ইরানি স্থলবাহিনীর নতুন হুঙ্কার ‘বুনিয়ানুন মারসুস’

আপডেট : ২৯ মার্চ ২০২৬, ০৬:৫৬ পিএম

ইরানের সামরিক কৌশল এখন আর শুধু রক্ষণাত্মক অবস্থানে সীমাবদ্ধ নেই; বরং তেহরান এখন ‘আঘাতের বদলে আঘাত’ এবং ‘ক্ষতের বদলে ক্ষত’ দেওয়ার এক বিধ্বংসী রণকৌশল নিয়ে এগোচ্ছে। ইরানের সাম্প্রতিক সামরিক গতিবিধি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, আসন্ন আঞ্চলিক সংঘাতের জন্য তারা এক বহুমুখী ও আক্রমণাত্মক পরিকল্পনা সাজিয়েছে, যা আগের ১২ দিনের যুদ্ধের চেয়েও অনেক বেশি ভয়াবহ।

ইরানের সামরিক পরিকল্পনার মূল ভিত্তি হলো ‘অফেন্সিভ ডিফেন্স’ বা আক্রমণাত্মক প্রতিরক্ষা। এর অর্থ হলো, শত্রু যদি ইরানের সার্বভৌমত্বের দিকে হাত বাড়ায়, তবে ইরান শুধু নিজের সীমানায় বসে ডিফেন্স করবে না, বরং শত্রুর ডেরায় ঢুকে আঘাত হানবে। এবারের লক্ষ্যবস্তু শুধু ১২০০ থেকে ১৬০০ কিলোমিটার দূরের ইসরাইলি ভূখণ্ড নয়, বরং সীমান্তের কাছে থাকা শত্রু ঘাঁটিগুলোকেও গুঁড়িয়ে দেয়ার ছক কষা হয়েছে।


আগের যুদ্ধে আকাশপথ ও মিসাইল শক্তির ওপর জোর দেওয়া হলেও, এবারের লড়াইয়ে মূল স্তম্ভ হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে ইরান সেনাবাহিনী এবং আইআরজিসি-র গ্রাউন্ড ফোর্স বা স্থলবাহিনী। কোরআনের ভাষায় ‘বুনিয়ানুন মারসুস’ বা সিসাঢালা প্রাচীরের মতো তারা সীমান্তে অবস্থান নিয়েছে। এই বাহিনীর বিশেষত্ব হলো, উচ্চপর্যায়ের কমান্ড ছাড়াই প্রতিটি ইউনিট স্বাধীনভাবে অপারেশন চালাতে সক্ষম। বিশেষ করে দক্ষিণ, দক্ষিণ-পূর্ব এবং পশ্চিম সীমান্তে যে কোনো ধরনের অনুপ্রবেশ বা বিদেশি প্রক্সি গোষ্ঠীর নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড রুখতে তারা এখন ‘ফিঙ্গার অন দ্য ট্রিগার’ বা ট্রিগারে আঙুল রেখে প্রস্তুত।

সম্প্রতি পারস্য উপসাগরের দ্বীপগুলোতে আইআরজিসি যে বিশাল সামরিক মহড়া চালিয়েছে, তা যে শুধুই কোনো সাধারণ ড্রিল নয়। এটি ছিল মূলত আগ্রাসনকারীদের ‘পা ভেঙে দেওয়ার’ একটি মহড়া। এই মহড়ার মাধ্যমে ইরান বিশ্বকে বার্তা দিয়েছে, তারা শুধু কাগজ-কলমে পরিকল্পনা করেনি, বরং বাস্তব ভূমিতে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চূড়ান্ত রিহার্সালও সেরে ফেলেছে।


ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, শত্রু যদি সরাসরি সীমান্ত লঙ্ঘন নাও করে, তবুও যদি তারা ইরানের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়, তবে ইরান সেই নিরাপত্তা বলয় রক্ষায় সীমান্তের ওপারে গিয়েও আঘাত হানতে দ্বিধা করবে না। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এবং জাতীয় অখণ্ডতা বজায় রাখতে ইরানের প্রতিটি সেনা এখন পূর্ণ সমর প্রস্তুতিতে রয়েছে।

সহজ কথায়, ইরানের মাটি থেকে যারা আঞ্চলিক লক্ষ্যবস্তুগুলোতে হামলা চালানোর দুঃস্বপ্ন দেখছে, তাদের জন্য তেহরান এক দুর্ভেদ্য দুর্গ এবং বিধ্বংসী আগুনের কুণ্ডলী তৈরি করে রেখেছে। আক্রমণ হলে তার পাল্টা জবাব হবে এতটাই তীব্র যে, শত্রুর পালানোর পথটুকুও হয়তো অবশিষ্ট থাকবে না।

তথ্যসূত্র: খামেনি.আইআর নিউজ

এআরএস
কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করার সময় সৌদি আরবের জাতীয় নৌপরিবহন সংস্থা 'বাহরি'র মালিকানাধীন একটি তেলবাহী সুপারট্যাঙ্কারে ইরানি সামরিক বাহিনী হামলা চালিয়েছে। সোমবার রাতের...
দক্ষিণ ইরানের সিরিক এলাকায় একটি বিয়ে বাড়িতে মার্কিন বিমান হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটিতে ব্যাপক বিধ্বংসী ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণ চালিয়েছে ইরান।...
দক্ষিণ ইরানের সিরিক কাউন্টির কুহেস্তাক শহরে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে মার্কিন সামরিক বাহিনী বিমান হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তেহরান। বুধবার ভোরের দিকে চালানো এই বর্বর হামলায় এক শিশুসহ অন্তত...
কয়েক সপ্তাহের আপেক্ষিক বিরতির পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাত আবার ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। মঙ্গল ও বুধবার মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে দুই দেশের ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় পরিস্থিতি চরম...
কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করার সময় সৌদি আরবের জাতীয় নৌপরিবহন সংস্থা 'বাহরি'র মালিকানাধীন একটি তেলবাহী সুপারট্যাঙ্কারে ইরানি সামরিক বাহিনী হামলা চালিয়েছে। সোমবার রাতের...
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার তীব্র সামরিক সংঘাতের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝেই চার বছরের মধ্যে প্রথমবার মধ্যপ্রাচ্য সফরে মিশর পৌঁছেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। বুধবার মিশরের রাজধানী কায়রোতে...
নিচ্ছক কোনো আনুষ্ঠিকতার নির্বাচন নয়, বরং তৃণমূল পর্যায়ে জনগণের অংশগ্রহণ ও জবাবদিহি নিশ্চিতে স্থানীয় সরকারব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী...
মাত্র এক দশক আগে ২০১৫ সালের ৭.৮ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর আন্তর্জাতিক বিভিন্ন উদ্ধারকারী সংস্থা ত্রাণ সহায়তায় ও ক্ষতি মূল্যায়নে যে ড্রোন প্রথম নেপালে নিয়ে এসেছিল, বুধবার স্থানীয় নেপালি...
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর