টাক মাথার জন্য দারুণ এক সুসংবাদ দিলো দক্ষিণ কোরিয়া। দেশটির বিজ্ঞানীরা একটি নমনীয় লাইট থেরাপি হ্যাট বা টুপি তৈরি করছেন, যা চুল পড়ার চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে। কোরিয়া অ্যাডভান্সড ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির গবেষকরা জানিয়েছেন, তাদের বিশেষভাবে তৈরি ‘নিয়ার-ইনফ্রারেড’ লাইট সিস্টেমটি ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় মানুষের চুলের কোষের বার্ধক্যজনিত একটি প্রধান সূচক বা মার্কার প্রায় ৯২ শতাংশ কমিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে।
এই গবেষণার ফলাফল বিজ্ঞান সাময়িকী- নেচার কমিউনিকেশনসে প্রকাশিত হয়েছে।

নতুন এই চিকিৎসা পদ্ধতি মানুষের ‘ডার্মাল প্যাপিলিয়া’ কোষকে লক্ষ্য করে কাজ করে, যা চুলের গোড়ার বৃদ্ধির ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। চুলের ফলিকল বা কোষের বয়স বাড়ার সাথে সাথে সেখানে ‘বিটা-গ্যালাক্টোসিডেস’ নামক এক ধরনের এনজাইম বেশি তৈরি হয়। এই এনজাইমটি কোষের বার্ধক্য এবং চুল পড়ার একটি স্বীকৃত জৈবিক সঙ্কেত বা বায়োমার্কার হিসেবে পরিচিত।
গবেষকদের মতে, তাদের তৈরি কাস্টমাইজড ‘নিয়ার-ইনফ্রারেড অর্গানিক লাইট-এমিটিং ডায়োড’ (ওএলইডি) পদ্ধতিতে চিকিৎসা করা চুলের কোষে সাধারণ কোষের তুলনায় ৯২ শতাংশ কম বার্ধক্যজনিত লক্ষণ দেখা গেছে। এই পদ্ধতিতে ৭৩০ থেকে ৭৪০ ন্যানোমিটার তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের আলো ব্যবহার করা হয়েছে, যা চুল পুনরুৎপাদনে সাহায্যকারী কোষগুলোকে সক্রিয় করতে সব থেকে কার্যকর বলে মনে করা হয়।

বাজারে বর্তমানে প্রচলিত লাইট থেরাপি হেলমেটগুলো মূলত লেজার বা এলইডি ডিভাইসের ওপর নির্ভর করে। তবে নতুন এই সিস্টেমে অত্যন্ত পাতলা এবং নমনীয় ওএলইডি প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে এটি মাথার ত্বকের সাথে খুব সুন্দরভাবে মানিয়ে যায় এবং একটি নরম টুপির ভেতরে খুব সহজেই বসিয়ে দেওয়া যায়। এটি সমানভাবে মাথার সর্বত্র আলো ছড়িয়ে দেয় এবং পরতেও অনেক আরামদায়ক।
চুল পড়ার সমস্যা বিশ্বজুড়ে লক্ষ লক্ষ মানুষের দুশ্চিন্তার কারণ। শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ বংশগত কারণে চুল পড়ার সমস্যায় ভোগেন। বর্তমানে মিনোক্সিডিল এবং ফিনাস্টেরাইডের মতো ওষুধ চিকিৎসায় ব্যবহৃত হলেও সেগুলোর সীমাবদ্ধতা এবং নানা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে।

যদিও এই পরিধানযোগ্য টুপিটি এখনও মানুষের ওপর পরীক্ষা করা হয়নি, তবে গবেষকরা এর সুরক্ষা এবং কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে আরও প্রাক-ক্লিনিক্যাল গবেষণার পরিকল্পনা করছেন।
সূত্র: এনডিটিভি
