দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গতিতে ট্রেন ছোটানোর পর এবার পাথর বোঝাই নিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে পদ্মা সেতু পার হলো আরেকটি ট্রেন।
ইঞ্জিনসহ ছয় বগিতে ৩০০ টনের বেশি পাথর নিয়ে শনিবার সকালে দেশের সবচেয়ে বড় সেতুটি পার হয়েছে পণ্যবাহী একটি ট্রেন।
পদ্মা সেতু দিয়ে রেল যোগাযোগ উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে। আর এ সময়েই নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে রেল ট্রাকটির সক্ষমতা যাচাই করা হচ্ছে।
পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের মাওয়া-ভাঙ্গা অংশের প্রকল্প পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাঈদ আহমেদ বলেন, পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের ঢাকা-ভাঙ্গা অংশে রেল চলাচলের চূড়ান্ত প্রস্তুতি হিসেবে এই পরীক্ষামূলক ট্রেন চলাচল করছে।
শনিবার সকাল সাতটা ৩০ মিনিটে ফরিদপুরের ভাঙ্গা থেকে রওনা হয় পরীক্ষামূলক পাথরবাহী ট্রেনটি। ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার গতিসীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়।
সেখান থেকে রওনার পর পদ্মা সেতু পার হয়ে মুন্সীগঞ্জের মাওয়া রেল স্টেশনে পৌঁছায় নয় টার দিকে। পরে ইঞ্জিনের দিক পরিবর্তন করে আবার সাড়ে নয়টায় মাওয়া থেকে ভাঙ্গার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। ফিরে যাওয়ার সময় গতি নির্ধারণ করে দেয়া ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৮০ কিলোমিটার।
বিকালে আরেক দফা পরীক্ষামূলক ট্রেনটি ভাঙ্গা থেকে মাওয়া এবং মাওয়া থেকে ভাঙ্গা আসা-যাওয়া করার কথা রয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাঈদ।
গত বছর জুনে পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের পর সড়ক পথে যান চলাচল করছে। ঢাকা মাওয়া রেল লাইন নির্মাণকাজ শেষ হওয়ায় এখন ট্রেন চলাচল আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে।
আগামী ১০ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদ্মা সেতু রেলপথ দিয়ে ঢাকা-ভাঙ্গা দ্রুতগতির ট্রেন চলাচল উদ্বোধন করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
শুক্রবার সকাল সাড়ে সাতটায় পদ্মা সেতু হয়ে মাওয়া-ভাঙ্গা রেলপথে পরীক্ষামূলক যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল শুরু হয়। ট্রেনটি ফরিদপুরের ভাঙ্গা রেলস্টেশন থেকে যাত্রা শুরু করে মুন্সীগঞ্জের মাওয়া স্টেশনে গিয়ে পৌঁছায়।
একইসঙ্গে চলে পদ্মা সেতু রেলপথ দিয়ে সর্বোচ্চ গতিতে ট্রেন চলাচলের মহড়া। দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ১২০ কিলোমিটার গতিতে চালানো হয় পরীক্ষামূলক যাত্রীবাহী ট্রেন।
মাত্র তিন মিনিটেই ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মা সেতু পার হয়ে যায় পরীক্ষামূলক ট্রেন।
পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের ট্র্যাক ইঞ্জিনিয়ার সৈয়দ শওকত আলী লেবু বলেন, ‘আমরা ট্র্যাকের সক্ষমতা পরীক্ষা করেছি এবং সফল হয়েছি। আমাদের এ ট্র্যাক ১২০ কিলোমিটার গতিতে ট্রেন চলাচলের উপযোগী।’
পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার নতুন দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানী ঢাকার সরাসরি যোগাযোগ স্থাপিত হয়েছে।
এই সেতু দিয়ে রেল যোগাযোগ চালু হওয়ার মধ্য দিয়ে দেশের যোগাযোগ খাতেও বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসতে চলেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। রাজধানীর সঙ্গে খুলনা, বরিশাল ও ঢাকা বিভাগের ২১ জেলার সরাসরি যোগাযোগ স্থাপিত হতে যাচ্ছে।
ঢাকা থেকে ভাঙ্গা হয়ে রাজবাড়ী, গোপালগঞ্জ, খুলনা, যশোর, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা এবং রাজশাহীসহ উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে এই রুটে রেল যোগাযোগ শুরু হবে।
মোংলা বন্দর এবং চুয়াডাঙ্গার দর্শনা ও যশোরের বেনাপোল রুট দিয়ে ভারতের সঙ্গেও রেল যোগাযোগ স্থাপিত হবে এই রুটে। পর্যায়ক্রমে পায়রা বন্দরসহ আরও নতুন নেটওয়ার্ক যুক্ত হবে পদ্মা সেতুর রেললাইনে।
ঢাকা-ভাঙ্গা ৮২ কিলোমিটার রেলপথে কোনো লেভেল ক্রসিং থাকছে না।
ভাঙ্গা থেকে পদ্মা সেতু পার হয়ে মাওয়া পৌঁছালো ট্রেন
ঢাকা-ভাঙ্গা রুটে ১২০ কি.মি. বেগে পরীক্ষামূলক ট্রেন চলাচল