সোমালি জলদস্যুদের হাতে বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজ এমভি আবদুল্লাহ আগের নোঙর করা অবস্থান পরিবর্তন করেছে। জলদস্যুরা এদিন নাবিকদের জাহাজের স্যাটেলাইট ফোন ব্যবহার করে পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলতে দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন তাদের স্বজনরা। নাবিকদের সাথে কথা বলতে জাহাজে ইংরেজি ইন্টারপ্রিটারও নিয়োগ করেছে জলদস্যুরা।
শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে আগের অবস্থান থেকে আরও ৪০ নটিক্যাল মাইল দূরে জাহাজটি নোঙর করা হয়েছে। তবে এটি সোমালিয়ান জলসীমার মধ্যেই অবস্থান করছে বলে নিশ্চিত করেছে মালিকপক্ষ।
এর আগে, বৃহস্পতিবার প্রথমে সোমালিয়ার গ্যারাকাদ উপকূল থেকে ২০ নটিক্যাল মাইল দূরে জিম্মি জাহাজটি নোঙর করেছিল দস্যুরা। এরপর সন্ধ্যার দিকে উপকূল থেকে ৭ নটিক্যাল মাইল দূরে নোঙর করে রাখে।
মেরিটাইম বিশেষজ্ঞদের ধারণা, সোমালিয়ার স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশে জাহাজটি স্থান পরিবর্তন করেছে।
এদিকে জাহাজটির চিফ অফিসার আতিক উল্লাহ খান তার স্ত্রীর সাথে স্যাটেলাইট ফোনে কথা বলেছেন আজ সন্ধ্যার আগে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে তার ভাই মো. আসিফ জানান, নাবিকরা সুস্থ রয়েছেন। তবে জাহাজে খাবার পানির সংকট তৈরি হবে বলে জানিয়েছেন তার ভাই।
কবীর গ্রুপের মিডিয়া ফোকাল পার্সন মিজানুল ইসলাম জানান, জাহাজটি আগের অবস্থান থেকে অনেক সরে গেছে। সিকিউরিটি বা অন্য কোনো কারণে জলদস্যুরা হয়ত অবস্থান পরিবর্তন করছে।
পুরো জাহাজ নিয়ন্ত্রণে রাখতে জাহাজের বিভিন্ন অবস্থানে একে-৪৭ ও মেশিনগানসহ নিরাপত্তা প্রহরী বসানো হয়েছে বলেও নাবিকরা জানিয়েছেন তাদের সহযোগী বিভিন্ন নাবিক সংগঠনের কর্মকর্তাদের।
এর আগে মোজাম্বিক থেকে ৫০ হাজার টন কয়লা নিয়ে দুবাই যাওয়ার পথে গত মঙ্গলবার বেলা দেড়টায় জলদস্যুদের কবলে পড়ে এমভি আবদুল্লাহ। যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনের তথ্য অনুযায়ী, এ সময় জাহাজটির অবস্থান ছিলো সোমালিয়ার রাজধানী মোগাদিসু থেকে ৬০০ নটিক্যাল মাইল পূর্বে ভারত মহাসাগরে।
জাহাজটি চট্টগ্রামের কবির গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান এস আর শিপিং লিমিটেডের মালিকানাধীন। ৯ মাস আগে গ্রুপের বহরে যুক্ত হয়েছিল জাহাজটি।
দশ বছর আগেও আরব সাগর থেকে সোমালিয়ার জলদস্যুদের কবলে পড়েছিলো কবির গ্রুপেরই জাহাজ ‘এমভি জাহান মনি’। নানা দর কষাকষি করে তিন মাস ১০ দিন পর সেই জাহাজ ও জিম্মি নাবিকদের দেশে ফেরানো হয়েছিলো।
নাবিক ও জাহাজ মুক্ত করতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চলছে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
জিম্মি জাহাজে ১২ দস্যু, কার্যক্রম চালাচ্ছে তিন আস্তানা থেকে