ভারতে একটু ঝড়ো বাতাসেই ধসে পড়েছে আট বছর ধরে নির্মাণাধীন থাকা একটি সেতু। ধসে পড়া সেতুর কংক্রিটের নিচে চাপা পড়া থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন অর্ধ-শতাধিক মানুষ।
সোমবার রাতে ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যের পেদ্দাপল্লী জেলায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। খবর হিন্দুস্তান টাইমস’র।
স্থানীয় সময় রাত পৌনে ১০টার দিকে নির্মাণাধীন সেতুটির দুইটি কংক্রিটের গার্ডার প্রবল বাতাসের কারণে ভেঙে পড়ে। প্রায় ১০০ মিটার দূরত্বে থাকা দুইটি পিলারের ওপর আরও তিনটি গার্ডার রয়েছে। সেগুলোও যেকোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সিরিকোন্ডা বাক্কা রাও নামে এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, সেতু ধসে পড়ার মাত্র এক মিনিট আগে সেখান দিয়ে একটি বাসে করে ৬৫ জন বরযাত্রী গিয়েছিলেন। সৌভাগ্যক্রমে কংক্রিটের নিচে চাপা পড়া থেকে রক্ষা পান তারা।
মানাইর নদীর ওপর প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল ২০১৬ সালে। তেলঙ্গানা বিধানসভার তৎকালীন স্পিকার এস মধুসুধন চারি এবং স্থানীয় বিধায়ক পুত্তা মধু এটি উদ্বোধন করেন। এই প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ হয়েছিল প্রায় ৪৯ কোটি রুপি।
সেতুটি ভূপালপল্লির টেকুমাতলা মণ্ডলের গারমিল্লাপল্লু ও পেদ্দাপল্লির ওদেদেদুকে সংযুক্ত করবে। এর নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল এক বছরের মধ্যে। কিন্তু, কমিশনের চাপে এবং সরকার বকেয়া পরিশোধ না করার অভিযোগে বছর দু’য়েকের মাথায় ঠিকাদার কাজ বন্ধ করে দেন।
মানাইর নদীর ওপর সেতুটির নির্মাণকাজ পরের আট বছরেও শেষ না হওয়ায় এর নিচ দিয়ে মাটির রাস্তা তৈরি করে ব্যবহার করছেন স্থানীয়রা।
এর মধ্যে কাজ না এগুলেও প্রকল্পের খরচ বাড়ানো হয়েছে বলে জানান সন্দীপ রাও নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি। প্রকল্পের ৬০ শতাংশ কাজ শেষ না হলেও গত বছর প্রাক্কলিত ব্যয়ের সঙ্গে আরও ১১ কোটি রুপি যোগ করা হয় বলে তথ্য দেন তিনি।
ভারতে এ ধরণের সেতু ধসে পড়ার ঘটনা নতুন নয়। এই ঠিকাদারই ভেমুলওয়াদায় একটি সেতু নির্মাণ করেছিলেন, যেটি ২০২১ সালে ভারী বৃষ্টিতে ভেসে গিয়েছিল বলে জানান সিরিকোন্ডা বাক্কা রাও। গত মাসেই বিহার রাজ্যের সুপোলে কোসি নদীর উপর নির্মাণাধীন সেতুটি হঠাৎ ভেঙে পড়ে।
বিহারে নির্মাণাধীন সেতু ধসে ৩০ শ্রমিক আটকা, নিহত ১