যে সংসদে ফিরিয়েছিলেন প্রাণ, সেখানেই ফিরলেন নিথর দেহে

আপডেট : ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১২:৩৩ পিএম

শীতের কুয়াশাভেজা সকালে চারদিকে পিনপতন নীরবতা, শুধু মানুষের ডুকরে কেঁদে ওঠার শব্দ। রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ আর জাতীয় সংসদ ভবনের আঙিনা আজ আর কোনো রাজনৈতিক স্লোগানে মুখর নয়; বরং এক গভীর শূন্যতায় আচ্ছন্ন। আর মানুষের মুখে শোক আর নিস্তব্ধতার ছায়া। 

যে সংসদীয় শাসনব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের জন্য তিনি রাজপথ কাঁপিয়েছিলেন, দীর্ঘ লড়াই শেষে ১৯৯১ সালে দেশের শাসনভার সংসদীয় পদ্ধতিতে ফিরিয়ে এনেছিলেন- আজ সেই সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজাতেই তিনি ফিরলেন, তবে একেবারেই অন্যভাবে। পতাকায় মোড়ানো এক হিমশীতল ফ্রিজার ভ্যানে, নিথর দেহে।

নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে আপসহীন নেতৃত্ব দিয়ে যে গণতন্ত্রের ভিত্তি তিনি গড়েছিলেন, আজ সেই গণতন্ত্রের কেন্দ্রবিন্দু সংসদ ভবনেই তাঁর শেষ বিদায়ের সুর বাজছে। ইতিহাসের এক নির্মম অথচ মহিমান্বিত পরিহাস যেন এটি! 

১৯৯১ সালে দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এই সংসদ ভবনেই তিনি শপথ নিয়েছিলেন সংসদীয় গণতন্ত্রের পতাকা ওড়াতে। আজ কয়েক দশক পর, সেই পতাকাতলে শেষবারের মতো চিরবিদায় নিতে এলেন তিনি। সংসদ ভবনের পাথুরে দেয়ালগুলো যেন আজ সাক্ষী হয়ে আছে এক মহীয়সী নারীর উত্থান, সংগ্রাম এবং এই বিষাদময় প্রস্থানের।

সকাল থেকেই মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এসেছে তাঁদের প্রিয় নেত্রীকে একনজর দেখতে। কেউ পায়ে হেঁটে, কেউ মেট্রোরেলে, কেউবা শেষ সম্বলটুকু খরচ করে ঢাকায় এসেছেন শুধুমাত্র জানাজায় শরিক হতে। 

চট্টগ্রামের এক প্রবীণ কর্মীর ভাষ্য, এই সংসদ ভবন আমাদের নেত্রীর ত্যাগের ফসল। আজ তিনি এখানে ফিরলেন, কিন্তু আমাদের আর কিছু বলার সুযোগ দিলেন না।

সেনাবাহিনীর তৈরি হিউম্যান চেইনের ভেতর দিয়ে যখন তাঁর মরদেহবাহী গাড়িটি ধীরে ধীরে এগোচ্ছিল, তখন দুই ধারের মানুষের চোখে ছিল বাঁধভাঙা পানি। জাতীয় পতাকায় মোড়ানো কফিনটি মনে করিয়ে দিচ্ছিল, তিনি শুধু একটি দলের নেত্রী ছিলেন না, ছিলেন এই রাষ্ট্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

বাদ জোহর বায়তুল মোকাররমের খতিবের ইমামতিতে জানাজা শেষ করে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হবে চন্দ্রিমা উদ্যানে। যেখানে তাঁর স্বামী, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান চিরনিদ্রায় শায়িত। যে মানুষটি আজীবন গণতন্ত্রের জন্য আপস করেননি, যিনি কারাবরণ করেছেন কিন্তু মাথা নত করেননি, আজ তিনি ফিরে যাচ্ছেন তাঁর জীবনসঙ্গীর পাশেই।

সংসদ ভবন এলাকা শুধু ইট-পাথরের স্থাপত্য নয়, বরং এক শোকাতুর ইতিহাসের সাক্ষী। তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক আর সাধারণ ছুটির আবহে স্তব্ধ পুরো বাংলাদেশ। যে সংসদীয় ব্যবস্থা তিনি পুনঃপ্রবর্তন করেছিলেন, সেই ব্যবস্থার ধারক হয়ে সংসদ ভবনের স্মৃতি মেখেই বিদায় নিচ্ছেন বেগম খালেদা জিয়া। বাংলাদেশের ইতিহাসে তিনি অমর হয়ে থাকবেন সংসদীয় গণতন্ত্রের এক অনন্য কারিগর হিসেবে।

এআরএস
ফ্যাসিবাদ বিরোধী যুগপৎ আন্দোলনে শরিক নেতাদের সঙ্গে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবনে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই যেখানে রাষ্ট্র এবং সরকার হবে জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক,অর্থনীতি হবে অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং সর্বোপরি নাগরিকের জীবন হবে নিরাপদ মর্যাদাপূর্ণ এবং সম্ভাবনাময়।
কাতারের সাবেক আমির, আধুনিক কাতারের স্থপতি এবং বর্তমান আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির পিতা শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির মৃত্যুতে জাতীয় সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে শোক প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ বলেছেন, নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের জন্য এলাকা নির্ধারিত থাকলেও সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্যদের জন্য এলাকা নির্ধারিত নেই।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দীর্ঘদিন ধরে রাজপথে ফ্যাসিবাদ বিরোধী যুগপৎ আন্দোলনে শরিক নেতাদের উদ্দেশ্য বলেছেন, আমরা অতীতে একসাথে ছিলাম, আছি এবং একসাথেই থাকবো।
স্বাক্ষরিত জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে পালন করবে বিএনপি সরকার। যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের এমনটিই জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে স্পেনের মহাকাব্যিক জয় শুধু একটি ঐতিহাসিক ট্রফি অর্জন আর রূপকথার গল্প নয়, এটি ছিল ফুটবলের এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজংশে ব্যাটন হস্তান্তরের স্মারক। ফুটবল...
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের রোমাঞ্চকর ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে ইনজুরি টাইমে ফেরান তোরেসের অবিশ্বাস্য গোল স্প্যানিশ ফুটবলে নতুন ইতিহাস লিখেছে। ২০১০ সালে আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার সেই ঐতিহাসিক জয়ের পর দেশকে...
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর