কোটা আন্দোলনকারীদের এক দফা কর্মসূচি চলাকালে রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় সাংবাদিক ওপর হামলা করেছে সন্ত্রাসীরা। এসময় গণমাধ্যমের গাড়ি ও ক্যামেরা ভাঙচুরও করেছে সন্ত্রাসীরা।
রোববার কর্মসূচি চলার সময় একাত্তর টেলিভিশনের সিনিয়র রিপোর্টার হাবিব রহমানের ওপর হামলা চালায় বিক্ষোভকারীরা।
রাজধানীর রামপুরা সংলগ্ন হাতিরঝিল এলাকায় দুপুর একটার দিকে হঠাৎ করে সন্ত্রাসীরা একাত্তর টিভির গাড়ি ভাঙচুর করে। সন্ত্রাসীরা একাত্তর টেলিভিশনের সিনিয়র রিপোর্টার হাবিব রহমানকে ঘিরে ফেলে হত্যার হুমকি দেয় এবং গালিগালাজ করে। এক পর্যায়ে তারা হাবিবকে লাঠি দিয়ে আঘাত করে গুরুতরভাবে আহত করে।
কোটা আন্দোলনকারীদের কর্মসূচি চলাকালে শনিবারও রাজধানীতে বেশ কয়েকজন সাংবাদিক আহত হয়েছেন। এর আগে তাদের ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচির সময় গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর হামলা ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
এদিকে রোববার চাঁদপুরে একাত্তর টেলিভিশনের কার্যালয়ে ভাঙচুর করেছে আন্দোলনকারীরা। এসময় সন্ত্রাসীদের হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন একাত্ত টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি আল-আমিন ভূঁইয়া।
পটুয়াখালীতে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে ইটের আঘাতে গুরুতর আহত হয়েছেন একাত্তর টেলিভিশনের পটুয়াখালী প্রতিনিধি আহসানুল কবির রিপন। রোববার সকালে পটুয়াখালী শহরের চৌরাস্তা এলাকায় সংবাদ সংগ্রহকালে তিনি আহত হন।
স্থানীয় সাংবাদিকরা জানান, সকাল থেকেই ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কের পটুয়াখালী চৌরাস্তা এলাকা অবরোধ করে অসহযোগ আন্দোলন করছিলেন আন্দোলনকারীরা। এ সময় তারা পুলিশ বক্স ভাঙচুর করেন। ভাঙচুরের ছবি তুলতে গিয়ে আহসানুল কবির রিপন ইটের আঘাতে আহত হন। তাকে উদ্ধার করে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এদিকে আন্দোলনকে ঘিরে মানিকগঞ্জে দুর্বৃত্তদের হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন ইন্ডিপেন্ডেন্ট টিভির জেলা প্রতিনিধি আর এস মঞ্জুর রহমান, এটিএন বাংলার জেলা প্রতিনিধি শহিদুল ইসলাম সুজন ও স্থানীয় আমার নিউজ পত্রিকার স্টাফ করেসপন্ডেন্ট দেওয়ান সাদমান শাওন। আহত তিনজনকে উদ্ধার করে মানিকগঞ্জ জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এদিকে সিলেটে একাত্তর টেলিভিশনের প্রতিনিধি হোসাইন আহমদ সুজন ও তার ক্যামেরা পারসনের ওপর হামলা করেছে সন্ত্রাসীরা। এসময় তাদের সাথে থাকা ক্যামেরা ভাঙচুর করা হয়।
মুন্সীগঞ্জে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আন্দোলনকারীরা সুপার মার্কেট এলাকায় জড়ো হলে তাদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষ বাঁধে। ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছালে ত্রিমুখী সংঘর্ষ হয়। এসময় একাত্তর টেলিভিশনের জসীমউদ্দিন দেওয়ানসহ কয়েকজন সাংবাদিক আহত হন।
এছাড়া রাজধানীর যাত্রাবাড়ীসহ বিভিন্ন জায়গায় সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে প্রেসক্লাব এলাকায় দৈনিক আমাদের সময়ের চিফ ফটো জার্নালিস্ট মেহেরাজ এবং আজকের দৈনিকের নুর হোসেন পিপুল আহত হয়েছেন।
