সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিদ্যা ও সুরের দেবী সরস্বতী পূজা অনুষ্ঠিত হবে আজ। পঞ্চমী তিথিতে বিদ্যা ও জ্ঞানের দেবী সরস্বতীর চরণে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করবেন অগণিত ভক্ত। আর এই ভক্তদের সারিতে তরুণ-তরুণীদের উপস্থিতি থাকে চোখে পড়ার মতো। মনে হয় তারাই যেন এই উৎসবের প্রাণ। এ উপলক্ষে দেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়ে বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
শাস্ত্রীয় বিধান অনুসারে, মাঘ মাসের শুক্লাপঞ্চমী তিথিতে সরস্বতী পূজা অনুষ্ঠিত হয়। এ তিথি বসন্ত পঞ্চমী নামেও পরিচিত। এদিন সকালে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষার্থীদের বাসা ও পূজামণ্ডপে সরস্বতী পূজা হবে। পূজা শেষে ভক্তরা অঞ্জলি গ্রহণ করবেন। এদিন শিশুদের হাতেখড়িরও আয়োজন করা হয়।
এদিকে করোনার কারণে এবারও এ পূজা রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সীমিত পরিসরে উদযাপিত হচ্ছে।
দেশের সবচেয়ে বড়ো আয়োজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলেও এবারও হচ্ছে না সাড়ম্বর পূজা অনুষ্ঠান। করোনার কারণে গতবারের মতো এবারও আয়োজন সংক্ষিপ্ত করেছে ঢাবি কর্তৃপক্ষ। জগন্নাথ হলের কেন্দ্রীয় মন্দির শুধু পূজা-অর্চণা অনুষ্ঠিত হবে।

অপরদিকে, করোনার কারণে এবারও কপালে চিন্তার ভাঁজ পাল বাড়িতে। একাধিক প্রতিমা শিল্পীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবারও আশানুরূপ প্রতিমা বিক্রি হয়নি। বিক্রি হয়নি পূজা অন্য উপকরণগুলোও। করোনার কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় প্রতিমা বিক্রি কমে গেছে বলে ধারণা শিল্পীদের।
গোপালগঞ্জ জেলার কোটালিপাড়ার কারিগর মিলন পাল জানান, তারা বংশপরম্পরায় প্রতিমা তৈরি করে বিক্রি করে আসছেন। বিগত বছরগুলোতে তারা ছোট-বড়ো ৩০০ থেকে ৩৫০ প্রতিমা এই হাটে বিক্রি করেছে। শুক্রবার বেলা ১১টা পর্যন্ত মাত্র ৫০টি প্রতিমা বিক্রি হয়েছে।
নাটেরের বিপ্লব কুমার পাল বলেন, নানা কারণে এই পেশার অধিকাংশ মানুষ পেশা পরিবর্তন করেছে। এক সময় পুজোর আগে দিনরাত প্রতিমা তৈরির কাজ করতাম। এখন আর হয়ে ওঠে না। বাবার মৃত্যুর পর কাকা আর দাদা প্রতিমা বানানোর কাজ ধরে রেখেছেন।
একাত্তর/এসি
