যে কোনো দুর্ঘটনার পর দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলে কর্তৃপক্ষ। গাজীপুরের রেল দুর্ঘটনার পর সেই একই পথে হেঁটেছেন রেলমন্ত্রী মো. জিল্লুল হাকিমও। তবে যোগাযোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অদক্ষ ও ভাড়া করা লোকের ওপর দায় চাপিয়ে কর্তৃপক্ষের দায়মুক্তির কারণেই রেলের দুর্ঘটনা থামানো যাচ্ছে না। রেল সেবার জন্য জরুরি কাজ রেখে বাহারি সব প্রকল্পে আগ্রহী কর্তৃপক্ষ, অভিযোগ তাদের।
গাজীপুরের রেল দুর্ঘটনার প্রাথমিক কারণ ভুল সতর্কবার্তা। কিন্তু এই ভুল যিনি করছেন তিনি রেলের একজন অস্থায়ী কর্মচারী। দুর্ঘটনার পরই সেই কর্মচারীসহ তিনজনকে বরখাস্ত করে দায় সেরেছে রেল কর্তৃপক্ষ।
এর আগেও বেশ কয়েকটি রেল দুর্ঘটনায় নীচু পদের কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। কিন্তু অদক্ষ লোকের হাতে এমন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব যারা দিয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার নজির নেই।
প্রতিবারের মতো এবারও সেই পথে হাঁটছে রেল কর্তৃপক্ষ। আর রেলমন্ত্রী জিল্লুল হাকিম বলছেন- দক্ষ জনবলের অভাবের কথা।
তাছাড়া তিনি এও জানান, কেউ শাস্তিযোগ্য অপরাধ করলে তাকে কোনো ধরনের ছাড় দেয়া হবে না।
যোগাযোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দক্ষ জনবল তৈরি করতে না পাড়ার দায় রেলওয়ের। বাহরি সব প্রকল্প আগ্রহ থাকলেও রেলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কাজে আগ্রহ নেই তাদের।

যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামান বলেন, যারা অদক্ষ লোকদের দিয়ে কাজ করাচ্ছেন তারা কিন্তু দায় নিচ্ছেন না। কর্তৃপক্ষকে এ দায়টা নিতে হবে।
রেলের দুর্ঘটনা রোধের জন্য সবার আগে দরকার প্রযুক্তি। কিন্তু রেল নিজের সক্ষমতা না বাড়িয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরশীল। আর এটাই দুর্নীতির প্রধান কারণ, দাবি হাদিউজ্জামানের।
গত ১৪ বছরে রেলে সরকারের বিনিয়োগ দেড় লাখ কোটি টাকা। অথচ এখনো ৬৩ শতাংশ লাইন ঝুঁকিপূর্ণ। ৬৫ শতাংশ রেলের ইঞ্জিন মেয়াদউত্তীর্ণ। নেই প্রযুক্তির ব্যবহার।
ট্রেনের টিকেট কালোবাজারি, ধরা পড়লো একাত্তরের ক্যামেরায়