বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে চলমান উত্তেজনাকে সামরিক নয়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি হিসেবে দেখছেন নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক এয়ার কমডোর (অব.) ইশফাক ইলাহী চৌধুরী।
বৃহস্পতিবার একাত্তর টেলিভিশনের নিয়মিত আয়োজন একাত্তর মঞ্চে যুক্ত হয়ে এ বিষয়ে কথা বলেন এ নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক।
অনুষ্ঠানের সঞ্চালক ও একাত্তর টেলিভিশনের সম্পাদকীয় প্রধান নূর সাফা জুলহাজ প্রশ্ন করেন, মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘাত যদি বাংলাদেশের সীমান্ত গড়িয়ে দেশের ভেতরে চলে আসে, সেখানে আমাদের কী রকম সতর্কতা ও কৌশল থাকা দরকার?
এ প্রশ্নের জবাবে এয়ার কমডোর (অব.) ইশফাক ইলাহী চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের সামরিক বাহিনী আমাদের সীমান্ত সুরক্ষায় প্রস্তুত রয়েছে। মিয়ানমার সীমান্ত পরিস্থিতি মোকাবেলার করার জন্য আমাদের আধাসামরিক বাহিনী, সামরিক বাহিনী, বিমান বাহিনীসহ নৌবাহিনী যথেষ্ট ক্ষমতাসীন।
তিনি আরও বলেন, কোনো ধরনের আগ্রাসনে আমরা প্রতিহতই শুধু করবো না, তার সমুচিত জবাব দেয়ার জন্য আমরা অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন যথেষ্ট শক্তিশালী।
বাংলাদেশ-মিয়ানিমার সীমান্তে সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি কী হতে পারে, সঞ্চালকের এমন প্রশ্নে এ বিশ্লেষক বলেন, মিয়ানমারের জান্তা সরকারের পতন হবে। আমি মনে করি সেটা শুরু হয়েছে। জান্তা সদস্যরা যুদ্ধ না করে গত কয়েকদিনে যেভাবে বাংলাদেশে পালিয়ে আসছে, খুব সামান্য সংখ্যক আহত হয়েছে। সবাই তাদের সামরিক ঘাঁটি ছেড়ে অস্ত্র নিয়ে বা অস্ত্র ফেলে বাংলাদেশের দিকে পালিয়ে আসছে।
মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর অস্ত্রশস্ত্র থাকতেই পারে উল্লেখ করে এ অবসরপ্রাপ্ত এয়ার কমডোর আরও বলেন, কিন্তু তাদের কুশাসন, ধর্ষণ এবং গণহত্যার ফলে তাদের আভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্ব তলানিতে ঠেকেছে। সুতরাং তাদের নিয়ে হুমকি বা চিন্তার কারণ নেই।
এর আগে ২০২০ সালের ৮ নভেম্বর মিয়ানমারের পার্লামেন্টারি নির্বাচনে অং সান সুচির ক্ষমতাসীন দল ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) ৪১২ আসনের মধ্যে ৩৪৬টিতে জয় পায়। কিন্তু অধিবেশন শুরুর প্রাক্কালে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করে এক বছরের জন্য জরুরি অবস্থা জারি করেছে দেশটির সেনাবাহিনী।
এরপর ২০২১ সালের পহেলা ফেব্রুয়ারি মিয়ানমারের জান্তা বাহিনী ক্ষমতা দখল করে। এরপর থেকে তাদের নিপীড়ন-নির্যাতন ও হামলায় অন্তত সাড়ে চার হাজার বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে। বন্দী করা হয়েছে ২৫ হাজার মানুষকে। জান্তা বাহিনীর নৃশংস হামলায় মিয়ানমার জুড়ে অন্তত ৭৮ হাজার বাড়িঘর ধ্বংস হয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে আরাকান আর্মিসহ দেশটির একাধিক গণতন্ত্রপন্থি সংগঠন জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করে।
এদিকে সরকারি বাহিনীর সঙ্গে মিয়ানমারের বিদ্রোহীদের রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ের মধ্যে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের সংখ্যাও বাড়ছে। বিদ্রোহীদের আক্রমণের মুখে মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষীরা দলে দলে আশ্রয় নিচ্ছে বাংলাদেশে।
এছাড়া ওপারের সংঘর্ষের জেরে প্রায়ই সীমান্ত পেরিয়ে গুলি ও মর্টার শেল উড়ে এসে পড়ছে বাংলাদেশে। এতে এখন পর্যন্ত তিন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। সংঘর্ষ প্রবণ সীমান্ত এলাকা থেকে এরইমধ্যে বহু মানুষকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।
সাগরপথেই ফেরত যাবে মিয়ানমারের রক্ষীরা
অনুপ্রবেশ নিয়ে আর উদারতা নয়: কাদের 