সারাদেশে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ এবং যাতায়াত ব্যবস্থা আধুনিক করতে ঢাকা-সিলেট ট্রেন লাইনকে ডাবল লাইনে উন্নীত করার বড়ো ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার (২ মে) সিলেট সিটি করপোরেশন প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক সুধী সমাবেশে তিনি এই প্রতিশ্রুতি দেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই তার প্রথম সিলেট সফর।
শুধু রাস্তা বানালেই সমস্যার সমাধান হবে না, রেল ব্যবস্থার উন্নতি করতে হবে। -প্রধানমন্ত্রী
সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী তার সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে বলেন, শুধু রাস্তা বানালেই সমস্যার সমাধান হবে না, রেল ব্যবস্থার উন্নতি করতে হবে। যাতায়াতে কম খরচ এবং পণ্য পরিবহনের কথা চিন্তা করেই সারাদেশে রেল নেটওয়ার্ক বৃদ্ধির এই পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
সিলেটের ২৫০ বেডের হাসপাতাল দ্রুত চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে এবং ভবিষ্যতে একে ১২০০ বেডে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। -প্রধানমন্ত্রী
অসুস্থ মানুষের সংখ্যা কমিয়ে আনতে সরকার দেশব্যাপী এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। এই নিয়োগের বিশেষ দিকগুলো হলো- নিয়োগপ্রাপ্তদের ৮০ শতাংশই হবেন নারী, স্বাস্থ্যকর্মীরা গ্রামে গ্রামে গিয়ে মানুষকে চিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি সচেতনতামূলক কাজ করবেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সিলেটের ২৫০ বেডের হাসপাতাল দ্রুত চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে এবং ভবিষ্যতে একে ১২০০ বেডে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকার গঠনের আগে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক নিয়ে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ইতিমধ্যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে কাজ শুরু হবে। এছাড়া সারাদেশে রেল যোগাযোগ প্রসারে সরকার বদ্ধপরিকর।
জলাবদ্ধতা নিরসন এবং ভূগর্ভস্থ পানির স্তরের কথা বিবেচনায় নিয়ে সরকার খাল খননের কাজ শুরু করেছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, অতিরিক্ত পানি ধরে রেখে যেন প্রয়োজনে ব্যবহার করা যায় সেই ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তবে মানুষকেও সচেতন হতে হবে, ময়লা পানিতে ফেলা যাবে না। সিটি করপোরেশনগুলোকে বিশেষ করে স্কুলগুলোতে গিয়ে শিশুদের সচেতন করার আহবান জানান তিনি।
আড়াই মাস বয়সী শিশু হাঁটতে পারে না, তবে আড়াই মাস বয়সী এই সরকার এরই মধ্যে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে। -প্রধানমন্ত্রী
দেশের বন্ধ কলকারখানাগুলো পুনরায় চালু করার ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রয়োজনে এগুলো ব্যক্তিখাতে ছেড়ে দেওয়া হবে। কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষে সরকার বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, আড়াই মাস বয়সী শিশু হাঁটতে পারে না, তবে আড়াই মাস বয়সী এই সরকার এরই মধ্যে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে।
শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি বিমানে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। সিলেটে পৌঁছেই তিনি হযরত শাহজালাল (র.)-এর মাজার জিয়ারত করেন। বৃষ্টির মধ্যেই তিনি শহরের চাঁদনী ঘাটে জলাবদ্ধতা নিরসনে একটি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
সুধী সমাবেশে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীসহ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
