বারবার কেন বন্ধ হচ্ছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার?

আপডেট : ০২ জুন ২০২৪, ০৬:৪৭ পিএম

বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য বড় একটি বাজার এশিয়ার দেশ মালয়েশিয়া। কিন্তু কেন সেখানে বার বার বাঁধা আসে? বাংলাদেশের জন্য ২০০৮ সালে বন্ধ হয় মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার, আট বছর পর তা চালু হয়েছিলো ২০১৬ সালে। এরপর দুর্নীতির অভিযোগে আবারও ২০১৮ সালে বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নেওয়া বন্ধ করে দেয় মালয়েশিয়া। ২০২১ সালের ১৮ ডিসেম্বর নতুন সমঝোতা চুক্তির মাধ্যমে সেই বাজার খুলতে সময় লেগেছিল তিন বছর। ২০২২ সালের আগস্টে দেশটিতে আবারও বাংলাদেশি কর্মী যাওয়া শুরু হয়।

মালয়েশিয়া সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১ জুন থেকে বাংলাদেশসহ বিদেশি কর্মীদের দেশটিতে প্রবেশ বন্ধ থাকবে। নতুন নিয়মে কর্মী পাঠাতে হলে আবারও সংশ্লিষ্ট দেশের সঙ্গে চুক্তি করতে হবে। নতুন এই চুক্তিতে কর্মীদের স্বার্থ রক্ষায় সব এজেন্সির জন্য কর্মী পাঠানোর সুযোগ রাখতে চায় বাংলাদেশ। আর, চুক্তির আগে কর্মী যাওয়ার সম্ভাবনা নেই কেন?

গত জানুয়ারি মাসে মালয়েশিয়ার মন্ত্রিপরিষদ ১৫টি দেশের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি আবার পর্যালোচনা করার অনুমোদন দিয়েছে। দেশটি বর্তমানে থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া, নেপাল, মিয়ানমার, লাওস, ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ, তুর্কমেনিস্তান, উজবেকিস্তান, কাজাখস্তান, ভারত ও ইন্দোনেশিয়া থেকে শ্রমিক নেয়।

২০ মে মালয়েশিয়ার স্থানীয় সময় দুপুরে শ্রমবাজার ইস্যুতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুদ্দিন নাসুশন ইসমাইল ও মানবসম্পদমন্ত্রী স্টিভেন সিম চি কিয়ং। এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইসমাইল জানান, মালয়েশিয়া সরকার আবারও বিদেশি কর্মীদের আবেদন গ্রহণ বন্ধ রাখার সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিদেশি কর্মীদের আবেদন বর্তমানে স্থগিত থাকছে। অর্থাৎ নতুন কোনও শ্রমিক সেদেশে যেতে পারবে না।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুদ্দিন নাসুশন ইসমাইলের মতে, তাদের অর্থ মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত ১৫ শতাংশ বিদেশি কর্মীর কোটা চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে পূরণ হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। তার এই বক্তব্যের মাধ্যমেও ধারণা করা যাচ্ছে, চলতি বছরে মালয়েশিয়ায় আর নতুন কর্মী যাওয়ার সম্ভাবনা নেই। গত বছরের মার্চ থেকেই বিদেশি কর্মীর কোটা অনুমোদন বন্ধ রেখেছে মালয়েশিয়া সরকার। অনুমোদিত কোটার কর্মীদের মধ্যে যারা ৩১ মে তারিখের মধ্যে মালয়েশিয়ায় পৌঁছাতে পারবেন, তারাই কেবল দেশটিতে প্রবেশ করতে পারবেন।

সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞদের মতে, মালয়েশিয়ায় সক্রিয় প্রভাবশালী সিন্ডিকেট চক্রের কারণে বিদেশি কর্মীরা প্রতারণার শিকার হয়ে আসছেন। নিয়োগকর্তা চুক্তি করেও সেই শর্ত মানেন না। সিন্ডিকেটের কারণেই দেশটির শ্রমবাজারে বারবার অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। বাংলাদেশেও তৎপর রয়েছে সিন্ডিকেট চক্র।

অভিবাসীদের নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পুনরায় চুক্তি করতে গেলে যদি শ্রমবাজার সেই সিন্ডিকেটের কাছে চলে যায়, তাহলে চুক্তি করা, আর না করা একই কথা।

জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে ২০২২ সালের আগস্টে কর্মী যাওয়া শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ৪ লাখের বেশি বাংলাদেশি সেখানে গেছেন। শুধু ২০২৩ সালেই বাংলাদেশ থেকে সাড়ে ৩ লাখের বেশি শ্রমিক নিয়োগ দিয়েছে মালয়েশিয়া। তাদের মধ্যে এখন বেকার, বেতনহীন ও কম বেতনে চাকরি করছেন—এমন কর্মীর সংখ্যা অন্তত ১ লাখ।

সরকার নির্ধারিত অভিবাসন ব্যয় ৭৮ হাজার ৯৯০ টাকা হলেও, সাড়ে চার লাখ থেকে শুরু করে পাঁচ লাখ টাকা খরচ করে মালয়েশিয়ায় গিয়ে কর্মীদের কাজ না পাওয়া এখন নিয়মিত ঘটনা। 

সম্প্রতি প্রায় একশ বাংলাদেশি কর্মী মালয়েশিয়ার পেমবিনান রিকোলার এসডিএন-বিএইচডি নামে একটি কোম্পানিতে বৈধভাবে কাজের উদ্দেশে গিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তিন মাস ধরে খাওয়া, ঘুমানোর জায়গা, এমনকি টয়লেট সংকটের মধ্যে ছিলেন তারা। বিষয়টি সামনে এলে মালয়েশিয়ার সরকার এ ধরনের ঘটনার জন্য দায়ী কোম্পানির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার ঘোষণা দেয়।

এছাড়া, ৭০০ বাংলাদেশি কর্মীকে শোষণ ও চাকরিচ্যুত করার পর ক্ষতিপূরণ দিতে ব্যর্থ হওয়া এবং শ্রম আইন লঙ্ঘন করার দায়ে দেশটির ডেপুটি পাবলিক প্রসিকিউটর ওই কোম্পানির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। 

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের দুর্দশা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন (আইওএম), ইন্টারন্যাশনাল লেবার অর্গানাইজেশন (আইএলও) এবং ইউনাইটেড নেশনস অফিস অন ড্রাগস অ্যান্ড ক্রাইম (ইউএনওডিসি)। সংস্থাগুলো জানিয়েছে, ২০২৩ সালের শুরুর দিক থেকে ক্রমবর্ধমান কর্মীদের নিয়ে রিপোর্ট রয়েছে যে মালয়েশিয়ায় ঢোকার পর থেকে তাদের চাকরি দেওয়া হয়নি।

এছাড়া বাংলাদেশি কর্মীদের এমন করুণ পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা। তারা অভিবাসী শ্রমিকদের শোষণের হাত থেকে রক্ষা করতে মালয়েশিয়াকে বিশেষ কিছু ব্যবস্থা গ্রহণেরও আহবান জানিয়েছে।

একাত্তর/এসি
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে পুনরায় চালু হচ্ছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুশৃঙ্খল নিয়োগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে এবার সরকারি সংস্থা বোয়েসেলসহ মোট ৩৩৮টি রিক্রুটিং এজেন্সিকে কর্মী...
সচিব জানান, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার চালুর প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে। তবে এই সুযোগে কোনো মধ্যস্বত্বভোগী যেন ফায়দা লুটতে না পারে, সে ব্যাপারে সকলকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
বিগত ফ্যাসিবাদী আমলের দুর্নীতি, দুঃশাসন, সিন্ডিকেট ও অনিয়মের কারণে বন্ধ থাকা শ্রমবাজারকে অগ্রাধিকার দিয়ে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত হচ্ছে। বর্তমান সরকারের ধারাবাহিক ও জোরালো কূটনীতির ফলে...
দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে খুলে গেছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। দুই দেশের ঐকমত্যের ভিত্তিতে সব খাতের শ্রমিকদের জন্য মালয়েশিয়ায় যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের...
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেছেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মূল স্তম্ভ গণমাধ্যম। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় গণমাধ্যমের সব থেকে বেশি ইতিবাচক ভূমিকা রাখার সুযোগ আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মিডিয়া যদি...
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা শেষে সরকার ও দলের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ণ রাখতেই পদ থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি চেয়েছেন বলে জানিয়েছেন সদ্য সাবেক মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য...
নিজ নির্বাচনী এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে প্রকাশ্যে ব্যক্তিগত আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন ও মহড়া দেওয়াকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট দেশব্যাপী তোলপাড় ও সমালোচনার মুখে অবশেষে পদত্যাগ করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক...
সৌদি আরবে সম্প্রতি দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়ায় কূটনৈতিক তথ্য আদান-প্রদানে মারাত্মক ঘাটতি থাকার কথা জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ঘটনাটিকে অত্যন্ত দুঃখজনক ও হতাশাজনক...
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর