প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জনপ্রতিনিধি হিসেবে জনগণের আস্থা, বিশ্বাস ধরে রাখতে হবে। উন্নয়নের ফসল যাতে বিএনপি জামায়াত আবার নষ্ট করতে না পারে সেজন্য সবাইকে সতর্ক থাকার আহবান জানান প্রধানমন্ত্রী।
স্থানীয় সরকার দিবসে বৃহস্পতিবার গণভবনে জনপ্রতিনিধি সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি। সারাদেশ থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা এই সমাবেশে যোগ দেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করে আওয়ামী লীগ সরকার। দেশে কোনো মানুষ দরিদ্র থাকবে না এটাই সরকারে লক্ষ্য। সেই সাথে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
শেখ হাসিনা বলেন, স্থানীয় সরকারকে অর্থবরাদ্দ দিয়ে তৃণমূলের উন্নয়নে কাজ করেছে সরকার। সর্বজনীন পেনশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যাতে স্বাধীনতার সুফল সবাই ভোগ করতে পারেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপির সময় সার চাইতে গিয়ে কৃষকদের গুলি করে মেরেছিলো খালেদা জিয়া সরকার। এখন কৃষকদের সার চাইতে হয় না, কৃষকের কাছে তা পৌঁছে যায়।
বিদেশগামীরা যাতে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের সুবিধা নিয়ে বিদেশে যেতে পারেন এবং দালালের খপ্পড়ে পড়ে সর্বস্বান্ত না হন সেদিকেও লক্ষ্য রাখার আহবান জানান সরকারপ্রধান।
শেখ হাসিনা প্রত্যয়ের সঙ্গে বলেন, তার সরকার যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রভূত উন্নয়ন করেছে আর আগামীবার ক্ষমতায় আসতে পারলে আর কোন গ্রামে কোন রাস্তা যেগুলো কাঁচা রয়েছে সেগুলো আর কাঁচা থাকবে না।
তিনি বলেন, ২০০৯ থেকে ২০২৩ সালে বাংলাদেশের যে অগ্রযাত্রা এটা যেন অব্যাহত থাকে। জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ে তোলার মাধ্যমে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তুলে জাতিসংঘ ঘোষিত এসডিজি বাস্তবায়ন করে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বিশ্বদরবারে আরও উচ্চ আসনে নিয়ে গিয়ে বাংলাদেশকে আমরা এগিয়ে নিয়ে যাব বলেও এ সময় তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা ব্যর্থ হয় নাই, আমরা ব্যর্থ হতে দেব না। আমাদের বাংলাদেশ, আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি এগিয়ে যাবে।
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মো. তাজুল ইসলামের সভাপতিত্বেক প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মুহম্মদ ইবরাহিম স্বাগত বক্তৃতা করেন।
আরও বক্ত্য রাখেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র শে0খ ফজলে নূর তাপস, রাজশাহী সিটি কর্পোারেশনের মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী, খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীসহ স্থানীয় সরকারের পাঁচটি স্তরের বিভিন্ন জনপ্রতিনিধিরা।
সরকার প্রতিবছর ২৫ ফেব্রুয়ারিকে ‘জাতীয় স্থানীয় সরকার দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। ‘সেবা ও উন্নতির দক্ষ রূপকার, উন্নয়নে-উদ্ভাবনে স্থানীয় সরকার’- এই স্লোগান নিয়ে দিবসটি উদযাপন করা হচ্ছে। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহিতা, কর্মতৎপরতা, গুরুত্ব ও সর্বোপরি জনসচেতনতা তৈরি এবং স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে জনগণের সম্পৃক্ততা বাড়াতে দিবসটি উদযাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ বছর প্রথম বর্ষ হিসেবে এ কর্মসূচি ১৪ সেপ্টেম্বর পালিত হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী ডেঙ্গু প্রতিরোধে সকলের সচেতনতার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, এখন মশার উপদ্রব, ডেঙ্গুর উপদ্রব। এই ক্ষেত্রে আমি মনে করি, সকলেরই কিছু করণীয় আছে। আপনারা নিশ্চয়ই যার যার নিজের ঘর-বাড়ি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখবেন এবং মশার হাত থেকে বাঁচতে হলে মশারির ব্যবস্থা করতে হবে। নিজেদের সচেতন হতে হবে, শুধু মশা মেরেই শেষ করা যাবে না। নিজেদেরও সচেতনতা সৃষ্টি করার জন্য আমি আন্তরিকভাবে আহবান জানাচ্ছি।
প্রধানমন্ত্রী দেশে ১৬ লাখ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য মজুদ রয়েছে বলে জানিয়ে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার আহবান পুণর্ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, যে টাকা খরচ হয় বিদ্যুৎ উৎপাদনে তার তুলনায় অল্প টাকা ধরা হয়, ভর্তুকি দেওয়া হয়। এখানে বড়লোকরাই সুবিধা ভোগ করে। সেই কারণে তিনি সাধারণ মানুষের বিদ্যুৎ ব্যবহারে একটি সুরক্ষা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, আমি ইতোমধ্যে নির্দেশ দিয়েছি, আমাদের সাধারণ মানুষ যেভাবে ব্যবহার করে তাদের জন্য একটা সুরক্ষার ব্যবস্থা থাকবে। আর যারা অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার করে একটা লেভেলে উঠে গেলে তার দামও বাড়বে। সেই ব্যাপারটা আমরা আস্তে আস্তে করে ফেলব। তাহলে যারা অল্প খরচ করে তাদের সুরক্ষা দিতে পারব। যারা বেশি ব্যবহার করে তারা বেশি টাকা দেবে ।
শেখ হাসিনা সারাদেশ থেকে আসা জনপ্রতিনিধিদের উদ্দেশে বলেন, আপনারা তৃণমূল পর্যায়ের জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি। আপনাদের উপস্থিতিতে গণভবনের মাটি ধন্য হয়েছে। তৃণমূল মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে আপনারা এখানে এসে বক্তব্য দিয়েছেন, আপনাদের আমি ধন্যবাদ জানাই।
জাতীয় স্থানীয় সরকার দিবস: গণভবনে জনপ্রতিনিধিরা