জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম বার্ষিক অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক রওয়ানা হওয়ার পূর্বে ইরানের শক্তি, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের ন্যায্য অধিকার বিশ্বমঞ্চে দৃঢ়ভাবে তুলে ধরার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।
মঙ্গলবার যাত্রার প্রাক্কালে দেওয়া বক্তব্যে তিনি জোর দিয়ে বলেন, বাহ্যিক আগ্রাসন ও চরম বৈরী পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েও ইরানের সাধারণ জনগণ এবং সশস্ত্র বাহিনী জাতীয় ঐক্য রক্ষা করে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে। এই আত্মত্যাগ ও সহনশীলতাই আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তেহরানের শক্ত অবস্থান নেওয়ার মূল প্রেরণা। সাধারণ পরিষদকে বিশ্ববাসীর কাছে নিজেদের অবস্থান, ক্ষোভ ও সামর্থ্য জানানোর অন্যতম সেরা আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম বলে অভিহিত করেন তিনি।

চলতি জাতিসংঘ অধিবেশনের মূল প্রতিপাদ্য 'জাতিসমূহের মধ্যে আস্থা পুনর্প্রতিষ্ঠা'র কথা উল্লেখ করে ইরানি প্রেসিডেন্ট গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, আন্তর্জাতিক পরাশক্তিগুলোর একপেশে নীতির কারণে বিশ্বজুড়ে পারস্পরিক ট্রাস্ট বা বিশ্বাস আজ চরম সংকটে পড়েছে।
চুক্তি ও আন্তর্জাতিক আইন অমান্য করে শুধু ক্ষমতার জোরে কিছু দেশ দুর্বল রাষ্ট্রগুলোর ওপর মানসিক ও অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করছে। অতীতে একাধিকবার আলোচনার টেবিলে বসে চুক্তি স্বাক্ষরের পরও পশ্চিমা বিশ্বের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি স্পষ্ট করেন, এবার নিউইয়র্কে তিনি ইরানি জনগণের কষ্ট, শত্রুদের ষড়যন্ত্র ও বিশ্বাসভঙ্গের সুনির্দিষ্ট চিত্র বিশ্বনেতাদের সামনে উপস্থাপন করবেন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত ইরানজুড়ে মার্কিন ও ইসরায়েলি যৌথ হামলার তীব্র সমালোচনা করে পেজেশকিয়ান প্রশ্ন তোলেন, সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি ও হাসপাতালে নির্বিচারে বোমাবর্ষণ করা কীভাবে সন্ত্রাসবাদবিরোধী লড়াইয়ের অংশ হতে পারে।
একই সাথে জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে ইরানের গণমাধ্যম প্রতিনিধিদলকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক ভিসা না দওয়ার বিষয়টিকে তিনি তেহরানের কণ্ঠরোধ করার এক অপচেষ্টা বলে আখ্যা দেন। তবে সব প্রতিকূলতা ও শত্রুর চক্রান্তকে ব্যর্থ করে দিয়ে ইসলামিক বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সৈয়দ মুজতবা খামেনির বলিষ্ঠ নেতৃত্ব এবং দেশের সর্বস্তরের মানুষের ইস্পাতকঠিন ঐক্যের ওপর ভর করে ইরান আরও শক্তিশালী হয়ে এগিয়ে যাবে বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
তথ্যসূত্র: প্রেস টিভি
