হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকায় যাত্রীদের ট্রলি অপব্যবহার, পার্কিং ও পাবলিক টয়লেটে চরম অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং দোকানে অতিরিক্ত মূল্যে পণ্য বিক্রির মতো নানা অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
বুধবার পরিচালিত এক ধারাবাহিক বিশেষ অভিযানে দোষী একাধিক প্রতিষ্ঠানকে হাতেনাতে ধরে মোট ১ লাখ ৯৫ হাজার টাকা তাৎক্ষণিক জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার এই সম্পূর্ণ অর্থ সাথে সাথে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়।
বিমানবন্দর এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সূত্রে জানা গেছে, এই অভিযানের পূর্বে গোপনে ছদ্মবেশে লোক পাঠিয়ে যাত্রীদের প্রকৃত ভোগান্তি ও সেবা যাচাই করা হয়। পরবর্তীতে ঘটনার সত্যতা পেয়ে উপস্থিত সাক্ষীদের প্রমাণ ও আসামিদের দোষ স্বীকারোক্তির ওপর ভিত্তি করে আইনানুযায়ী দায়িত্বশীলদের অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। বিমানবন্দরে যাত্রীদের নির্বিঘ্ন সেবা নিশ্চিত করতে ও নানা ভোগান্তি লাঘবে প্রতিদিন ৪ জন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন।
বিশেষ করে প্রবাসী ও সাধারণ যাত্রীদের বহুল আলোচিত ‘ট্রলি ও লাগেজ অব্যবস্থাপনা’ রোধে ‘টিম এয়ারপোর্ট’-কে সঙ্গে নিয়ে নেয়া হয়েছে বেশ কিছু ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ। ইতোমধ্যে বিভিন্ন বিমানবন্দর থেকে এনে ও পুরোনো ট্রলি মেরামত করে বহরে নতুন আরও ৫০০টি ট্রলি যুক্ত করা হয়েছে।
এর পাশাপাশি জরুরি ভিত্তিতে আরও ১,০০০টি নতুন ট্রলি সরবরাহের জন্য বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষকে বিশেষ সুপারিশ পাঠিয়েছেন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট। ট্রলি সরবরাহ সুনির্দিষ্ট করতে প্রতি শিফটে কোন পয়েন্টে কতটি ট্রলি রয়েছে, তা মনিটর করতে একটি বিশেষ হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ চালুর মাধ্যমে সরাসরি তদারকি করা হচ্ছে।
সম্প্রতি রাতে রানওয়ে মেরামতের কাজের কারণে কয়েক ঘণ্টা ফ্লাইট ওঠানামা বন্ধ থাকছে। ফলে রাতের স্থবিরতার পর পিক আওয়ারে একযোগে একাধিক ফ্লাইট অবতরণ করলে মোট ট্রলির চেয়ে যাত্রীর সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়ে যায়। সেই মুহূর্তে যাত্রীদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ট্রলি সংগ্রহ করতে হয়।
এই ভোগান্তি নিরসনে দ্রুততম সময়ে প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত ট্রলি সরবরাহ নিশ্চিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেছে আদালত কর্তৃপক্ষ। উল্লেখ্য, বার্ষিক মাত্র ৮০ লাখ যাত্রী ধারণক্ষমতার এই বিমানবন্দরটি দিয়ে বর্তমানে প্রতি বছর প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ যাত্রী আসা-যাওয়া করেন।
আর যাত্রীদের এগিয়ে দিতে ও অভ্যর্থনা জানাতে আসা আরও অন্তত ২ কোটি মানুষের সমাগম ঘটে। ফলে এই বিপুল ভিড়ের সুযোগে নানা রকমের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের প্রবণতা দেখা দেয়, যা প্রতিরোধে প্রতিনিয়ত অভিযান চালানো হচ্ছে।
বিদেশি অনেক বিমানবন্দরে শেষ মুহূর্তে যাত্রী উপস্থিত না থাকলে বা মাস্টার-কি দিয়ে খোলা না গেলে অনেক সময় সিকিউরিটি ক্যাটাগরির জিনিসপত্র বাজেয়াপ্ত করতে গিয়ে ব্যাগেজ খোলা হয়, যার কোনো স্পষ্ট নোটিশ যাত্রী পান না। এতে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তি কাটাতে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পদক্ষেপ নিতে সুপারিশ জানানো হয়েছে।
এছাড়া কোনো যাত্রীর লাগেজ ক্ষতিগ্রস্ত হলে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সের কাছে সরাসরি ক্ষতিপূরণ দাবি করার নিয়ম রয়েছে। তবে লাগেজ থেকে কোনো কিছু চুরি বা যেকোনো ধরনের হয়রানির শিকার হলে বিমানবন্দরের ১ নম্বর টার্মিনালের ১ নম্বর গেট সংলগ্ন দোতলায় অবস্থিত ‘এয়ারপোর্ট এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে’ সরাসরি অভিযোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এই আদালতটি সপ্তাহে ৭ দিনই ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকে এবং সর্বক্ষণ একজন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত থাকেন। বডি-ওর্ন ক্যামেরা ও সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করে লাগেজ চুরির প্রমাণ মিললে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ম্যাজিস্ট্রেট জানান, ইতোপূর্বেও এমন একাধিক অপরাধীকে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
