গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন জানিয়েছেন নতুন রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন। দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসাবে শপথ নেয়ার দু’দিন পর বুধবার দুপুরে প্রথমবারের মতো জাতির পিতার সমাধিতে যান তিনি।
রাষ্ট্রপ্রধান তাঁর পরিবারের সদস্য ও বঙ্গভবনের কর্মকর্তাদের নিয়ে মোটর শোভাযাত্রায় পদ্মা সেতু হয়ে দুপুরে টুঙ্গিপাড়া পৌঁছান। প্রথমে জাতির পিতার সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান তিনি। এ সময় তিন বাহিনীর একটি চৌকস দল বিউগলের সুরে রাষ্ট্রীয় স্যালুট প্রদান করে।
সকাল থেকেই টুঙ্গিপাড়ায় স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা ভিড় জমাতে থাকেন বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে। উপলক্ষ বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাবেন নতুন রাষ্টপতি। বেলা বাড়ার সাথে সাথেই বাড়তে থাকে নেতা-কর্মীর সংখ্যা।
শ্লোগানে শ্লোগানে রাষ্টপতিকে অভ্যর্থনা জানান বীর মুক্তিযোদ্ধারাসহ সর্বস্তরের মানুষ। সেখানে পৌঁছে ১২টা ৪৫ মিনিটে বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন। তিনি সেখানে কিছুক্ষণ নীরবে দাড়িয়ে থাকেন।
এ সময় তিন বাহিনীর পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতিকে গার্ড অব অর্নার প্রদান করা হয়। পরে বঙ্গবন্ধুসহ পচাত্তরের ১৫ আগস্টে নিহত সব শহিদ ও মুক্তিযুদ্ধের ত্রিশ লাখ শহীদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করেন।
এরপর সমাধি কমপ্লেক্সে রখা পরিদর্শন বইতে মন্তব্য লিখে সই করেন নতুন রাষ্ট্রপতি। পরে তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকেও বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে ফুল দেয়া হয়। এরপর তিনি বঙ্গবন্ধু ভবনে যান এবং সেখানে কিছুক্ষণ সময় কাটান। পরে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাড়িতে যান এবং মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন। সেখানে কিছু সময় বিশ্রাম নেন তিনি।

বিকেল সাড়ে তিনটায় নতুন রাষ্ট্রপতি টুঙ্গিপাড়া থেকে সড়ক পথে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন। এর আগে সকাল ১০টায় বঙ্গভবন থেকে সড়ক পথে টুঙ্গিপাড়ার উদ্দেশ্যে রওনা হন। দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে তিনি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে পৌঁছান। যাবার পথে রাষ্ট্রপতি পদ্মা সেতুর মাঝখানে কয়েক মিনিট যাত্রা বিরতি করেন।
প্রচন্ড দাবদাহের পরও ১০টা ৫০ মিনিট থেকে পাঁচ মিনিট সেতুর মাঝামাঝি গাড়ি থামিয়ে সেতু এবং গ্রীষ্মে পদ্মা রূপ উপভোগ করেন এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ছবি তোলেন তিনি। পদ্মা সেতুর মাওয়া টোল প্লাজার ৬ নম্বর লেন দিয়ে রাষ্টপ্রধান সেতুতে প্রবেশ করেন।
নতুন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সফরসঙ্গী ছিলেন তাঁর সহধর্মিনী রেবেকা সুলতানা ও ছেলে মোহাম্মদ আরশাদ আদনান রনিসহ পরিবারের সদস্য, নিকট আত্মীয়, রাষ্ট্রপতির সচিবগণ এবং ঊর্ধ্বতন বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তারা।
একাত্তর/আরবি
