ক্রমেই বেড়ে চলা জ্বালানি সংকট কাটাতে ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে দেশের ডিজেলভিত্তিক সব বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন স্থগিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী।
সোমবার (১৮ জুলাই) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের একথা জানান। বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন, বিদ্যুৎ ও প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব আহমেদ কায়কাউস, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব তোফাজ্জল হোসেন।
তৌফিক-ই-এলাহী বলেন, পৃথিবীতে একটা যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে। ইউক্রেনের যে যুদ্ধ, সে যুদ্ধ কিন্তু আমাদেরও যুদ্ধ। ওই যুদ্ধের প্রভাব পড়ছে আমাদের ওপর। যাদের অর্থের অভাব নেই, তারাও কিন্তু লোডশেডিং করছে। যুক্তরাজ্যে হচ্ছে, অস্ট্রেলিয়ায় হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, উৎপাদনকে কমিয়ে খরচ যাতে সহনশীল হয়, সে পর্যায়ে নিয়ে আসার চেষ্টা করছি। ডিজেলের বিদ্যুৎ উৎপাদন আপাতত স্থগিত করলাম, তাতে অনেক টাকা সাশ্রয় হবে। মনে রাখতে হবে, ডিজেলের দাম আকাশচুম্বী হয়ে গেছে।
জ্বালানি উপদেষ্টা বলেন, আমাদের ধারণা, এক থেকে দেড় হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতি হবে। এতে দিনে এক থেকে দেড় ঘণ্টা এবং কোনো কোনো জায়গায় দুই ঘণ্টাও লোডশেডিং হতে পারে। কিন্তু দেশের বৃহত্তর স্বার্থে দুর্যোগপূর্ণ সময়ে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
তিনি জানান, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় দেশজুড়ে এলাকাভিত্তিক লোডশেডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ লোডশেডিং হতে পারে দুই ঘণ্টা পর্যন্ত। এছাড়া, রাত আটটার পর দোকানপাট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত কার্যকর করার তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী বলেন, মঙ্গলবার থেকে সারাদেশে এলাকাভিত্তিক লোডশেডিং শুরু হবে। যেসব এলাকায় লোডশেডিং থাকবে তা আগে থেকেই গ্রাহকদের জানিয়ে দেয়া হবে। দিনে অন্তত এক থেকে দুই ঘণ্টা লোডশেডিং থাকবে। সপ্তাহে একদিন পেট্রল পাম্প বন্ধ থাকবে।
আরও পড়ুন: সপ্তাহে একদিন পেট্রোল পাম্প বন্ধ, রোজ দুই ঘণ্টা লোডশেডিং
ওই সভা শেষে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু বলেন, সরকারি-বেসরকারি অফিসের সময় কমিয়ে ভার্চুয়ালি করা ও অফিসের সময় কমানো যায় কি না, সে বিষয়টিও পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এসব বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের কাছে সুপারিশ পাঠানো হবে।
একাত্তর/আরএ
