মার্কিন ও ইসরাইল বাহিনীর সামরিক অভিযানের মুখে যুক্তরাষ্ট্রের অত্যন্ত উন্নত মানের একটি চালকবিহীন সাবমেরিন বা আন্ডারওয়াটার ড্রোন আটক করার পর সেটিকে রিভার্স-ইঞ্জিনিয়ারিং বা হুবহু নিজস্ব প্রযুক্তিতে পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু করতে যাচ্ছে ইরান।
মঙ্গলবার এক সাক্ষাৎকারে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মহেব্বি নিশ্চিত করেছেন, সম্প্রতি হরমুজ প্রণালীর প্রবেশমুখে আইআরজিসি নৌবাহিনীর এক জটিল গোয়েন্দা ও সামরিক অভিযানে চালকবিহীন এই মার্কিন যানটি সফলভাবে আটক করা হয়।

আটক ডুবো ড্রোনের ছবি ও ফুটেজ শিগগিরই প্রকাশ করার ঘোষণা দিয়ে আইআরজিসি জানিয়েছে, বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন এই সাবমেরিনটি ২০২৫ সালে মার্কিন সামরিক বাহিনীর বহরে যুক্ত হয়েছিল।
তাসনিম নিউজ এজেন্সির তথ্যমতে, আটক রোবোটিক যানটি মার্কিন প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান 'অ্যান্ডুরিল ইন্ডাস্ট্রিজ'-এর তৈরি 'ডাইভ-এলডি' মডেলের একটি আন্ডারওয়াটার ভেহিক্যাল, যা লম্বায় প্রায় ৫.৮ মিটার, ওজনে ২.৭ টন এবং এটি সমুদ্রের প্রায় ৬ হাজার মিটার গভীরে ১০ দিন পর্যন্ত একটানা নজরদারি ও গোয়েন্দা কার্যক্রম চালাতে সক্ষম।
আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মহেব্বি জানান, সাম্প্রতিক যুদ্ধক্ষেত্র প্রমাণ করেছে যে সামরিক ও প্রতিরক্ষা খাতে ব্যবহৃত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে আধুনিক প্রযুক্তিগুলো এখন ইরানের নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, আমেরিকার সর্বাধুনিক স্টিলথ প্রযুক্তির যুদ্ধবিমান এফ-৩৫ কেও আইআরজিসি এরোস্পেস ফোর্সের উদীয়মান ও আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সফলভাবে লক্ষ্যবস্তু বানাতে সক্ষম হয়েছে।

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, পানির নিচের এই ড্রোনটি হারিয়ে ফেলার ফলে ইরান হয়তো রাতারাতি কোনো কৌশলগত সামরিক সুবিধা পাবে না, তবে বিশ্বজুড়ে নিজেদের প্রযুক্তিগত শ্রেষ্ঠত্ব জাহির করার মার্কিন প্রচেষ্টায় এটি একটি চরম বিব্রতকর এবং বড় ধরনের ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তেল ও জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালী ঘিরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চরম উত্তেজনার মধ্যেই এই আটকের ঘটনাটি ঘটল।
উল্লেখ্য, গত এক দশকে ইরানি বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সরঞ্জাম সফলভাবে ভূপাতিত ও আটক করেছে, যার মধ্যে রয়েছে আরকিউ-১৭০ সেন্টিনেল স্টিলথ ড্রোন, এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন এবং পারস্য উপসাগরে বিভিন্ন মার্কিন সারফেস ভেহিক্যাল। অতীতের রেকর্ড পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এ ধরনের আটক করা প্রযুক্তিকে রিভার্স-ইঞ্জিনিয়ারিং বা ব্যবচ্ছেদ করে নিজস্ব ডোমেইন জ্ঞান ও ড্রোন প্রযুক্তির অভূতপূর্ব উন্নয়ন ঘটাতে ইরানি প্রকৌশলীরা বরাবরই অত্যন্ত নিখুঁত ও সফল ভূমিকা পালন করেছেন।
তথ্যসূত্রধ তাসনিম নিউজ-প্রেস টিভি
