করোনাকালে জাতীয় ঈদগাহে এবারও কোন ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়নি। তবে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঈদুল আজহার দুইটি জামাত। আরও তিনটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে এখানে। স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে এখানে ঈদের মানাজ আদায় করছেন মুসল্লিরা।
বুধবার (২১ জুলাই) সকাল ৭টায় প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এরপর জামাত অনুষ্ঠিত হয় সকাল ৮টায়।
প্রথম জামাতে ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররমের সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মুফতি মো. মিজানুর রহমান। মুকাব্বির হিসেবে তার সঙ্গে ছিলেন বায়তুল মোকাররম মসজিদের মুয়াজ্জিন মো. আতাউর রহমান।
নামাজ শেষে মোনাজাতে মুফতি মো. মিজানুর রহমান দেশ-জাতির মঙ্গল কামনায় আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন। তিনি বলেন, 'করোনাভাইরাস মহামারির পরীক্ষা থেকে আল্লাহ যেন আমাদের হেফাজত করেন। আল্লাহ যেন মুসলিম উম্মাকে তথা দুনিয়াকে হেফাজত করেন, আমরা সেই মোনাজাত করি।'
আরও পড়ুন: ঈদের খাবার কেমন হওয়া উচিৎ
দ্বিতীয় জামাতে ইমামতি করেন জাতীয় মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মুফতি মুহিব্বুল্লাহিল বাকী নদভী। এতে মুকাব্বির হিসেবে ছিলেন মসজিদের মুয়াজ্জিন হাফেজ ক্বারী কাজী মাসুদুর রহমান।
ঈদের তৃতীয় জামাত অনুষ্ঠিত হয় সকাল ৯টায়। এতে ইমামতি করেন জাতীয় মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা এহসানুল হক। মুকাব্বির হিসেবে থাকবেন মসজিদের মুয়াজ্জিন হাফেজ ক্বারী হাবিবুর রহমান মেশকাত।
ঈদের চতুর্থ জামাত অনুষ্ঠিত হয় সকাল ১০টায়। এতে ইমামতি করেন জাতীয় মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মহিউদ্দিন কাসেম। মুকাব্বির হিসেবে ছিলেন জাতীয় মসজিদের মুয়াজ্জিন ক্বারী মো. ইসহাক।
পঞ্চম ও সর্বশেষ জামাত অনুষ্ঠিত হয় সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে। এ জামাতে ইমামতি করেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মুহাদ্দিস হাফেজ মাওলানা ওয়ালিয়ূর রহমান খান। মুকাব্বির হিসেবে ছিলেন জাতীয় মসজিদের প্রধান খাদেম মুক্কাব্বির মো. শহিদুল্লাহ।
আরও পড়ুন: ঈদের মর্মবাণী ধারণ করে সমৃদ্ধ দেশ গড়ার আহবান প্রধানমন্ত্রীর
ঈদের নামাজ শেষে কোলাকুলি করার রেওয়াজ থাকলেও করোনার কারণে মুসল্লিরা তা থেকে বিরত থাকেন। তারা সালাম বিনিময় করে পরস্পরকে ঈদের শুভেচ্ছা জানান।
জাতীয় মসজিদে ঈদের জামাতে অংশগ্রহণের জন্য রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মুসল্লিরা সকালবেলায় ছুটে আসেন। এসময় মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, কূটনীতিক, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপসও নামাজে অংশগ্রহণ করেন।
করোনাকালে দেশবাসী এটি চতুর্থ ঈদ উদযাপন করছে। সরকারের পক্ষ থেকে সবরকম স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে ঈদ উদযাপনের আহ্বান জানানো হয়েছে। এদিকে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঈদের কারণে বিপুল সংখ্যক মানুষের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাতায়াতের কারণে আগামীতে দেশে করোনাভাইরাসের বিস্ফোরণ ঘটার শঙ্কা রয়েছে।
একাত্তর/আরএইচ
