আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় ঝুঁকিপূর্ণ সব কটি ভোট কেন্দ্রে কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
এছাড়া ভোটের খবর সংগ্রহে সাংবাদিকদের বাধা দিলে জড়িতদের তিন বছরের জেল সাজা চায় ইসি। এজন্য গণ-প্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
রোববার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আহসান হাবিব খান নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান।
আগামী সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই নানা আলোচনায় সরগরম রাজনৈতিক অঙ্গন। ক’দিন আগেই ১৫০ আসনে ইভিএমে ভোট নেয়ার কথা জানিয়েছে কমিশন।
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও, প্রত্যাখ্যান করেছে বিএনপি। ইভিএম ব্যবহারের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে সংসদের বিরোধীদল জাতীয় পার্টিও।
ইভিএম নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই এবার ঝুঁকিপূর্ণ ভোট কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা বসাতে চায় ইসি। কমিশনার আহসান হাবিব সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে সেই ইচ্ছার কথাই জানালেন।
তিনি বলেন, সংসদ নির্বাচনে সব কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা দেওয়ার প্রচেষ্টা থাকবে। বিষয়টির সঙ্গে আর্থিক ও কারিগরি বিষয় আছে। কোথাও কোথাও বিদ্যুৎ, ইন্টারনেটও নেই। তবে ইচ্ছা আছে।
তিনি বলেন, বাজেট বরাদ্দের ঘাটতি থাকলে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে সিসি ক্যামেরা দেব। তবে, ইচ্ছা আছে পুরো নির্বাচনটাকেই সিসি ক্যামেরার মধ্যে আনা।
এই কমিশনার আরো জানান, সংসদের আগে যত নির্বাচন হবে সবগুলোতে ইভিএম ব্যবহার হবে এবং সিসি ক্যামেরা থাকবে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সিসি ক্যামেরার প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে।
নির্বাচনে কারচুপি বা সংঘাতের খবর সংগ্রহে গিয়ে কোনো সাংবাদিক নির্যাতনের শিকার হলে তার জন্যেও শাস্তির সুপারিশ করে আইন করা হচ্ছে বলেও জানান এই নির্বাচন কমিশনার।
তিনি বলেন, সাংবাদিকরা আমাদের চোখ ও কান। আপনাদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে আমরা কিন্তু আইনে নতুন একটা বিধান সংযোজন করেছি।
সেটা হচ্ছে কেউ যদি আপনাদের বাধা দেয়, মারধর করে, ইকুইপমেন্ট এবং সঙ্গী-সাথী যারা আছেন, তাদের যদি কোনো ক্ষতির চেষ্টা করে সেক্ষেত্রে সর্বোচ্চ তিন বছর এবং ন্যূনতম এক বছর জেলে বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়াও জরিমানার বিধান রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আপনাদের ক্যামেরাই আমাদের চোখ। আমাদের চোখে যেন প্রত্যেকটা অনিয়ম ধরা পড়ে, এজন্য আমরা যথাযথ ব্যবস্থা নেব। আমার ভুলগুলো আপনাদের চোখে ধরা পড়লে ব্যবস্থা নিচ্ছি। আপনারা আমার ভুল ভ্রান্তি দেখিয়ে দেন, আমি নিজেকে শুধরে নেব।
আরও পড়ুন: ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানো সেই এএসআইসহ তিনজন কারাগারে
নির্বাচন কমিশনার জানান, ঝিনাইদহ পৌরসভা নির্বাচনের ২৬৫টি ভোটকক্ষে ৩৬৫টি সিসি ক্যামেরা রাখা হয়েছিলো। সব ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
সেই ভোটের সময় ১১টা বুথে অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে এবং জড়িতদের সঙ্গে সঙ্গে আইনের আওতায় নেয়া হয় বলেও জানিয়েছেন এই কমিশনার।
একাত্তর/আরএ
