সারের কৃত্রিম ঘাটতি সৃষ্টি করে দাম বাড়ালে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক।
মঙ্গলবার (১৪ ডিসেম্বর) সার নিয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।
মন্ত্রী বলেন, দেশে সারের কোনো ঘাটতি নেই, পর্যাপ্ত মজুত আছে। কৃত্রিম ঘাটতি সৃষ্টি করে দাম বাড়ালে ডিলারদের লাইসেন্স বাতিলসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কৃষিমন্ত্রী আরও জানান, আপাতত ১৫ দিন অব্যাহতভাবে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে। পরে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে প্রয়োজন হলে পুরো বোরো মৌসুমে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।
তিনি বলেন, সামনে বোরো মৌসুম, এ সময়ে সারের প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি। এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আমরা সব রকমের আগাম প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। বর্তমানে সারের যে মজুত রয়েছে এবং পাইপলাইনে যে সার রয়েছে, সব মিলিয়ে সারের কোনো রকম সংকট হবে না, পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে।
আরও পড়ুন: বগুড়ায় প্লাস্টিক কারখানায় আগুন, পাঁচ শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার
আন্তর্জাতিক সিন্ডিকেট দাম বাড়িয়ে আমাদের মতো দেশগুলোকে শোষণ করছে মন্তব্য করে ড. রাজ্জাক বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে সারের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেয়েছে। যে সারের মূল্য টনপ্রতি ৩০০ ডলার ছিল, তা বেড়ে এখন দাঁড়িয়েছে টনপ্রতি ৯৬৪ ডলার। আর এদিকে দেশে সুযোগসন্ধানী ব্যবসায়ীরা গুজব ছড়িয়ে কোথাও কোথাও এলাকাভেদে বিচ্ছিন্নভাবে সারের দাম বাড়ানোর চেষ্টা করছে।
এদিকে, শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন বলেন, সারের উৎপাদন, আমদানি ও মজুতে কোনো সমস্যা নেই। সারের কোনো ঘাটতি নেই। কৃষকদের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। তবে গুজব ও অপপ্রচার ছড়িয়ে সারের দাম বৃদ্ধি করে ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা চলছে। রাজনৈতিকভাবেও বিরোধীরা সুযোগ নিতে পারে। সেজন্য আমরা সার পরিস্থিতি নিয়ে খুব সতর্ক রয়েছি।
বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান কামরুল আশরাফ খান বলেন, গত কয়েকদিন সার পরিবহণে কিছু সমস্যা ছিল, তা কেটে গেছে। কোনো ডিলার সারের দাম বেশি নিলে তার সদস্যপদ বাতিল করা হবে।
একাত্তর/এসজে
