ভারতের উত্তর-পূর্ব দিল্লির সীমা পুরী এলাকায় বুধবার বিকেলে ঘটে গেল এক হৃদয়বিদারক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। একটি চারতলা আবাসিক ভবন হঠাৎ তাসের ঘরের মতো ধসে পড়ে এক শিশুর বীভৎস ও বেদনাদায়ক মৃত্যু হয়েছে।
ডিসিপি রাজেন্দ্র প্রসাদ মীনা জানিয়েছেন, ভবন ধসে পড়ে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে শিশুটির দেহ থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ধ্বংসস্তূপ থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও এখনো বেশ কয়েকজন চাপা পড়ে থাকার আশঙ্কায় উদ্ধার অভিযান জোরকদমে চালানো হচ্ছে।
দিল্লি ফায়ার সার্ভিস (ডিএফএস) সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সময় বুধবার বিকেল ৩টা ৩০ মিনিট নাগাদ সীমা পুরী এলাকায় ভবন ধসে পড়ার জরুরি ফোন পান তারা। খবর পাওয়ার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের বেশ কয়েকটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
এর আগে গত মাসেই দিল্লির সত্য নিকেতন এলাকায় একটি হোস্টেল ধসে ৭ জনের করুণ মৃত্যু হয়েছিল। সেই ক্ষত শুকাতে না শুকাতেই সীমা পুরীর এই মর্মান্তিক ঘটনা শহরজুড়ে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে।

ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া চিত্রে দেখা যায়, দুর্ঘটনাকবলিত এলাকার পথঘাট ধূলিশেষ ধ্বংসস্তূপে ঢেকে গেছে। উদ্ধারকারী দল পৌঁছানোর আগেই স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেদের খালি হাতেই বড় বড় পাথরের স্ল্যাব ও ইট-সিমেন্ট সরিয়ে নিচে আটকে পড়াদের বের করার আকুল চেষ্টা চালান।
প্রত্যক্ষদর্শী এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, পুলিশ পৌঁছাতে আধ ঘণ্টা দেরি করেছিল। তার আগেই এলাকার মানুষ নিজ দায়িত্বে চার থেকে পাঁচজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। আমি নিজে এক ক্ষতিগ্রস্তকে বাঁচানোর জন্য সিপিআর দিয়েছি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, মঙ্গলবার রাতে উত্তরাখণ্ডে সৃষ্ট ভূমিকম্পের প্রবল ঝাঁকুনিতে দিল্লি-এনসিআর কেঁপে ওঠার পর এই চারতলা ভবনটিতে বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছিল। আর সেই ফাটল থেকেই বুধবার বিকেলে ভবনটি হুড়মুড় করে ধসে পড়ে। তবে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তদন্তের পরই দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এদিকে, উদ্ধারকাজে ব্যবহৃত অ্যাম্বুলেন্স এবং ফায়ার সার্ভিসের গাড়িগুলো যাতে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারে, সে জন্য দিল্লি ট্রাফিক পুলিশ সাধারণ মানুষকে ওই এলাকা এড়িয়ে চলার বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছে। এক্সে এক বার্তায় তারা জানায়, সীমা পুরী গোল চক্কর, ডিএলএফ ভোপুড়া এবং সংলগ্ন রাস্তাগুলোতে যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত উদ্ধার নিশ্চিত করতে দুর্ঘটনাস্থলে ভিড় না জমিয়ে ট্রাফিক পুলিশের নির্দেশ মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে। বর্তমানে ধ্বংসস্তূপের নিচে আর কেউ জীবিত আটকে আছেন কিনা, তা খুঁজে বের করতে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি
