কে কে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী হচ্ছে তা জানিয়ে দেওয়া হয়েছে আগেই। এখন বাকি শপথ নেওয়া। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শপথ নিতে যাচ্ছে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার।
টানা চারবারের মতো সরকার গঠন করে রেকর্ড করতে যাচ্ছে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ। আর শেখ হাসিনার পঞ্চমবারের প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন ।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় বঙ্গভবনের দরবার হলে নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পড়াবেন। নিয়ম অনুযায়ী প্রথমে প্রধানমন্ত্রী শপথ নেবেন। এরপর পর্যায়ক্রমে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীরা শপথ নেবেন।
প্রধানমন্ত্রীসহ নতুন মন্ত্রিসভার আকার দাঁড়িয়েছে ৩৭ জনে। তাদের মধ্যে ২৫ জন পূর্ণ মন্ত্রী। আর ১১ জন পাচ্ছেন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব।
শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করবেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. মাহবুব হোসেন। বুধবার তিনি নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের নাম প্রেস ব্রিফিং করে জানিয়ে দেন। তবে কে কোন দপ্তরের ভার পাচ্ছেন তা শপথের পর জানা যাবে বলে সাংবাদিকদের বলেছেন তিনি।
বিদায়ী সরকারে থাকা ১৪ মন্ত্রী এবং ১২ প্রতিমন্ত্রী এবং দুই জন উপমন্ত্রীর নতুন মন্ত্রিসভায় স্থান হয়নি।
গতবারের মত এবারও শেখ হাসিনার নতুন মন্ত্রিসভার সবাই আওয়ামী লীগের, শরিক দলের কাউকে রাখা হয়নি।
নতুন মন্ত্রিসভা শপথ নেওয়ার সাথে সাথেই ২০১৯ সালের ৭ জানুয়ারি গঠিত সরকারের দায়িত্ব শেষ হবে। যারা মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় উপদেষ্টা ছিলেন, মন্ত্রিসভার শপথের আগেই তাদের অব্যাহতি দেয়া হবে।
রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদীন একাত্তরকে বলেন শপথ আয়োজনের সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রায় ১৩০০ অতিথিসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রস্তুতি নিয়েছে বঙ্গভবন। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত কূটনীতিক, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিসহ অতিথিদের আমন্ত্রণপত্র পাঠিয়েছেন।
প্রেস সচিব জানান, দরবার হলে মন্ত্রিসভার নতুন সদস্যদের শপথ মঞ্চ প্রস্তুত হয়েছে। সামনের সারিতে অতিথিদের কে কোথায় বসবেন তাদের নামের ট্যাগ লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে।
একসঙ্গে শপথ নেওয়ার সুবিধার জন্য মাইক স্ট্যান্ড বসানো হয়েছে। শপথ অনুষ্ঠান শেষে বঙ্গভবনের মাঠে আপ্যায়নের ব্যবস্থা থাকবে।
গত ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ২২২টি, জাতীয় পার্টি ১১টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৬২টি এবং আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের শরিক ওয়ার্কার্স পার্টি ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) একটি করে আসন পেয়েছে। একটি আসনে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি।
বুধবার ২৯৮ জন সংসদ সদস্য স্পিকারের কাছ থেকে শপথ নেন। সেদিনই আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের বৈঠকে শেখ হাসিনাকে সংসদ নেতা নির্বাচিত করা হয়।
শেখ হাসিনা বুধবার বিকেলে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করতে গেলে টানা চতুর্থ মেয়াদে তাকে সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান রাষ্ট্রপতি।
যেসব আলোচনার মধ্যে বাদ পড়লেন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা 