শেখ হাসিনা ভারতের বন্ধু, ভারতও তার বন্ধু: শশী থারুর

আপডেট : ১২ আগস্ট ২০২৪, ০৪:১৩ পিএম

সহিংস বিক্ষোভের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করার পর শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়ার জন্য ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের প্রশংসা করেছেন কংগ্রেসের প্রভাবশালী নেতা ও লোকসভার সদস্য শশী থারুর। তিনি বলেছেন, প্রতিবেশী দেশে ক্ষমতার পরিবর্তন ভারতের  উদ্বেগের কারণ নয়।

সোমবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বর্ষীয়ান এ কংগ্রেস নেতা এমন মন্তব্য করেন।

শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়ায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকারকে প্রশংসার করে বলেন, ‘আমরা যদি তাকে সাহায্য না করতাম, তাহলে এটা ভারতের জন্য অসম্মানজনক হতো। আমাদের বন্ধুর সাথে খারাপ ব্যবহার করলে কেউ আমাদের বন্ধু হতে চাইত না। শেখ হাসিনা ভারতের বন্ধু এবং ভারত তার বন্ধু। আর যখন একজন বন্ধু সমস্যায় পড়েছে, আপনি তাদের সাহায্য করার আগে দুবার তাকাবেন না। সরকার তাকে এখানে আনার জন্য এবং তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সঠিক কাজ করেছে।’

শেখ হাসিনার ভারতে থাকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তিনি কতক্ষণ থাকতে চান, তা আমাদের বিষয় নয়। আপনি কাউকে আপনার বাড়িতে এনে জিজ্ঞাসা করবেন না যে, আপনি কখন চলে যাচ্ছেন। আমার দৃষ্টিভঙ্গি হল, আমরা অপেক্ষা করব এবং দেখি, তিনি অন্য কোথাও যাওয়ার আগে কতক্ষণ থাকতে চান, সেটা আমাদের মাথায় রাখতে হবে।’ 

এ প্রসঙ্গে তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘অন্য কোনো দেশে যাওয়ার আগে তাকে অনেক কিছু নিয়ে ভাবতে হবে। ভিসাসহ আরও অনেক জটিলতা রয়েছে। আপাতত, তিনি আমাদের সঙ্গে আছেন এবং আমাদের এ বিষয়টি নিয়ে গর্বিত হওয়া উচিৎ যে, যখন আমাদের বন্ধু বিপদে পড়েছিলেন, তখন আমরা তার পাশে ছিলাম।’

বাংলাদেশের চলমান ঘটনাগুলো ঢাকা ও নয়াদিল্লির সম্পর্কে কী প্রভাব ফেলতে পারে- এর জবাবে থারুর বলেন, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রক্ষা করা আমাদের মৌলিক চাহিদার মতো। আমাদের সবচেয়ে প্রাধান্যের বিষয় হলো বাংলাদেশের জনগণের মঙ্গল যাতে হয়, সেদিকে নজর দেওয়া। এরপর দ্বিতীয় ও তৃতীয় বিষয়ে আসে রাষ্ট্র ও সুনির্দিষ্ট কোনো নেতা।’

তিনি বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশিদের পাশেই আছি, যেমনটা ১৯৭১ সালে ছিলাম। আমরা ভালো-মন্দ সবসময়েই তাদের সঙ্গে ছিলাম। এমনকি, তাদের সরকার যখন আমাদের প্রতি খুব একটা বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করেনি, তখনও আমরা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষা করে এসেছি এবং নিশ্চিতভাবেই আগামীতেও এ সম্পর্কের কোনো অবনতি হবে না।’

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নয়াদিল্লির জন্য উদ্বেগের কারণ নয়- উল্লেখ করে শশী থারুর বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে চিনি। তিনি অত্যন্ত সম্মানিত ব্যক্তি। আমার মতে, তিনি জামায়াতে ইসলামী বা পাকিস্তানি আইএসআইয়ের চেয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে বেশি ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রাখেন।’ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সার্বিক গঠন লক্ষ্য করে ভারতের সঙ্গে শত্রুভাবাপন্ন, এমন কোনো দেশের ছাপ্পা এ সরকারের ওপর দেখা যাচ্ছে না বলেও মনে করেন তিনি।

‘ভারতের জন্য সব সময়ের উদ্বেগের বড় কারণ চীন বা পাকিস্তানের ঘোলা জলে মাছ শিকার’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এ ধরনের পরিস্থিতিতে খানিকটা সম্ভাবনা আছে যে অস্থিতিশীল পরিবেশে পাকিস্তানের আইএসআই সহিংসতা ছড়াবে বা উসকানি দেবে, অথবা বাংলাদেশে চীন প্রভাব বিস্তার করতে চাইবে। উপমহাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির দিকে যারা নজর রাখছেন, তাদের জন্য এগুলো চিন্তার বিষয়। কিন্তু অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের প্রাথমিক বক্তব্যে এমন কিছু নেই যা আমাদের জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে।’

সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার বিষয়ে ভারত সরকারের উদ্বেগ আরও জোরদার করা উচিত কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশ থেকে পরস্পরবিরোধী প্রতিবেদন আসছে। অবশ্যই কিছু হামলা হয়েছে, এটা কেউ অস্বীকার করতে পারবে না। একই সাথে, সন্দেহ নেই যে এমন গল্পও বেরিয়ে আসছে যে, বাংলাদেশি মুসলমানরা হিন্দুদের ঘরবাড়ি ও মন্দির পাহারা দিচ্ছে। এই খারাপ খবরের সময়েও এগুলো কিছুটা ভাল খবর বলে মন্তব্য করেন তিনি।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ভাষণে আশার আলো দেখেছেন এই কংগ্রেস নেতা। তিনি বলেন, ‘প্রফেসর ইউনূসের বিবৃতিতে সরকার সংখ্যালঘুদের পাশে দাঁড়িয়েছে এবং জনগণকে শান্ত হতে এবং সহিংসতা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন, এটি একটি খুবই ভালো লক্ষণ। যেকোনো অবিরাম সহিংসতা অবশ্যই বাংলাদেশের সমাজের কিছু মানুষের মাধ্যমে প্ররোচিত, যারা ঐতিহ্যগতভাবে ভারতবিরোধী, হিন্দুবিরোধী এবং বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি করার জন্য যা কিছু করা দরকার, তা করবে। এটা তাদের ঘোলা জলে মাছ শিকারের সুযোগ দেবে। তবে আপাতত, আমি বিশ্বাস করি না যে, এমন কোনও কর্তৃপক্ষ আছে, যারা এই পরিস্থিতি অব্যাহত রাখতে চায়।

গত ৫ আগস্ট গণবিক্ষোভের মুখে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে ভারতে যান শেখ হাসিনা। তিনি ভারতে পৌঁছানোর পর দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর সর্বদলীয় বৈঠকে বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য দেন। পরে লোকসভা ও রাজ্যসভাতেও এ বিষয়ে বক্তব্য দেন তিনি। এরপর কংগ্রেসসহ সব বিরোধীদল বাংলাদেশের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে যেকোনো উদ্যোগে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকারকে সমর্থন ও সহযোগিতা দেওয়ার‍ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

 

একাত্তর/জো
বিয়ের সানাই বাজছিল ঠিকঠাক, কাজিও কবুল পড়িয়ে দিয়েছিলেন অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে। কিন্তু আসল টুইস্টটা জমা ছিল দুপুরের খাবারের টেবিলের জন্য! পাতে খাসির মাংসের বদলে কেন মুরগির মাংস পরিবেশন করা...
ভারতের ছাত্র-যুবদের কর্মসংস্থান এবং শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের দাবি এবার এক অদ্ভুত ও নজিরবিহীন রূপ নিল দিল্লির বুকে। সপ্তাহজুড়ে খবরের শিরোনামে থাকার পর, আজ শনিবার ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির রাজপথে...
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভায় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রাখলেও বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের আসল নজর এখন তৃণমূল কংগ্রেসের ৮০ সদস্যের বিধায়ক দলের অন্দরে তৈরি হওয়া তীব্র ফাটলের...
‘সবাই দুর্নীতিগ্রস্ত! চারদিকে শুধু ঘুষ আর অনিয়ম, আর সেই কারণেই আমি আজ আমার পরিবারের প্রায় সবাইকে হারালাম’; কান্না চেপে, তীব্র ক্ষোভে কাঁপতে কাঁপতে কথাগুলো বলছিলেন বিষ্ণু কান্ত গর্গ। গত বুধবার...
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দীর্ঘদিন ধরে রাজপথে ফ্যাসিবাদ বিরোধী যুগপৎ আন্দোলনে শরিক নেতাদের উদ্দেশ্য বলেছেন, আমরা অতীতে একসাথে ছিলাম, আছি এবং একসাথেই থাকবো।
স্বাক্ষরিত জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে পালন করবে বিএনপি সরকার। যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের এমনটিই জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে স্পেনের মহাকাব্যিক জয় শুধু একটি ঐতিহাসিক ট্রফি অর্জন আর রূপকথার গল্প নয়, এটি ছিল ফুটবলের এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজংশে ব্যাটন হস্তান্তরের স্মারক। ফুটবল...
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের রোমাঞ্চকর ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে ইনজুরি টাইমে ফেরান তোরেসের অবিশ্বাস্য গোল স্প্যানিশ ফুটবলে নতুন ইতিহাস লিখেছে। ২০১০ সালে আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার সেই ঐতিহাসিক জয়ের পর দেশকে...
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর