স্লোভাকিয়ার প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকোকে হত্যার উদ্দেশে গুলির ঘটনায় নিন্দা ও শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রেস উইং থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়।
স্লোভাকিয়ার প্রেসিডেন্ট জুজানা কাপুতোভাকে উদ্দেশ করে লেখা একটি চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্লোভাক প্রজাতন্ত্রের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ওপর জঘন্য হত্যাচেষ্টার ঘটনা জানতে পেরে আমি এবং বাংলাদেশের জনগণ গভীরভাবে মর্মাহত ও শঙ্কিত।
তিনি আরও বলেন, আমি তার দ্রুত এবং সম্পূর্ণ সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করি। আমার প্রার্থনা তার পরিবারের সদস্যদের এবং স্লোভাকিয়ার জনগণের সাথে রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী যোগ করেন, এই ধরনের বুদ্ধিহীন সহিংসতা বৈশ্বিক গণতান্ত্রিক রীতিনীতি ও মূল্যবোধের ওপর আঘাত এবং আমি এর তীব্র নিন্দা জানাই। আমি আপনাকে আশ্বস্ত করছি যে, এই দুঃসময়ে আমরা স্লোভাকিয়ার পাশে আছি।
এর আগে স্থানীয় সময় বুধবার বিকেলে একটি সরকারি বৈঠকে অংশগ্রহণের পর সেখান থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় স্লোভাকিয়ার প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকো গুলিবিদ্ধ হন। পরে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে বানস্কা বাইস্ট্রিকা শহরের একটি হাসপাতালে নেয়া হয়।
স্থানীয় বার্তা সংস্থা টিএএসআর'র বরাতে রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, স্লোভাকিয়ার রাজধানী ব্রাতিস্লাভার উত্তর-পূর্বের শহর হ্যান্ডলোভায় তার পেট লক্ষ্য করে গুলি করা হয়।
এক বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাতুস সুতাজ এস্টক বলেছেন, বন্দুকধারী ফিকোকে লক্ষ্য করে পাঁচটি গুলি করেছে।
ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত হামলাকারীকে আটক করা হলেও তার পরিচয় প্রকাশ করেনি পুলিশ।
সবশেষ বৃহস্পতিবার স্লোভাক উপ-প্রধানমন্ত্রী টমাস তারাবা জানান, ফিকো এখন শঙ্কামুক্ত অবস্থায় রয়েছেন। তার সফল অস্ত্রোপচার হয়েছে। তিনি খুব দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
রাশিয়াপন্থি নেতা হিসেবে পরিচিত ফিকো গেলো সেপ্টেম্বরে নির্বাচন জিতে আবার ক্ষমতায় ফেরেন। এর আগে তিনি দুই দফায় স্লোভাকিয়ার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।
নির্বাচনের আগে ৫৯ বছর বয়সী ফিকো প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, তিনি ক্ষমতায় আসলে ইউক্রেনে আর "এক রাউন্ড গোলাবারুদও" পাঠাবেন না এবং রাশিয়ার সাথে সম্পর্ক উন্নয়নে কাজ করবেন।
এসব কারণে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই নানা রাজনৈতিক বিতর্কে জড়ান ফিকো। বিশেষ করে, গেলো জানুয়ারিতে তিনি ইউক্রেনে সামরিক সহায়তা বন্ধ করার ঘোষণা দেন। এরপর থেকেই ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও ন্যাটো সামরিক জোটের দেশগুলোর সাথে তার সম্পর্ক খারাপ হতে থাকে।
এ হামলার পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ থাকতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
শঙ্কামুক্ত অবস্থায় স্লোভাকিয়ার প্রধানমন্ত্রী
শেখ হাসিনাকে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন