছে এবং তিনি এখন এর লিখিত বিস্তারিত রূপের অপেক্ষায় আছেন। তবে, কূটনৈতিক এই তৎপরতার মাঝেও তেহরানকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেছেন, ইরান ‘ভুল আচরণ’ করলে পুনরায় বিমান হামলা শুরু হতে পারে।

ইরানের বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সির তথ্যমতে, তেহরানের ১৪ দফা প্রস্তাবে যুদ্ধের স্থায়ী অবসানের ওপর জোর দেয়া হয়েছে। প্রস্তাবের উল্লেখযোগ্য শর্তগুলো হলো:
যুদ্ধবিরতির সময়সীমা: যুক্তরাষ্ট্র দুই মাসের সাময়িক যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিলেও ইরান চায় ৩০ দিনের মধ্যে সব সমস্যার সমাধান করতে।
অবরোধ প্রত্যাহার ও সম্পদ অবমুক্ত: ইরান অবিলম্বে মার্কিন নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়া, বিদেশের ব্যাংকে আটকে থাকা তাদের অর্থ অবমুক্ত করা এবং যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি বাবদ ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে।
আঞ্চলিক ও সামরিক শর্ত: লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধের অবসান এবং ইরানকে ঘিরে থাকা এলাকাগুলো থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে।
পারমাণবিক ইস্যু: ইরান প্রস্তাব দিয়েছে, হরমুজ প্রণালী খুলে দেয়া এবং অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয়টি আগে কার্যকর হবে এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা পরবর্তী ধাপের জন্য তুলে রাখা হবে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই প্রস্তাব পর্যালোচনার কথা বললেও নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে সন্দেহ প্রকাশ করে লিখেছেন, এই প্রস্তাব গ্রহণ করা হবে বলে তিনি মনে করেন না। তার মতে, গত ৪৭ বছরে ইরান বিশ্বের যে ক্ষতি করেছে, তার তুলনায় তারা এখনো যথেষ্ট চড়া মূল্য দেয়নি।
যুদ্ধ পুনরায় শুরু হওয়া প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, আমি এখন নির্দিষ্ট করে কিছু বলছি না। তবে, তারা যদি খারাপ কিছু করে, তবে হামলার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তিনি আরও দাবি করেন, মাসের পর মাস চলা সংঘাত এবং অবরোধে ইরান ‘বিধ্বস্ত’ হয়ে পড়েছে, তাই তারা এখন একটি সমঝোতার জন্য মরিয়া।
৭ এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়া একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মধ্যে এই কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে। তবে ট্রাম্পের ওপর অভ্যন্তরীণ চাপ বাড়ছে, কারণ হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে। এর ফলে আমেরিকায় জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে, যা আসন্ন নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।

অন্যদিকে, ইরান সতর্ক করেছে তারা যেকোনো সময় যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। হরমুজ প্রণালীতে ইরানের পেতে রাখা মাইন এবং ন্যাটোর মিত্রদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক টানাপোড়েন এই সংকটকে আরও জটিল করে তুলেছে। ওয়াশিংটন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ইরান যেন পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে, এমন কোনো সুনির্দিষ্ট চুক্তি ছাড়া তারা এই যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি টানবে না।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স-আল জাজিরা-সিএনএন
