বাংলাদেশ ও ইতালির মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে রোববার এক গুরুত্বপূর্ণ সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে তাঁর তেজগাঁও কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করেন ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো।
বৈঠকে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, প্রযুক্তির আদান-প্রদান এবং সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।
বৈঠকে ইতালির রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির প্রশংসা করেন এবং বাংলাদেশ থেকে উচ্চমানের তৈরি পোশাক, খাদ্যপণ্য এবং চামড়াজাত পণ্য আমদানিতে বিশেষ আগ্রহ প্রকাশ করেন। দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বাড়াতে নতুন নতুন খাত খুঁজে বের করার ওপর উভয়পক্ষ গুরুত্বারোপ করেন।

অন্যদিকে, ইতালির পক্ষ থেকে বাংলাদেশের শিল্পখাতের আধুনিকায়নের প্রস্তাব দেওয়া হয়। রাষ্ট্রদূত জানান, ইতালি থেকে আধুনিক প্রযুক্তি এবং উন্নত শিল্প-যন্ত্রপাতি আমদানির মাধ্যমে বাংলাদেশের শিল্প উৎপাদন আরও শক্তিশালী হতে পারে। এটি বাংলাদেশের ‘ভিশন ২০৪১’ অর্জনে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বৈঠকের অন্যতম আকর্ষণীয় বিষয় ছিল ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক বিনিময়। দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ আরও গভীর করতে বাংলাদেশে ইতালির খ্যাতনামা ফুটবল ক্লাবগুলোকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
আলোচনা অনুযায়ী, অদূর ভবিষ্যতে ইতালির পেশাদার ক্লাবগুলো বাংলাদেশে সফর করতে পারে এবং প্রীতি ম্যাচে অংশ নিতে পারে। এই উদ্যোগ বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা সৃষ্টি করবে এবং দুই দেশের সাংস্কৃতিক সম্পর্ককে নতুন মাত্রা দেবে।

নিরাপদ ও নিয়মিত অভিবাসন নিশ্চিত করতে দুই দেশের চলমান সহযোগিতাকে আরও বিস্তৃত করার বিষয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়। নিয়মিত ও বৈধ পথে দক্ষ জনশক্তি ইতালিতে পাঠানোর প্রক্রিয়া সহজতর করার বিষয়ে উভয় পক্ষ ঐকমত্য পোষণ করেন।
বৈঠক শেষে বাণিজ্য, সামরিক সহযোগিতা, সংস্কৃতি, ক্রীড়া ও অভিবাসনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পারস্পরিক অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করার আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়। বৈঠকে ইতালির দূতাবাসের উপ-প্রধান ফেদেরিকো জাম্পারেলি এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকটি বাংলাদেশ ও ইতালির দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক সম্পর্কে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করলো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কূটনীতিকরা।
