পথচারীর পকেটে মাদক দিয়ে তাকে মামলার আসামি বানানোর ঘটনায় পল্লবী থানার সহকারী উপ পরিদর্শক (এএসআই) মাহবুবুল আলমসহ তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
রোববার (১১ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মহানগর হাকিম আতাউল্লাহ শুনানি শেষে তাদের জামিন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
কারাগারে যাওয়া অপর দুই আসামি হলেন- মো. রুবেল ও মো. সোহেল রানা।
এর আগে দুই দিনের রিমান্ড শেষে তিন আসামিকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা ক্যান্টনমেন্ট থানার উপ পরিদর্শক মো. আনোয়ার হোসেন।
গত ৮ সেপ্টেম্বর এ তিন আসামিকে দুদিন করে রিমান্ডে পাঠানো হয়েছিল।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, এএসআই মাহবুবুল আলম একজন সোর্সের কাছ থেকে ইয়াবার প্যাকেট নিয়ে খলিলুর রহমান নামের এক পথচারীর পকেটে ঢুকিয়ে দেন। জোর করে ধরে নিয়ে গিয়ে এ ঘটনায় ওই পথচারীর বিরুদ্ধে পল্লবী থানায় মাদক মামলা দেয় পুলিশ।
একাত্তরের ক্যামেরা যা ধরা পড়েছিল-
সাত সেপ্টেম্বর এএসআই মাহবুবুল আলমের পথচারীর পকেটে ইয়াবা ভরে তাকে ফাঁসানোর চিত্র ধরা পড়ে একাত্তরের ক্যামেরায়।
সেখানে দেখা যায়, পল্লবী থানার সাদা পোশাকধারী এএসআই মাহবুবুল আলম একজন সোর্সের কাছ থেকে ইয়াবার প্যাকেট নিয়ে ভুক্তোভোগী খলিলের পকেটে পুরে দেন।
তারপর উল্টো তাকেই মারধর করতে করতে একটি অটো রিকশায় তুলে নেন অভিযুক্ত এএসআই।
সেসময় এএসআই মাহবুবুল আলম প্রতিবেদকের কাছে দাবি করেন, কয়েকদিন ধরেই খলিলকে ধরতে তারা অভিযান চালিয়ে আসছিল। সর্বশেষ খিলক্ষেতে এলাকায় তাকে ধরতে সক্ষম হয়েছেন। উদ্ধার হয়েছে ১৩৫ পিস ইয়াবা।
এদিকে প্রতিবেদন প্রচারের পর এএসআই মাহাবুবুলকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সে সময় বলেছিলেন, একাত্তরের সংবাদ দেখার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে এএসআই মাহবুব আলমকে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ সংশ্লিষ্ট একটি মামলাও হয়েছে।
পরে এ ঘটনায় এএসআইসহ তিনজনের বিরুদ্ধে রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করেন পল্লবী থানার উপ পরিদর্শক খালিদ হাসান তন্ময়।
একাত্তর/এসি
