আমেরিকান চ্যালাচামুন্ডা আর সামরিক রক্তচক্ষুকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সরাসরি তুচ্ছতাচ্ছিল্য করলেন ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান মেজর জেনারেল আমির হাতামি! পরিষ্কার ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামনে একটা পথ- পাটগোটানো আর মধ্যপ্রাচ্য ছেড়ে চম্পট দেয়া। ইরানের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার জন্য হুমকি হতে পারে, এমন কোনো মার্কিন সামরিক ঘাঁটি মধ্যপ্রাচ্য বা ইরানের প্রতিবেশী কোনো দেশে আর কখনোই পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে দেয়া হবে না।
রোববার সাংবাদিকদের সম্মান জানাতে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেয়ার সময় মার্কিন সামরিক হুমকি ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক উসকানিমূলক বক্তব্যের কঠোর জবাব দেন সেনাপ্রধান আমির হাতামি।

বক্তব্যের শুরুতেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মানসিক ভারসাম্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে আমির হাতামি বলেন, ট্রাম্প এখনো অলীক কল্পনার জগতে বাস করছেন এবং নিজেকে জোর করে ‘বিজয়ী’ প্রমাণ করার ব্যর্থ চেষ্টা চালাচ্ছেন। তিনি রসিকতার ছলে মার্কিন সংবাদমাধ্যমের তথ্য টেনে বলেন, বর্তমানে বিশ্বে খুব কম মানুষই ট্রাম্পকে গুরুত্ব দেয়। পশ্চিমের মিডিয়াতেও তাঁর যে ছবি ফুটে উঠেছে তা এক পরাজিত ব্যক্তির। যিনি কিনা ভয়ে ফুড ট্রাকে লুকিয়ে থাকেন আর সিক্রেট সার্ভিস হুমকির কথা বলতেই বিমানে নিজের সহকর্মীদের ফেলে পালিয়ে যান!
পারস্য উপসাগর, ওমান সাগর কিংবা হরমুজ প্রণালীকে মার্কিন ভূখণ্ড দাবি করে ট্রাম্পের আবার পিছু হঠাকে চরম হাস্যকর বলে মন্তব্য করেন এই ইরানি জেনারেল। তিনি জানান, ইরানি বাহিনীর ধাওয়া খেয়ে আমেরিকানরা মূলত এই অঞ্চল থেকে বিতাড়িত হয়েছে এবং তাদের আর পারস্য উপসাগর বা কৌশলগত জলসীমায় প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর চরম বিশৃঙ্খলা ও অভ্যন্তরীণ ক্ষয়ের কথা তুলে ধরে জেনারেল হাতামি এক বিস্ফোরক দাবি করেন। তিনি জানান, আমেরিকার অন্যতম প্রধান পরাক্রমশালী যুদ্ধজাহাজ 'ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন' অন্তত একবার ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের নিখুঁত আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে!
তিনি বলেন, ইরানি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর ওই রণতরী থেকে কোনো যুদ্ধবিমান আর উড্ডয়ন করতে পারছিল না। আমেরিকা অবশ্য লজ্জায় তা প্রকাশ্যে স্বীকার করবে না, তবে সেই ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজটি এখন নিঃশব্দে লেজ গুটিয়ে ফিরে যাচ্ছে।

ইতিহাসের স্মৃতিচারণ করে জেনারেল হাতামি বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে চাঁদাবাজি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে আমেরিকা নিজেদের যে সামরিক প্রতিপত্তি তৈরি করেছিল, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে সেই তথাকথিত পরাশক্তির বেলুন ফুটো হয়ে গেছে। আমেরিকা এখন আর আগের মতো ক্ষমতার দাপট দেখাতে পারে না, যার কারণে এতদিন যেসব দেশ আমেরিকার ওপর ভরসা করত, তারা এখন নিজেদের নিরাপত্তার কথা ভাবা শুরু করেছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সৈয়দ মুজতবা হোসেইনি খামেনির সাম্প্রতিক নির্দেশের কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, যে কোনো সামরিক উসকানি বা উত্তেজনা বৃদ্ধি ইরানকে নিজের প্রতিরক্ষায় আরও বেশি কঠোর ও সুদৃঢ় করবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের কোনো ষড়যন্ত্রই ইরানের স্থিতিশীলতা ও একতাকে বিনষ্ট করতে পারবে না।
তথ্যসূত্র: ইরনা
