সরকারের স্বচ্ছ নির্বাচনে কোন দেশ সন্তষ্ট হবে আর কোন দেশ হবে না তা বাংলাদেশের বিষয় নয় বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। স্বচ্ছ নির্বাচনের জন্য সব দলের আগ্রহ থাকতে হবে উল্লেখ করে শুধু সরকারের একার পক্ষে কাজ করা সম্ভব নয় বলেও মনে করেন তিনি।
বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ইন্ডিয়ান ওশেন কনফারেন্স নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন আব্দুল মোমেন।
তিনি জানান, ষষ্ঠ ইন্ডিয়ান ওশেন কনফারেন্সে অংশ নেবেন ২৫ দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীরা। এবারের সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য শান্তি উন্নয়ন এবং সহযোগিতা। এর মাধ্যমে ভারত মহাসাগরের তীরবর্তী দেশগুলো নিজেদের উন্নয়নে পরস্পরের সহযোগী হবে বলে মনে করেন তিনি।
এই কনফারেন্সের মধ্য দিতে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে বাংলাদেশ বিশেষ অংশীদার হিসাবে নিজের অবস্থান আরো সুদৃঢ় করবে বলেও জানান মন্ত্রী।
বাংলাদেশকে গণতন্ত্রের সূতিকাগার বলে মন্তব্য করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেন, ‘বাংলাদেশে গণতন্ত্র, মানবাধিকার, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা ৩০ লাখ লোক প্রাণ দিয়েছি। গণতন্ত্র নিয়ে অন্যদের কাছ থেকে আমাদের শেখার কিছু নেই। বরং অন্যরা আমাদের থেকে শিক্ষা নেবে।’
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দেশে যারা ভোট দিতে চায়, তারা ভোট দিতে পারে। আমাদের দল আর ভোট যার যার। যাকে ইচ্ছা তাকে দেবে। এ সুযোগ করে দেয়া হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনার সরকার অঙ্গীকার করেছে, দেশে একটি স্বচ্ছ নির্বাচন করবে। এটি করতে যা যা দরকার তা আমরা করেছি। আমরা একটা স্বচ্ছ ও সুন্দর নির্বাচন করব। অন্য দেশ কী ভাবল তাতে আমাদের কিছু যায়-আসে না।’
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে কর্মসংস্থান, জলবায়ু, জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধিসহ অনেক ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে। নির্বাচনও একটি চ্যালেঞ্জ। ইউরোপে কোনো কোনো দেশে ৩০ শতাংশের বেশি লোক ভোট দেয় না। আমেরিকাতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ছাড়া ২৬ শতাংশের বেশি লোক ভোট দেয়ার নজির খুব কম।’
‘বাংলাদেশের নির্বাচনে ৭২ শতাংশের বেশি লোক ভোট দেয়। আর ভুয়া ভোট যাতে না হয় তার জন্য ছবিসহ ভোটার তালিকা করেছি আমরা, বায়োমেট্রিক সুবিধা করেছি। স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স ও শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন গঠন করে দিয়েছি।’
মোমেন বলেন, ‘স্বচ্ছ, সুন্দর নির্বাচনের জন্য সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের পাশাপাশি সব দলের কমিটমেন্ট থাকতে হবে। সবাই মিলে কমিটমেন্টটা নিশ্চিত করতে পারলেই স্বচ্ছ, সুন্দর ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করা সম্ভব।’
পররাষ্ট্রমন্ত্রী সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সদ্য সমাপ্ত ত্রিদেশীয় সফর নিয়েও কথা বলেন। বিশেষ করে যুক্তরাজ্য সফরের সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেশটির প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাকের সাক্ষাতের বিষয়টি উল্লেখ করেন মোমেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী সাক্ষাৎ করেন। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি এবং তার পরিবার শেখ হাসিনাকে ডেভেলপমেন্ট প্রাইম মিনিস্টার হিসেবে অনেক দিন ধরে অনুসরণ করেন। আওয়ামী লীগের গত ১৪ বছরের ধারাবাহিক উন্নয়ন-অগ্রযাত্রার জন্য এটি সম্ভব হয়েছে।’
দেশের দারিদ্র হার নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দারিদ্র্যের হার ৪২ শতাংশ থেকে ১৮ শতাংশে নিয়ে এসেছি। আর অতি দারিদ্র্যের হার ৫ শতাংশের নিচে নামিয়ে এনেছি। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকলে ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ একটি দারিদ্র্যমুক্ত দেশে রূপান্তরিত হবে।’
একাত্তর/এআর
