গেলো বছরের জুলাই-আগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ঘিরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ তিন জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিশেষ তদন্ত কর্মকর্তা ও প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহার সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে।
বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ তার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়।
তদন্তকালে শেখ হাসিনার বেশ কয়েকটি ফোনালাপ জব্দ করেন প্রসিকিউটর তানভির জোহা। সাক্ষ্যগ্রহণের সময় তিনি সেসব ফোনালাপ বাজিয়ে শোনান। ট্রাইব্যুনালের ওয়েবসাইটসহ সব ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় তার তা সরাসরি সম্প্রচার হচ্ছে।
তানভীর ট্রাইব্যুনালকে জানান, শেখ ফজলে নূর তাপস, হাসানুল হক ইনু, মাকসুদ কামালের সাথে শেখ হাসিনার ফোন রেকর্ডগুলো সিআইডির ফরেনসিক টেস্টে আসল প্রমাণিত হয়েছে; এই কথোপকথন থেকে প্রমাণিত হয় শেখ হাসিনা গণহত্যার নির্দেশদাতা ছিলেন।
ট্রাইব্যুনালে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামসহ অন্যান্য প্রসিকিউটররা উপস্থিত আছেন। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে তাকে জেরা করবেন শেখ হাসিনা ও কামালের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন।
এ মামলায় অন্যান্য সাক্ষীর পাশাপাশি দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ট্রাইব্যুনালে তাদের জবানবন্দি দিয়েছেন। এছাড়াও জব্দ তালিকার সাক্ষী হিসেবে আরও দুজন সাক্ষ্য দিয়েছেন। তারা হলেন– আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার রেকর্ড ও লাইব্রেরি ইনচার্জ মো. কামরুল হোসাইন ও আনিসুর রহমান। তাদের জেরা করেন স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী। এছাড়াও ৪৯তম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন শহীদ মাহামুদুর রহমান সৈকতের বোন সাবরিনা আফরোজ সেবন্তী।
গত ১০ জুলাই ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায় স্বীকার করেন সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন।
ওইদিন তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালকে বলেন, ‘জুলাই-আগস্টে আন্দোলন চলাকালে আমাদের বিরুদ্ধে হত্যা-গণহত্যা সংঘটনের যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা সত্য। এ ঘটনায় আমি নিজেকে দোষী সাব্যস্ত করছি। আমি রাজসাক্ষী হয়ে জুলাই-আগস্ট আন্দোলন চলাকালে যে অপরাধ সংঘটিত হয়েছে, তার বিস্তারিত আদালতে তুলে ধরতে চাই। রহস্য উন্মোচনে আদালতকে সহায়তা করতে চাই।’
বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ অভিযোগ গঠনের সময় মামুন এসব কথা বলেন।
একইদিন এই মামলায় শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করে আদেশ দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। মামলা থেকে আসামিদের অব্যাহতির আবেদন খারিজ করে এ আদেশ দেওয়া হয়।
ভারতীয় গণমাধ্যমে মির্জা ফখরুলের বক্তব্য ভুলভাবে উপস্থাপনের অভিযোগ বিএনপির
বিএনপিকে ৪১ আর জামায়াতকে ভোট দিতে চায় ৩০ ভাগ মানুষ
নভেম্বরের মধ্যে হাসিনার বিরুদ্ধে করা ছয় মামলার রায়, আশা দুদক চেয়ারম্যানের