এক দশকের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে উন্মুক্ত হওয়া নতুন সড়ক সেতু পার হয়ে চীন সফরে গেছেন উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন। শনিবার সকালে তিনি উত্তর কোরিয়া ও চীনকে সংযুক্তকারী তিন কিলোমিটার দীর্ঘ ‘নিউ ইয়ালু রিভার ব্রিজ’ ব্যবহার করে সীমান্ত শহর দানডংয়ে পৌঁছান।
দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে, দানডং শহরে পৌঁছানোর পরই কিম জং উনকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান চীনের প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াং। ১৯৫০-৫৩ সালের ঐতিহাসিক কোরিয় যুদ্ধে চীনের অংশ নেওয়ার বার্ষিকী উদযাপনের ঠিক একদিন আগে এই সফরটি অনুষ্ঠিত হলো।

ধারণা করা হচ্ছে, সফর শেষে শনিবারই উত্তর কোরিয়ায় ফিরে যাবেন কিম জং উন। কারণ আগামী সোমবার থেকে বেইজিংয়ে ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির উচ্চপর্যায়ের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শুরু হতে যাচ্ছে, ফলে এই মুহূর্তে তাঁর বেইজিং যাওয়ার সম্ভাবনা কম বলেই মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।
বহু বছরের টানাটান সম্পর্ক এবং মহামারীজনিত স্থবিরতার পর চলতি মাসেই চীন ও উত্তর কোরিয়ার প্রধান স্থল সীমান্ত পথ ‘নিউ ইয়ালু রিভার ব্রিজ’ চলাচলের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে খুলে দেওয়া হয়। ডাচ সংস্থা লিডেন ইউনিভার্সিটির কোরিয়া বিষয়ক বিশেষজ্ঞ ক্রিস্টোফার গ্রিন মন্তব্য করেন, এই সেতুটি এক দশকেরও বেশি সময় ধরে দুই দেশের মধ্যকার শীতল সম্পর্কের প্রতীক ছিল। আজ সেই সেতু পার হয়ে কিম জং উনের চীনে প্রবেশ দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে তাঁর পূর্ণ সমর্থনেরই স্পষ্ট বার্তা দেয়।

চীনের লিয়াওনিং একাডেমি অফ সোশ্যাল সায়েন্সেসের উত্তর কোরিয়া বিষয়ক বিশেষজ্ঞ লু চাও জানান, নতুন এই সেতুটি চালু হওয়ায় চীন-উত্তর কোরিয়া বাণিজ্যের প্রধান লজিস্টিক বাধা দূর হলো। এর ফলে উত্তর কোরিয়ার অর্থনৈতিক অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় ভারী যন্ত্রপাতি, কাঁচামাল এবং জ্বালানি সরবরাহ অনেক সহজ হবে, যা দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে।
উল্লেখ্য, ইউক্রেন যুদ্ধের পর সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়ার সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার কূটনৈতিক ঘনিষ্ঠতা কিছুটা বাড়লেও, অর্থনৈতিক দিক থেকে চীন এখনো পিয়ংইয়ংয়ের প্রধান ভরসাস্থল। গত ১৩ মাসে বেইজিং ও পিয়ংইয়ংয়ের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে দুটি সফল সম্মেলনের পর কিমের এই ঝটিকা সফর দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স
