বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে রাষ্ট্রপতি ভবনে ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এবং উপ-রাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনখারের সঙ্গে দেখা করেছেন।
শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকে ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে দ্বি-পাক্ষিক সম্পর্ক ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সব সময় সহযোগিতা ও পারস্পরিক বিশ্বাসের মনোভাব দ্বারা পরিচালিত হয়েছে।
তিনি বলেন, দুটি দেশ ভাগাভাগি করে নেয়া ইতিহাস, ভাষা ও সংস্কৃতির দ্বারা সংযুক্ত। প্রতিবেশী দেশের উন্নয়নে নির্ভরযোগ্য অংশীদার হয়ে থাকবে ভারত।
রাষ্ট্রপতি ভবনের একটি বিবৃতিতে মুর্মু উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং প্রধানমন্ত্রী হাসিনার নেতৃত্বে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শেষ হবার পর নয়াদিল্লির রাষ্ট্রপতি ভবনে দেশটির রাষ্ট্রপতি মুর্মু এবং উপ-রাষ্ট্রপতি ধনখারের সঙ্গে দেখা করেন।
এর আগে যৌথ-সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য দ্রুত বাড়ছে। আমরা আইটি, মহাকাশ এবং পারমাণবিক খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
অন্যদিকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, নরেন্দ্র মোদি পাশে থাকলে দুই দেশের মধ্যে যে কোন সমস্যা সমাধানের পথ খুঁজে পাবে দিল্লি ঢাকা।
মঙ্গলবার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে দিল্লির হায়দরাবাদ হাউসে দুই প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপক্ষীয় বৈঠক সম্পর্কে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে বৈঠক করেছি।
বক্তব্যে ভারতকে বাংলাদেশের নিকটতম ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী হিসেবে বর্ণনা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এছাড়া, কুশিয়ারা নদীর পানির বিষয়টি সুরাহা করতে পারায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ধন্যবাদ জানান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।
দুই প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের পর বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সাতটি সমঝোতা স্মারক সই হয়। শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদির উপস্থিতিতে সমঝোতা স্মারকগুলো সই হয়।
দিনের কর্মসূচির শুরুতে আজ সকালে ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবনে শেখ হাসিনাকে গার্ড অব অনারের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা জানানো হয়।
শেখ হাসিনা রাষ্ট্রপতি ভবনে গেলে তাকে স্বাগত জানান নরেন্দ্র মোদি। দুই প্রধানমন্ত্রী করমর্দন করেন। পরে শেখ হাসিনাকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।
রাষ্ট্রপতি ভবনে শেখ হাসিনা বলেন, ‘ভারত বাংলাদেশের বন্ধু। দুই দেশ পরস্পরকে সহযোগিতা করছি। বন্ধুত্বের মাধ্যমে যেকোনো সমস্যার সমাধান হতে পারে।’
আরও পড়ুন: রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র উদ্বোধন করলেন হাসিনা-মোদি
রাষ্ট্রপতি ভবনের আনুষ্ঠানিকতার পর শেখ হাসিনা রাজঘাট গান্ধী সমাধিস্থলে গিয়ে মহাত্মা গান্ধীর প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এরপর দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীরা শীর্ষ বৈঠক বসেন।
সোমবার চার দিনের সফরে দিল্লি যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার সফরের তৃতীয় দিনে ভারতীয় ব্যবসায়ীদের এক সমাবেশে তার ভাষণ দেয়ার কথা রয়েছে।
একাত্তর/আরএ
