ডিজিটাল প্রযুক্তি শিল্প-বাণিজ্য ও শিক্ষাসহ জীবনের সকল ক্ষেত্রে অভাবনীয় রূপান্তর করে বাংলাদেশের প্রচলিত জীবনধারা বদলে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার।
তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ করোনা মোকাবেলায় বিস্ময়কর সফলতা দেখিয়েছে যা অনেক উন্নত দেশও পারেনি। খবর বাসসের।
শুক্রবার (২২ এপ্রিল) ঢাকাস্থ বৃহত্তর বগুড়া জেলা সমিতির ইফতার মাহফিল উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় ডিজিটাল পদ্ধতিতে অংশ নিয়ে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।
মোস্তাফা জব্বার বলেন, করোনা মোকাবেলায় সফলতার অগ্রগতির এ অগ্রযাত্রা আরও বেগবান করতে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। খোদ আমেরিকায় মানুষ চিকিৎসা পায়নি- ওষুধ পায়নি। অন্যদিকে বাংলাদেশ সুচারু দক্ষতার সাথে করোনাকে মোকাবেলা করেছে। আমাদের জীবনযাপন বা অর্থনীতি সচল থাকায় জাতীয় প্রবৃদ্ধি অন্যদেরকে ছাড়িয়ে গেছে।
করোনাকালে জীবনযাত্রা সচল ও সজিব রাখার জন্য ডিজিটাল প্রযুক্তি কাজ করেছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, আমাদের বুঝতে হবে করোনার আগের জীবনধারা এখন আর বিদ্যমান নেই এবং সামনের দিন এখনকার অবস্থায় বিরাজ করবে না। ব্যবসা-বাণিজ্য ডিজিটাল ব্যবসায় রূপান্তর হবে। প্রচলিত শিক্ষা পদ্ধতিকে রূপান্তর করবে মিশ্র বা ডিজিটাল শিক্ষা পদ্ধতি। এই ক্ষেত্রে শ্রেণি-কক্ষের পাশাপাশি অনলাইনেও শিক্ষা কার্যক্রম চলবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত ও বাস্তবায়িত ডিজিটাল বাংলাদেশ কর্মসূচিকে অনুন্নত কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির বাংলাদেশ গত ১৩ বছরে বিস্ময়কর অগ্রগতি অর্জন সবচেয়ে বড় হাতিয়ার।
আরও পড়ুন: স্বার্থের কারণে পরিবেশের ক্ষতিকারকরা দেশ ও মানুষের শত্রু: তথ্যমন্ত্রী
তিনি বলেন, আগামী দিনে মৎস্য ও কৃষিখাতেও ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারের দ্বারপ্রান্তে আছে বাংলাদেশ। মোবাইল ফোনে আইওটি যন্ত্রই কৃষককে বলে দেবে কখন তার জমিতে সার বা সেচ দিতে হবে এবং কী পরিমাণ লাগবে সেটাও জানতে পারবে।
মাছ চাষেও এই প্রযুক্তি আমূল রূপান্তর ঘটাবে বলে ডিজিটাল প্রযুক্তি বিকাশের এই অগ্রদূত দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে মন্ত্রী বলেন, করোনাকালে দেশে একহাজার জিবিপিএস ব্যান্ডউইডথ ব্যবহৃত হতো, করোনাকালে তা বেড়ে ৩৪শত জিবিপিএসে উন্নীত হয়েছে। দুই হাজার আট সালেও দেশে মাত্র ৮ লাখ মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করতো বর্তমানে তা ১৩ কোটিতে উন্নীত হয়েছে।
একাত্তর/আরএ
