জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পেছনে আসল ক্রীড়নকদের খুঁজে বের করতে কমিশন গঠিত হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।
শনিবার জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে ধানমন্ডির ৩২ নাম্বারে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি একথা জানান। আয়োজনে ছিলো আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপকমিটি।
‘ইতিহাসের ইতিহাস: আগস্টের অমোচনীয় চিহ্ন’- শীর্ষক এই আলোচনা সভায় আইনমন্ত্রী বলেন, কমিশন কারো বিরুদ্ধে প্রতিশোধের জন্য নয়, সত্যকে জানার জন্যই গঠিত হবে।
আইনমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যার পর ইমডেমনিটি আইন তৈরি করে এই হত্যার বিচারে বাধা দেয়া হয়। সে কারণেই পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধুর খুনিরা প্রতিষ্ঠিত হয়। খুনিরা দূতাবাসে চাকরি পায়। আর এই আইন হওয়ার ফলেই খুনি ফারুক-রশিদরা ইনজয় করেছিলেন।
তিনি বলেন, ১৯৯৬ সালের অক্টোবরে আওয়ামী লীগ সরকার ইমডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল করার উদ্যোগ নেয়। পরে জাতীয় সংসদে বাতিল করা হয়। এ আইন ছিল কালো অধ্যায়।
অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, আমরা ইমডেমনিটি আইন বাতিল করে, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করেছি। আর এই আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার রোড ম্যাপ তৈরি করেছেন শেখ হাসিনা। আমরা দেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে কাজ করছি।
তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যা শুধু বঙ্গবন্ধুকেই নয়, তারা দেশকেই হত্যা করতে চেয়েছিল। আর ইমডেমনিটি আইন তৈরি মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছেন জিয়াউর রহমান।
তিনি আরও বলেন, এ দেশে সবচেয় বড় মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছেন জিয়াউর রহমান। কেন জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার বন্ধে ইমডেমনিটি করেছেন, এটা বিএনপিকে জিজ্ঞাসা করতে হবে। তিনি হাজারো সেনা অফিসারকেও হত্যা করেছিলেন।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা অংশ নেন। পরে কূটনীতিকরা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানান। একইসঙ্গে বঙ্গবন্ধু জাদুঘর পরিদর্শন করেন।
আলোচনা সভায় বঙ্গবন্ধুর খুনিদের দেশে ফিরিয়ে দিতে বিদেশি কূটনীতিকদের সহায়তাও চান আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতা ও আলোচকরা।
আরও পড়ুন: ২২ আগস্ট সারাদেশে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে বিএনপি
আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক। এতে আরো বক্তব্য রাখেন জাতীয় সংসদ সদস্য নাহিদ ইজাহার খান, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুর রহমান।
আলোচনা সভায় সভাপতি ছিলেন আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপ-কমিটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জমির। এতে আরো বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য সচিব ড. শাম্মি আহমেদ।
একাত্তর/এসি
