দুই সপ্তাহের কঠোর বিধিনিষেধ শেষে শুরু হওয়া ঈদ যাত্রার প্রথম দিনে মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়া ঘাটে বেড়েছে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ। তবে উপেক্ষিত হচ্ছে স্বাস্থ্যবিধি।
বৃহস্পতিবার (১৫ জুলাই) সকাল থেকেই দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষেরা লঞ্চে করে পদ্মা পাড়ি দিতে শুরু করেছে। তবে কোন লঞ্চেই স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছেনা।
বিআইডব্লিউটিএ-এর শিমুলিয়া লঞ্চ ঘাটের ট্রাফিক ইনস্পেক্টর মো. সোলাইমান জানান, এই পথে ৮৭টি লঞ্চ থাকলেও, ১০টি লঞ্চের কাগজপত্র হালনাগাদ না থাকায় ৭৭টি লঞ্চ দিয়ে যাত্রী পারাপার করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, যাত্রীরা বেপরোয়া হওয়ার কারণে স্বাস্থ্যবিধি মানাতে খানিকটা কষ্ট হচ্ছে। তবে বিধিনিষেধ না মানার কারণে চৌধুরী নেভিগেশন ও সালমা লঞ্চ দুইটির ট্রিপ বাতিল করে দিয়েছে বিআইডব্লিউটিএ।
আরও পড়ুন: চট্টগ্রাম থেকে ট্রেন চলাচল শুরু
এদিকে এই নৌ রুটে ১১টি ফেরি চলাচল করছে। পারাপারের অপেক্ষায় ঘাটে তিন শতাধিক যানবাহন অপেক্ষায় রয়েছে বলেও জানান তিনি।

করোনাভাইরাসের ঊচ্চ সংক্রমণ ও মৃত্যুর মধ্যেই সরকার ১৫ তারিখ থেকে ২৩ তারিখ সকাল পর্যন্ত বিধিনিষেধ শিথিল করায় শুরু হয়েছে নৌ, সড়ক ও রেলপথে গণপরিবহনে যাত্রী চলাচল। একারণে ঈদে উপলক্ষ্যে প্রতিটি পথেই শুরু হয়েছে যাত্রীদের চাপ।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনাভাইরাসের বর্তমান পরিস্থিতিতে যদি আগের মতো স্বাস্থ্যবিধিকে তোয়াক্কা না করে যাত্রীরা চলাচল করে তাহলে ঈদের পর ভাইরাস ভয়ঙ্কররূপে হাজির হতে পারে।
আরও পড়ুন: করোনার আট দিনের ছুটি শুরু
এদিকে, কঠোর বিধিনিষেধের গত দুই সপ্তাহে দেশে রেকর্ড সংখ্যক এক লাখ ৪৭ হাজার ২৮০ জন নতুন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে একদিনে সর্বাধিক ১৩ হাজার ৭৬৮ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয় ১২ জুলাই। দেশে এপর্যন্ত শনাক্ত মোট রোগী দশ লাখ ৬০ হাজার ৫৩৮ জন।
একইসময়ে দেশে মৃত্যুরও নতুন রেকর্ড হয়েছে। এসময় মোট মৃত্যু হয়েছে দুই হাজার পাঁচ শত ৪৯ জনের। একদিনে সর্বোচ্চ ২৩০ জনের মৃত্যু হয় ১১ জুলাই। দেশে করোনাভাইরাসে এখন পর্যন্ত মোট মৃত্যু হয়েছে ১৭ হাজার ৫২ জনের।
একাত্তর/আরএইচ
