দুই সপ্তাহ ঘরে আবদ্ধ থাকার পর ঈদকে উপলক্ষ করে মানুষকে ঘরের বাহিরে বের হয়ে দেশব্যাপি বিচরণের যে সুযোগ দেওয়া হল, তা আসলে মানুষের নয় করোনাকেই ছুটি দেয়া বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। গত দুই সপ্তাহের বিধিনিষেধে দেশের বিভিন্ন এলাকায় করোনার সংক্রমণ যতোটুকু সীমাবদ্ধ করে রাখা গিয়েছিল তা মূলত এখন বাঁধভাঙা হয়ে গেল। তাই মানুষের ঈদ উদযাপন নয়, যেন শুরু হল করোনার আট দিনের ছুটি উদযাপন।
করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঊর্ধগতি ও অধিক মৃত্যুর প্রেক্ষাপটে পহেলা জুলাই থেকে শুরু হওয়া দুই ধাপের কঠোর বিধিনিষেধ শেষে শুরু হল আট দিনের শিথিলতা। সরকার ঘোষিত সর্বশেষ প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, কোরবানির ঈদ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (১৫ জুলাই) থেকে ২৩ জুলাই সকাল পর্যন্ত কার্যকর থাকবে এই আদেশ।
করোনাভাইরাস মহামারি প্রতিরোধে গঠিত জাতীয় পরামর্শক কমিটির দেয়া নির্দেশনা ও সুপারিশকে পাশ কাটিয়ে আট দিনের এই শিথিল অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে মূলত পাঁচটি কারণে। এগুলো হল- পবিত্র ঈদুল আযহা উদযাপন, জনসাধারণের যাতায়াত, ঈদ পূর্ববর্তী ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা, দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থা এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা।
আরও পড়ুন: শিমুলিয়া ঘাটে উপেক্ষিত স্বাস্থ্যবিধি
সরকার বলছে, কিছু বিষয়ে শিথিলতা থাকলেও সার্বিকভাবে জনসাধারণকে স্বাস্থ্যবিধি মানাতে এসময়ও কার্যক্রম ও প্রচারণা চলবে। দেশব্যাপি গণটিকাদান কর্মসূচী চলার পাশাপাশি এসময় কঠোর বিধিনিষেধ চলাকালীন সময়ের মতোই যেকোন পর্যটন স্পটে যাতায়াত, সামাজিক-ধর্মীয়-রাজনৈতিক সমাবেশ ও জনসমাগম পরিহার করতে বলা হয়েছে।
পাশাপাশি, ঈদকে কেন্দ্র করে সবচেয়ে জরুরী যে বিষয় কোরবানির হাট, তা নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনাতেও নানাবিধ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। অনলাইন হাট চালুর পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে বসা হাটগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পাশাপাশি শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ যেকোন মানুষের আসা নিষেধ করা হয়েছে।
আট দিনের এই শিথিল অবস্থায় দেশের সড়ক, নৌ, রেল, আকাশ পথে সবরকম যানবাহন চলাচন করবে, দোকানপাট-শপিংমল-মার্কেট খোলা থাকবে, সবরকম শিল্প-কারখানা চালু থাকবে। এসব কারণে করোনা আক্রান্ত রোগী বা রোগীর সংস্পর্শে আসা ব্যক্তির জন্য দেশের এক প্রান্ত থেকে ওপর প্রান্ত পর্যন্ত অবাধ চলাচলের যে সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে তা সামনে করোনার সংক্রমণ ও মৃত্যুহার ভয়ঙ্করভাবে বেড়ে যাওয়ার আভাস দিচ্ছে।
আরও পড়ুন: চট্টগ্রাম থেকে ট্রেন চলাচল শুরু
এই পরিস্থিতিতে সরকার আগামী ২৩ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত আবারও দুই সপ্তাহের কঠোর বিধিনিষেধের ঘোষণা দিয়েছে। এসময় দেশের সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, বেসরকারি অফিস বন্ধ থাকবে, বন্ধ থাকবে গণপরিবহন ও পোশাক কারখানাসহ সকল ধরণের শিল্প প্রতিষ্ঠান।
কঠোর বিধিনিষেধের এই ১৪ দিনে দেশে রেকর্ড সংখ্যক এক লাখ ৪৭ হাজার ২৮০ জন নতুন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এই ১৪ দিনে একাধিকবার রেকর্ড ভেঙেছে আবার নতুন রেকর্ড তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে একদিনে সর্বাধিক ১৩ হাজার ৭৬৮ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয় ১২ জুলাই। দেশে এপর্যন্ত শনাক্ত মোট রোগী দশ লাখ ৬০ হাজার ৫৩৮ জন।
এদিকে কঠোর বিধিনিষেধের এই ১৪ দিনে দেশে মৃত্যুরও নতুন রেকর্ড হয়েছে। এসময় মোট মৃত্যু হয়েছে দুই হাজার পাঁচ শত ৪৯ জনের। মৃত্যুর রেকর্ডেও এসময় ভাঙাগড়া পরিলক্ষিত হয়। একদিনে সর্বোচ্চ ২৩০ জনের মৃত্যু হয় ১১ জুলাই। দেশে করোনাভাইরাসে এখন পর্যন্ত মোট মৃত্যু হয়েছে ১৭ হাজার ৫২ জনের।
