নয়াদিল্লির দক্ষিণ ক্যাম্পাসের কাছেই অবস্থিত সত্য নিকেতন এলাকায় ধসে পড়া ছয়তলা পেয়িং গেস্ট (পিজি) ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে আছেন বহু শিক্ষার্থী। উদ্ধারকাজের সময় কংক্রিটের স্ল্যাব ও ভারী ধ্বংসাবশেষের নিচ থেকে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী জীবন বাঁচানোর আকুল আর্জি জানিয়ে বাইরে থাকা স্বজন ও বন্ধুদের কাছে ফোনকল করেছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে আসা এই করুণ দৃশ্য ও ফোনকলের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় দক্ষিণ-পশ্চিম দিল্লির বিধায়ক অনিল শর্মা।

রোববার দুপুর প্রায় ১টা ৩৪ মিনিটে 'হোস্টেল ডেজ' নামের এই পুরোনো ভবনটি ধসে পড়ে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে আসা বহু শিক্ষার্থী ভবনটিতে ভাড়া থাকতেন। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় ইতোমধ্যেই একজনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে এবং দুজনকে অত্যন্ত আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে ঠিক কতজন আটকা পড়ে আছেন তা সুনির্দিষ্ট করে বলা না গেলেও বিধায়ক অনিল শর্মা দুর্ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের জানান, এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ঘটনা। ভেতরে কতজন- পাঁচ, দশ নাকি বিশ জন শিক্ষার্থী আটকে আছেন তা বলা কঠিন হলেও আমরা নিশ্চিত যে অনেকেই এখনো চাপা পড়ে আছেন এবং তাঁরা ভেতর থেকে বাঁচাও আকুতি জানিয়ে ফোন করছেন।

দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর পরই উদ্ধার কাজে নামানো হয়েছে দিল্লি ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, ফায়ার টেন্ডার ও জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীর একাধিক চৌকস টিম। উদ্ধার তৎপরতা দ্রুত করতে অন্তত ১২টি ফায়ার ইঞ্জিন ও ভারী এক্সক্যাভেটরসহ স্ল্যাব সরানোর জন্য আধুনিক যন্ত্রপাতি ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ভবনটির বেসমেন্টে নির্মাণ বা মেরামতের কাজ চলছিল, যার দরুন এই ধসের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।

দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশীষ সুদ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও সংবাদ সংস্থার মাধ্যমে জানিয়েছেন, রাজ্য সরকার সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। আটক হওয়া প্রতিটি প্রাণকে নিরাপদে বের করে আনা এবং আক্রান্তদের কাছে সব ধরনের জরুরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়াকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে প্রশাসন। স্থানটিতে নিখোঁজ শিক্ষার্থীদের স্বজন ও সহপাঠীদের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় এক বুকভাঙা করুণ পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি
