ইউক্রেনে মস্কোর যুদ্ধের চতুর্থ বার্ষিকী ঘনিয়ে আসার প্রাক্কালে বুধবার এক ভিডিও কলে চীন ও রাশিয়ার পারস্পরিক সুসম্পর্কের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং ভ্লাদিমির পুতিন। রুশ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ওই আলোচনায় পুতিন বলেন, ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক অস্থিরতার এই সময়ে মস্কো-বেইজিং সম্পর্ক একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থিতিশীলকারী ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করছে।
অন্যদিকে একজন দোভাষীর মাধ্যমে কথা বলার সময় শি জিনপিং দেশ দুটির দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে একটি ‘মহাপরিকল্পনা’ তৈরির আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন, দুই দেশের সম্পর্ক সঠিক পথেই অগ্রসর হচ্ছে।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে কয়েক হাজার সেনা পাঠিয়ে সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু করার মাত্র কয়েক দিন আগে চীন ও রাশিয়া তাদের মধ্যকার কৌশলগত অংশীদারিত্বকে সীমাহীন বলে ঘোষণা করেছিল। এরপর থেকে যখনই পশ্চিমা শক্তিগুলো মস্কোর ওপর একের পর এক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, তখনই চীনের সাথে বাণিজ্য বৃদ্ধির মাধ্যমে রাশিয়া তার অর্থনীতির এক নতুন প্রাণশক্তি খুঁজে পেয়েছে।
শি এবং পুতিনের সর্বশেষ দেখা হয়েছিল গত সেপ্টেম্বরে বেইজিংয়ে একটি বিশাল সামরিক কুচকাওয়াজ চলার সময়, যেখানে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনও উপস্থিত ছিলেন। সেই বৈঠকে শি বলেছিলেন, চীন-রাশিয়া সম্পর্ক আন্তর্জাতিক অস্থিরতা সত্ত্বেও টিকে আছে এবং তিনি নিজ নিজ দেশের মূল স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে মস্কোর সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
ইউক্রেন ও ইউরোপ বারবার বেইজিংয়ের বিরুদ্ধে রাশিয়ার যুদ্ধ প্রচেষ্টায় সরাসরি সহায়তা দেয়ার অভিযোগ তুলে আসছে। তবে বেইজিং এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, তারা এই সংঘাতের কোনো পক্ষ নয়।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত মঙ্গলবার বেইজিংয়ে দুই দেশের শীর্ষ কূটনীতিকরা বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং একটি বিস্তৃত ঐকমত্যে পৌঁছেছেন।
