মিয়ানমারের বাগো অঞ্চলের কিয়াউক্কি টাউনশিপের মোনে শহরে জান্তার সব অবস্থান দখলে নিয়েছে কারেন ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি (কেএনএলএ) ও পিপলস ডিফেন্স ফোর্সেস (পিডিএফ)। কারেন ন্যাশনাল ইউনিয়ন (কেএনইউ) সোমবার বলেছে, এটি প্রথম শহর, যা সম্পূর্ণরূপে দখল করা হয়েছে।
কেএনইউর প্রায় দেড় হাজার সদস্য শহরটি পরিষ্কার করতে লেগে পড়েছে। কেএনএলএর রাজনৈতিক শাখা কেএনইউ। খবর ইরাবতি’র।
শনিবার রাত থেকে মোনে শহরে জান্তা সৈন্যদের সঙ্গে লড়াই করছে কেএনএলএ ও পিডিএফের সদস্যরা। এ সময় তারা জান্তার লাইট ইনফ্যান্ট্রি ব্যাটালিয়নের ৫৯০ ও ৫৯৯-এর বিরুদ্ধে হামলা চালায়। এছাড়া কেন্দ্রীয় পুলিশ স্টেশন এবং শহরের প্রবেশপথে একটি সামরিক চেকপয়েন্টে সমন্বিত আক্রমণ শুরু করে।
যুদ্ধে উভয় পক্ষের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। একটি ব্যাটালিয়ন কমান্ডারসহ বিপুলসংখ্যক জান্তা সৈন্য প্রতিরোধ বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করেছে বলে কেএনইউ জানিয়েছে।
অন্যদিকে, ইয়াঙ্গুন কারখানায় জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে মিয়ানমার সরকার। ব্যবসায়ীদের মতে, এর ফলে উৎপাদন খাতকে পঙ্গু করে দিয়েছে জান্তা বাহিনী। নভেম্বরের শেষ দিকে মিয়ানমার ফেডারেশন অব চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি ইউনিয়ন কারখানার মালিকদের তাদের নিজস্ব আমদানির ব্যবস্থা করতে বলেছিল।
জান্তা নিয়ন্ত্রিত সেন্ট্রাল ব্যাংক অব মিয়ানমার (সিবিএম) জ্বালানি আমদানিকারকদের কেনাবেচার ক্ষেত্রে ডলারে মূল্য পরিশোধ করতে না পারায় সম্প্রতি জ্বালানির দাম প্রতি লিটারে কমপক্ষে ৩০০ কিয়াট বেড়েছে। ফলে জটিল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে মিয়ানমারের সামরিক জান্তা প্রধান দেশের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইরত জাতিগত সশস্ত্র গ্রুপগুলোকে রাজনৈতিক সমাধান খুঁজে বের করার আহ্বান জানিয়েছেন।
তবে, জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হামলায় চীন, ভারত ও থাইল্যান্ড সীমান্তে একের পর এক এলাকার নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে সামরিক জান্তা। বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০২১ সালে ক্ষমতা দখলের পর জান্তা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি।
মিয়ানমার-মিজোরাম সীমান্ত ক্রসিং বিদ্রোহীদের দখলে