হঠাৎ করে মেঝেতে লুটিয়ে পড়লেন রুশ নেতা ভ্লাদিমির পুতিন, চোখ ওল্টানো! তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত। এ ধরনের খবরে সামাজিক মাধ্যমে যখন তোলপাড়, তখন জানা গেলো এটি এখন পর্যন্ত একটি পরিকল্পিত গুজব। একটি টেলিগ্রাম চ্যানেল থেকে পুতিনের হৃদরোগে আক্রান্তের খবর প্রথমে বের হয়। সেখান থেকে খবর করে ইংলিম ট্যাবলয়েড মিরর। পরে তা সারা দুনিয়াতে ভাইরাল হতে বেশি সময় লাগেনি।
পরে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের হৃদরোগে আক্রান্ত হবার খবর পুরোটাই গুজব। ক্রেমলিনের বরাতে বার্তা সংস্থাটি জানিয়েছে, সম্পূর্ণ সুস্থ রয়েছেন পুতিন। দৈনন্দিন কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এ ধরনের গুজবে কান না দিতেও অনুরোধ করেছে ক্রেমলিন। নকল পুতিকে নাকি সব খানে হাজির করা হচ্ছে, এমন খবরকে হাস্যকর বলেও উড়িয়ে দিয়েছে ক্রেমলিন।
মঙ্গলবার ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। রুশ টেলিগ্রাম চ্যানেল ও কয়েকটি পশ্চিমি সংবাদমাধ্যম পুতিনের অসুস্থতা নিয়ে যে খবর প্রকাশ করেছিল তা বিষয়ে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়। তখন সব খবরের তথ্য উড়িয়ে দিয়ে পেসকভ জানান, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট সম্পূর্ণ সুস্থ রয়েছেন। ভালো আছেন। সাত অক্টোবরে ৭১ বছরে পা দেয়া পুতিন সব সময়ই বিভিন্ন বৈঠকে ব্যস্ত থাকেন।
এসভিআর নামে একটি টেলিগ্রাম চ্যানেল ক্রেমলিনের গোপন সূত্রকে উদ্বৃত খবর দেয়, ৭১ বছর বয়সী রুশ প্রেসিডেন্টের হৃৎযন্ত্র কয়েক মুহূর্তের জন্য কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছিলো। সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকদের খবর দেয়া হয়। পরে চিকিৎসকদের তৎপরতায় আবার হৃৎযন্ত্র সচল করা হয়। বর্তমানে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। যদিও মস্কোর তরফে এখনও এই খবর নিশ্চিত করা হয়নি।
চ্যানেলটি আরও খবর দেয়, রোববার হৃৎরোগে আক্রান্ত হন পুতিন। মস্কোর স্থানীয় সময় অনুযায়ী, রাত ৯টা ৫ মিনিট নাগাদ অসুস্থ হয়ে পড়েন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট। মাটিতে পড়েছিলেন তিনি। নিরাপত্তারক্ষীরা হঠাৎ জোরে কিছু একটা পড়ে যাওয়ার শব্দ শুনতে পান। এরপরই ছুটে গিয়ে দেখেন, মাটিতে পড়ে রয়েছেন পুতিন। তাঁর চোখ উল্টে গিয়েছিল। এমন ধরনের নাটকীয় বর্ণনা দেয় চ্যালেনটি।
চ্যানেলে আরও দাবি করা হয়েছে, দীর্ঘ দিন ধরেই অসুস্থ পুতিন। তা যাতে আন্তর্জাতিক মহলের নজরে না আসে, তাই রাশিয়ার যাবতীয় সরকারি কাজে পুতিনের পরিবর্তে তাঁর ‘বডি ডাবল’ (পুতিনের মতো সাজানো অন্য কেউ) ব্যবহার করা হয়। এই তথ্যেরও সত্যতা সম্পর্কে প্রশ্ন রয়েছে। কারণ আনুষ্ঠানিক ভাবে রাশিয়ার তরফে কিছু জানানো হয়নি। উল্লেখ্য, পুতিন নিজেই এক সাক্ষাৎকারে; বডি ডাবল’ হেসে উড়িয়ে দেন।
যে টেলিগ্রাম চ্যানেলে পুতিনের হৃদরোগের খবর প্রকাশ করা হয়েছে, সেখানে প্রায়ই রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের স্বাস্থ্য সম্পর্কে নানা তথ্য দেওয়া হয়। সে সবের কোনও প্রামাণ্য নথি মেলে না। চ্যানেল দাবি করে, পুতিনের ঘনিষ্ঠমহলে তাঁদের লোক আছে। সেখান থেকেই তথ্য পাওয়া যায়। অন্যদিকে ক্রেমলিন সূত্রে দাবি করা হয়, চ্যানেলটি সম্ভবত ইউক্রেন থেকে পরিচালিত হয়। যাদের কাহ করে গুজব যুদ্ধে নেতৃত্ব দেয়া।
