বাংলাদেশের ৭৩ শতাংশ মানুষের পুষ্টিকর খাবার কেনার সামর্থ্য নেই বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের 'বৈশ্বিক খাদ্যনিরাপত্তা ও পুষ্টি পরিস্থিতি' শীর্ষক এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে এ প্রতিবেদন যৌথভাবে প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও), আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন সংস্থা (ইফাদ), ইউনিসেফ, বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। জাতিসংঘের সদস্য প্রায় সব দেশের তথ্য এ প্রতিবেদনে আছে।
বাংলাদেশে একজন মানুষের দৈনিক পুষ্টিকর খাবারের জন্য খরচ পড়ে প্রায় ২৭৬ টাকা। ২০১৭ সালে বাংলাদেশের প্রায় ৭৭ দশমিক চার শতাংশ মানুষের পুষ্টিকর খাবার কেনার সামর্থ্য ছিল না। ২০২২ সালে এসে এ হার দাঁড়িয়েছে ৭৩ শতাংশে।
প্রতিবেনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ায় দেশগুলোর মধ্যে মোট জনসংখ্যার হারে পুষ্টিকর খাবার কেনার সামর্থ্যের দিক থেকে সবচেয়ে পিছিয়ে নেপাল, তারপরই পাকিস্তানের অবস্থান। ভারতের অবস্থান বাংলাদেশের কিছুটা ভালো। ভালো অবস্থানে আছে শ্রীলঙ্কা ও ভুটান।
শতাংশের হিসাবে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের ৭৩ শতাংশ, ভারতের ৭০ শতাংশ, ভুটানের ৫৩ শতাংশ, নেপালের ৮৪ শতাংশ, পাকিস্তানের ৮৩ শতাংশ ও শ্রীলঙ্কার ৪৯ শতাংশ মানুষের পুষ্টিকর খাদ্য কেনার সামর্থ্য নেই।
জাতিসংঘের পাঁচটি সংস্থার ওই প্রতিবেদনে বাংলাদেশে খাদ্য অনিশ্চয়তায় থাকা মানুষের সংখ্যা বেড়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০১৪-১৬ সময়কালে তীব্র থেকে মাঝারি ধরনের খাদ্য অনিশ্চয়তায় ছিল পাঁচ কোটি চার লাখ মানুষ। তিন বছর পর ২০১৯-২১ সময়কালে একই ধরনের খাদ্য অনিশ্চয়তায় ছিল পাঁচ কোটি ২৩ লাখ মানুষ। অর্থাৎ দেশের মোট জনসংখ্যার ৩২ শতাংশ এ অনিশ্চয়তায় ছিল।
আরও পড়ুন: একদিনে করোনায় দুই মৃত্যু, শনাক্তের হার ১১.৫৫
এ হিসাবে ৬৮ শতাংশ মানুষের খাদ্য বিষয়ে অনিশ্চয়তা নেই। তবে তাদের উল্লেখযোগ্য অংশ পুষ্টিকর খাবার খায় না বা খেতে পারে না।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্ষুধা নির্মূল, খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সব ধরনের অপুষ্টি দূর করার চ্যালেঞ্জ বাড়ছে। কোভিড-১৯ মহামারি বৈশ্বিক কৃষি খাদ্যব্যবস্থার দুর্বলতা, ভঙ্গুরতা ও সমাজের বিরাজমান বৈষম্যকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছে। এ মহামারি বৈশ্বিক ক্ষুধা ও খাদ্য অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে। অনেক উন্নতির পরও শিশুদের অপুষ্টি বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে আছে। মায়েদের মধ্যে রক্তস্বল্পতা ও প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে স্থূলতা উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে।
একাত্তর/এসজে
