গভীর সাগর থেকে উপকূলের দিকে যত এগিয়ে আসছে, ততই শক্তি বাড়াচ্ছে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় মোখা।
শনিবার দুপুর ১২টার আবহাওয়ার বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রের ৭৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা ঘূর্ণন গতি রয়েছে ১৭০ কিলোমিটার, যা দমকা ও ঝড়ো হাওয়াসহ ১৯০ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়ছে।
ভোরে এই ঘূর্ণন গতি ছিল ১৬০ কিলোমিটার, যা ১৭৫ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়ছিল।
বৈশ্বিক আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেয়া আ্যকু ওয়েদার বলছে, ঘূর্ণিঝড় মোখার কেন্দ্রে বাতাসের একটানা ঘূর্ণন গতি রয়েছে ২১৫ কিলোমিটার। দমকা ও ঝড়ো হাওয়াসহ ২৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়ছে।
আর শক্তিশালী এই ঘূর্ণিঝড়টি প্রতি ঘন্টায় ১৯ কিলোমিটার বেগে উপকূলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
প্রচণ্ড গতিতে উপকূলে আছড়ে পড়ার আশঙ্কায় ক্ষয়ক্ষতি কমানোর জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।
কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। পায়রা সমুদ্রবন্দরে মহাবিপদ সংকেত বাড়িয়ে আট নম্বর করা হয়েছে।
আর চট্টগ্রামে আগের মতোই আট নম্বর মহাবিপদ সংকেত এবং মোংলা সমুদ্রবন্দরগুলোকে চার নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
এছাড়া দেশের ১২টি উপকূলীয় জেলায় মহা বিপদ সংকেত জারি করা হয়েছে। জেলাগুলোর মধ্যে কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা।
দুপুর বারোটায় ঘূর্ণিঝড়টি চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৭০৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে এবং কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৬৩০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছিল।
ঘূর্ণিঝড়ের সামনের অংশের প্রভাবে শনিবার সন্ধ্যা থেকেই চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগে ঝড়, বৃষ্টি শুরু হয়ে যাবে। রোববার ভোর থেকে সন্ধ্যার মধ্যে উপকূল অতিক্রম করতে পারে মোখা।
ঘূর্ণিঝড় মোখার প্রভাবে চট্টগ্রাম, বরিশাল ও সিলেট বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হবে।
আবহাওয়া অফিস বলছে, সর্বোচ্চ ৮৯ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি ঝরাতে পারে মোখা।
প্রবল বর্ষণে কক্সবাজার, চট্টগ্রামসহ বান্দরবান, রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলার বিভিন্নস্থানে পাহাড় ধসের আশঙ্কা রয়েছে।
একাত্তর/আরবি
