হ্যাকিংয়ে সাজা রেখে মানহানিতে কারাদণ্ডের বিধান বাতিল

আপডেট : ০৭ আগস্ট ২০২৩, ১০:৩৪ পিএম

বহু আলোচিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মানহানির মামলায় কারাদণ্ড দেয়া ও গ্রেপ্তার করার বিধান বাতিল করে প্রণয়ন করা হয়েছে নতুন সাইবার নিরাপত্তা আইন। এই আইনে মানহানির জন্য সাজা হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে অর্থদণ্ড। 

আর হ্যাকারদের দৌরাত্ম বেড়ে যাওয়ায় সাইবার নিরাপত্তা আইনে নতুনভাবে যুক্ত করা হয়েছে হ্যাকিংয়ের জন্য সাজা। এই অপরাধে সর্বোচ্চ ১৪ বছরের কারাদণ্ড দিতে পারবেন আদালত।

একইসঙ্গে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বহুল আলোচিত কয়েকটি অজামিনযোগ্য ধারা বাতিল করে জামিনযোগ্য করা হয়েছে। তবে নতুন সাইবার আইনেও কয়েকটি ধারা অজামিনযোগ্যই থেকে যাচ্ছে। 

সোমবার সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। এদিনই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভা বৈঠকে ‘সাইবার নিরাপত্তা আইন-২০২৩’-এর প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়।

আনিসুল হক বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপব্যবহার রোধেই নতুন আইন করা হয়েছে। আর সাইবার নিরাপত্তা আইন নতুন আইন হিসেবে এলেও আগের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করা হয়নি। 

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে যে সব মামলা হয়েছে সেগুলো চলমান থাকবে বলেও জানান তিনি। 

আইনমন্ত্রী বলেন, আগের আইনে যে সব মামলা হয়েছে তা চলবে। তবে এখন সাইবার নিরাপত্তা আইনের আদলে হবে।

জাতীয় সংসদের আগামী সেপ্টেম্বরের অধিবেশনে সাইবার নিরাপত্তা আইন পেশ করা হবে এবং সংসদে নতুন এই আইনটি পাশও হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। 

আইনে কী কী পরিবর্তন আসছে তা নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে বিস্তারিত কথা বলেন আনিসুল হক। তিনি বলেন, মন্ত্রিপরিষদ বৈঠকে তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক সাইবার নিরাপত্তা আইন উপস্থাপন করার পর এটির নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। 

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘পৃথিবীর অন্যান্য দেশে সাইবার সিকিউরিটি আইন আরো কড়া। আর পাঁচ বছর আগে করা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনটি ভুল ছিল না। তবে আমরা জনগণের কথা শুনি। তাই অপব্যবহার রোধে আইনটি সংশোধন করা হয়েছে।’

সাইবার নিরাপত্তা আইনের উল্লেখযোগ্য দিকঃ

আইনমন্ত্রী বলেন, সাইবার নিরাপত্তা সংক্রান্ত যে সব ধারা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ছিল তা নতুন আইনেও বহাল থাকবে। তবে অনেক ধারা অজামিনযোগ্য ছিল। সেগুলোতে জামিন দেওয়ার বিধান যুক্ত করা হয়েছে। 

সাইবার সিকিউরিটি আইনের ২৯ ধারায়, মানহানির জন্য সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে । তবে দণ্ডিত হয়ে কেউ জরিমানার অর্থ পরিশোধ না করতে পারলে তখন ৩ থেকে ৬ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া যাবে। 

আগের আইনের এই ধারায় সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড সঙ্গে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানার বিধান ছিল। 

আইনমন্ত্রী জানান, মানহানির মামলায় এখন গ্রেফতার করা যাবে না। ২৯ ধারা সম্পূর্ণভাবে বিলুপ্ত করা হয়েছে। শাস্তি হবে শুধু জরিমানা। জরিমানা পরিশোধে ব্যর্থ হলেই কেবল কারাদণ্ড দেয়া যাবে। 

দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতে হ্যাকারদের দৌরাত্ম বেড়ে যাওয়ায় সাইবার নিরাপত্তার আইনে হ্যাকিংয়ের অপরাধে ১৪ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। সঙ্গে রয়েছে অর্থদণ্ডও। 

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মোট ধারা রয়েছে ৫৩টি। এগুলোর মধ্যে ১৪টি ধারা অজামিনযোগ্য। এগুলো হচ্ছে- ধারা ১৭, ১৯, ২১, ২২, ২৩, ২৪, ২৬, ২৭, ২৮, ৩০, ৩১, ৩২, ৩৩ ও ৩৪।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের কার্যকর করার পর থেকেই সব থেকে আলোচনায় ছিল এই অজামিনযোগ্য ধারা। বেশিরভাগ মামলাও হয়েছে এই ধারাতেই।

এরমধ্যে ধর্মীয় উস্কানি ও অনুভূতির আঘাতে ২৮ নম্বর ধারার যে অজামিনযোগ্য বিধান ছিল তাও বদলে ফেলা হয়েছে। 

নতুন আইনে বেশ কয়েকটি ধারা জামিনযোগ্য করা হলেও আগের আইনের ১৭, ১৯, ২১, ২৭, ৩০ ও ৩৩ নম্বর ধারা অজামিনযোগ্যই থাকছে বলে জানান আইনমন্ত্রী। 

আগের আইনের ৩০ নম্বর ধারা অপরিবর্তিত রাখা হলেও ৩১ ধারায় সাজার মেয়াদ সাত বছর থেকে কমিয়ে পাঁচ বছর করা হয়েছে। আর ৩২ ধারা পাল্টে সাজার মেয়াদ কমিয়ে ১৪ বছর থেকে সাত বছরে নামিয়ে আনা হয়েছে। 


একাত্তর/আরবি 

যাদের জাতীয় পরিচয়পত্রে (এনআইডি) ভুল আছে, তাদের জরুরিভিত্তিতে ২ জানুয়ারির আগেই সংশোধন করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
পাঠ্যপুস্তক সংশোধন ও পরিমার্জনের জন্য গঠিত কমিটি বাতিল করা নিয়ে চলছে আলোচনা সমালোচনা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারের উচিত ছিলো এই কমিটি বহাল রেখে কড়া বার্তা দেওয়া।
পাঠ্যপুস্তক সংশোধন ও পরিমার্জনের জন্য গঠিত সমন্বয় কমিটি বাতিল করা হয়েছে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হককে গ্রেপ্তারের পর ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হেফাজতে রাখা হয়েছে। 
ভারতের জাতীয় রাজধানী দিল্লিতে নিট-ইউজি ২০২৬ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংসদ অভিমুখে অগ্রসর হওয়া তেলাপোকা জনতা পার্টি (সিজেপি)-র নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভকারীদের ওপর দিনভর ব্যাপক...
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া বিভিন্ন হত্যাসহ হয়রানিমূলক মামলাগুলো যাচাই-বাছাই করে প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদীয়...
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দীর্ঘদিন ধরে রাজপথে ফ্যাসিবাদ বিরোধী যুগপৎ আন্দোলনে শরিক নেতাদের উদ্দেশ্য বলেছেন, আমরা অতীতে একসাথে ছিলাম, আছি এবং একসাথেই থাকবো।
স্বাক্ষরিত জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে পালন করবে বিএনপি সরকার। যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের এমনটিই জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর